অধ্যায় ২: শহরের আলো পলাশ রাতুলের বন্ধুত্ব

পলাশ
পলাশ
লেখক
অধ্যায় ২: শহরের আলো

পলাশ যখন ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম পা রাখল, তার মনে একটা অদ্ভুত উত্তেজনা আর আশঙ্কা মিশে ছিল। ক্যাম্পাসের বিশাল মাঠ, উঁচু ভবন আর চারিদিকের কোলাহল তাকে মুগ্ধ করছিল। এই নতুন পরিবেশে সে নিজেকে একটু হারিয়ে ফেললেও, সে জানত, এখানেই তার স্বপ্ন পূরণের পথে প্রথম ধাপ।

প্রথম দিনের ক্লাসে পলাশ অনেক নতুন বন্ধুর সাথে পরিচিত হলো। তাদের মধ্যে একজন ছিল আরিফ। আরিফ ছিল খুবই বন্ধুবৎসল আর সাহায্যপ্রবণ। সে পলাশকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দিক দেখাল, তাকে পরিচিত করাল বিভিন্ন প্রফেসরদের সাথে। ধীরে ধীরে পলাশ ক্যাম্পাসের সাথে মানিয়ে নিতে শুরু করল।

পাশাপাশি রাতুল তার গ্রামের দোকানে পরিশ্রম করে যাচ্ছিল। সে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করত। তার বাবার কাছ থেকে ব্যবসার খুঁটিনাটি শিখে সে নিজের ব্যবসায় নতুন কিছু যোগ করার পরিকল্পনা করছিল। পলাশের থেকে দূরে থাকলেও, রাতুল তার খোঁজ-খবর নিত ফোনে।

একদিন পলাশ ক্লাস শেষ করে লাইব্রেরিতে বসেছিল। তার সামনে একগাদা বই। সে গভীর মনোযোগে পড়ছিল, হঠাৎ তার ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনে রাতুলের নাম দেখে পলাশের মুখে হাসি ফুটল।

"কী রে, কেমন আছিস?" রাতুল জিজ্ঞাসা করল।

"ভাল আছি। তুই কেমন আছিস? দোকানের কী খবর?" পলাশ উত্তরে বলল।

"দোকানের ব্যবসা বেশ ভাল চলছে। নতুন কিছু প্রোডাক্ট এনেছি, সেগুলো ভালোই বিক্রি হচ্ছে। তুই কী করছিস?" রাতুল জানতে চাইল।

"আমি লাইব্রেরিতে বসে পড়ছি। আগামী সপ্তাহে একটা বড় পরীক্ষা আছে," পলাশ বলল।

"ভাল করছিস। তুই অবশ্যই ভাল ফলাফল করবি। মনে রাখিস, তোর স্বপ্ন পূরণ করতে হলে পরিশ্রম করতে হবে," রাতুল উৎসাহ দিল।

পলাশ হাসল। "ধন্যবাদ রে, তুই সবসময় আমার পাশে থাকিস।"

এইভাবেই দিন চলতে লাগল। পলাশ পড়াশোনায় মনোনিবেশ করল আর রাতুল তার ব্যবসায়। পলাশের সাফল্য ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে লাগল। সে তার ক্লাসে ভাল ফলাফল করতে লাগল। প্রফেসররাও তার মেধা আর অধ্যবসায়ের প্রশংসা করতে লাগলেন।

অন্যদিকে, রাতুলের ব্যবসাও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে লাগল। সে তার দোকানকে একটি সুপারমার্কেটে রূপান্তরিত করল। গ্রামের মানুষজন তার দোকানে আসতে শুরু করল। রাতুলের ব্যবসার খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল।

একদিন পলাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে বসে চা খাচ্ছিল। তার ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনে অপরিচিত নাম দেখে সে ফোন ধরল।

"হ্যালো, আমি পলাশ। আপনি কে?" পলাশ জিজ্ঞাসা করল।

"আমি মীরা। আমরা একই ক্লাসে পড়ি," মীরা বলল।

পলাশ কিছুটা বিস্মিত হল। "হ্যাঁ, বলুন কীভাবে সাহায্য করতে পারি?"

"আমার কিছু পড়াশোনার ব্যাপারে সাহায্য দরকার। আপনি কি সময় করে আমার সাথে দেখা করতে পারবেন?" মীরা বিনীতভাবে জিজ্ঞাসা করল।

পলাশ রাজি হল। পরবর্তী দিনে তারা ক্যাম্পাসের লাইব্রেরিতে দেখা করল। মীরা খুবই মেধাবী মেয়ে ছিল, কিন্তু কিছু কিছু বিষয়ে সে সমস্যায় পড়েছিল। পলাশ তাকে সাহায্য করতে লাগল, এবং ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠল।

পলাশ আর মীরার বন্ধুত্ব দিন দিন গভীর হতে লাগল। তারা একসাথে পড়াশোনা করত, একসাথে ক্যাম্পাসে ঘুরত, আর একে অপরকে বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য করত। পলাশের জীবনে মীরার উপস্থিতি তাকে আরও অনুপ্রাণিত করল।

এদিকে রাতুলও তার ব্যবসার প্রসার করতে ব্যস্ত ছিল। পলাশের সাথে তার যোগাযোগ কিছুটা কমে গিয়েছিল, কিন্তু তাদের বন্ধুত্বের বন্ধন ছিল অটুট।

কিন্তু তাদের জীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ আর পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। কীভাবে তারা এই সব চ্যালেঞ্জ পার করবে? কীভাবে তাদের স্বপ্ন পূরণ হবে? জানতে হলে পরবর্তী অধ্যায় পড়তে হবে।
52 Views
3 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this:
(2)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই