মাধুরী উত্তর দেয়,তার কিছুই প্রয়োজন নেই৷ সে যে এই প্রাসাদে থাকতে পারছে এটাই তার জন্য অনেক৷
এই বলে মাধুরী নিজের কক্ষে চলে যায়৷ কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে সে স্নানে চলে যায়৷ স্নান ছেড়ে এসে সে টকটকে লাল জামদানী শাড়ি পড়ে৷ তার চোখের কাজল এখন ও মুছেনি৷ একটু ও এদিক সেদিক হয়নি৷ লাল শাড়ির সাথে মানানসই করে কপালে এক লালটিপ দিয়েছে৷ নাকে পাথরের ছোট একটি টপ পড়েছে৷ আবারো সে ডায়েরি লিখতে বসে গেছে৷
তারিখ: ১৮৯৭ সালের ১৫ই জানুয়ারি
আমার প্রিয় জমিদার বাবু,
আপনি কি জানেন আমি আজ কি খুশি হয়েছি৷ কেনো জানেন কি??৷ জানেন না কিভাবে জানবেন আমিতো আপনাকে বলিনি৷ আজ আমি আপনার কথায় স্বস্তি পেয়েছি৷ আমার মনের কষ্টগুলো যেনো নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো৷ কি এমন জাদু করেছেন আপনি৷ দিন যতই বাড়ছে আমার মন ততই অশান্ত হচ্ছে।.....
জমিদার মাধুরীর কক্ষে সামনে এসে উপস্থিত হয়৷ দরজায় কড়া নাড়তে মাধুরী বলে,আপনার কড়া নাড়তে হবে না৷ আপনার যখন ভালো লাগে,যখন মন চাইবে আপনি আমার কাছে আসতে পারেন৷
জমিদার বলল, তুমি মেয়ে মানুষ৷ তোমার গোপনীয়তা বলতে কিছু একটাতো আছে তাই না৷ আমি যদি তোমার ক্ষতি করি তখন কি হবে তোমার?৷
আমার কিছুই হবে না৷ আর আমি আপনাকে বিশ্বাস করি৷ আপনি এমন কিছু করবেন বলে আমার মনে হয় না৷ তো বলুন জমিদার বাবু কি মনে করে এলেন আপনি আমার কাছে৷
জমিদার বুকে পাথর নিয়ে বলল,তোমার সাথে আমার অনেক কথা আছে৷ কাল তুমি এসো আমার কাছে৷
আজতো রাত হয়েছে অনেক৷ তুমি শুয়ে পড়৷ আর শুনো,"তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে" মাধুরী৷
জমিদার মাধুরীর অতিনিকটে এসে দাঁড়ায়৷ মাধুরীর শরীর কাঁপছে৷ নিশ্বাস এতো জোরে ফেলছে তা জমিদার খুব ভালোভাবেই দেখতে পাচ্ছে৷ হৃদস্পন্দন ঝড়ের গতিতে বেড়ে চলছে৷
জমিদার মাধুরীর আরো কাছে এসে দাঁড়ায় এবং তার পিঠে চুমু খায়৷
মাধুরী বাঁধা দিলো না৷ সে যে খুব কাছে পেতে চায় জমিদারকে৷ তার সাথে যে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে৷ জমিদারকে নিয়ে কতো স্বপ্ন সে সাঁজিয়ে রেখেছে৷
জমিদার বলে,রাত এখন অনেক গভীর৷ তুমি ঘুমিয়ে পড়৷ আমি গেলাম৷ কেউ এসে দরজায় কড়া নাড়লে খুলবে না৷ কাল সকালে কথা হবে তোমার সাথে৷
আজ আসি দরজা লাগিয়ে দাও৷ আর নিজের খেয়াল রেখো৷ মাধুরী চেঁচিয়ে বলে আপনি ও নিজের খেয়াল রাখবেন৷
মাধুরী দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়ে৷ জমিদারের ছোঁয়া পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছে সে৷ তার কাছে স্বর্গীয় সুখ মনে হচ্ছে৷ ইসস, সে ভাবছে আর লজ্জা পাচ্ছে৷ ভাবতে ভাবতে কখন সে ঘুমায় সে টের পেলো না আর৷
জানালা দিয়ে সূর্যের আলো দেখা যাচ্ছে৷ সূর্যের আলো এসে মাধুরী দেবীর চোখে পরে৷ এরপর তার ঘুম ভেঙে যায়৷
প্রাসাদের নিচে অনেক শব্দ শোনা যাচ্ছে৷ মাধুরী উঠে বেলকনির দিকে দৌড়ে যায়৷ নিচে দেখা যাচ্ছে নতুন নর্তকীর আগমন ঘটেছে৷৷ দাস-দাসী সহ তাকে আপ্যায়ন করে প্রাসাদে নিয়ে আসা হচ্ছে৷
মাধুরী দেবী মনে মনে বলছে, কে জানে মেয়েটার কপালে কি আছে৷ এই মেয়েটি হয়তো জানে না, এই প্রাসাদে মানুষদের তাকে ভোগ করা হয়ে গেলে তার সাথে কি হতে পারে৷ এর পরিহাস যে নির্মম ভয়াবহ হবে৷
মাধুরী দেবী হাত মুখ ধুঁয়ে পরিপাটি হয়ে এসেছে৷ জমিদার কাল দেখা করতে বলেছিলো৷ তাই সে যাচ্ছে জমিদার এর সাথে দেখা করতে৷ জমিদার এর কাছে গেলে সে জানতে পারে জমিদার কয়েকদিন এর জন্য প্রাসাদের বাহিরে যাবে৷ জমিদার বলে,আমি যতদিন না পর্যন্ত ফিরবো তুমি যেই ঘরে এখন আছো সেই ঘরে থাকবে না৷
প্রাসাদের পশ্চিমপ্রান্তে যেই কাঠের দরজাটি রয়েছে তার ব্যাপারে কেউ জানে না৷
এখন তুমি আমার সাথে আসো৷ দরজা খোলার সাথে সাথে মাধুরী দেবী খুব সুন্দর একটি ঘর দেখতে পায়৷ তারা দুজন ঘরে প্রবেশ করে৷ ঘরটা অনেক সাজানো,গোছানো৷ অনেক আসবাবপত্রে ভরপুর৷ মাধুরী দেবীর যা যা প্রয়োজন সবকিছু সেই ঘরে ছিলো৷ মাধুরী দেবী জমিদার এর কাছে অনুমতই নিয়ে সে নিজ কক্ষ থেকে জামা কাপড়ের নিচে লুকিয়ে ডায়েরিটি নিয়ে আসে৷
জমিদার বলে যায় আমার ফিরতে ফিরতে নয়দিন লেগে যাবে৷ ততোদিন তুমি এদিকেই থাকবে৷ এদিক থেকে কোথাও যাবে না৷ মাধুরী জ্বি বলে মাথা নেড়ে সম্মতি জানায় এবং জমিদারকে বিদায় জানায়৷
চলবে!
নর্তকীর মহল (পর্ব ০৫)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
309
Views
8
Likes
4
Comments
5.0
Rating