আর্য সেই প্রাচীন ঘরে প্রবেশ করে৷ প্রাচীন ঘরটির দেয়ালে খোদাই করা চিহ্নগুলো এবং বিভিন্ন প্রতীক থেকে বোঝা যায় যে, এই ঘরটি এক সময় যাদুকরী চর্চার কেন্দ্র ছিল। মাধুরী দেবী এবং রাজা,জমিদাররা এখানে যাদুকরী চর্চা করতেন এবং এর মাধ্যমে তাঁদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেন।আর্য বুঝতে পারে, এই ঘরের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার রহস্য, যা শতাব্দী ধরে অপ্রকাশিত ছিল। তার সামনে থাকা সমস্ত তথ্য একত্র করে, সে বুঝতে পারে, মাধুরী দেবীর ক্ষমতার রহস্য উদ্ঘাটন করলে আরও অনেক অজানা তথ্য বের হয়ে আসবে৷ তাই সে মাধুরী দেবীর ডায়েরিটা নিজের কাছে রাখে৷ এবং প্রাসাদের কিছু ইতিহাস সে জানতে পারে সেখানে সে দেখতে পেয়েছে অনেক যুদ্ধ করার পর এই প্রাসাদ জয় লাভ করতে পেরেছে৷ এইসব ইতিহাস নিয়ে আর্য আর মাথা ঘামালো না৷ সে পুরো ঘরটাকে নিঁখুত ভাবে দেখছে৷ একটু সামনে যেয়ে সে দেখতে পায় ভেতরে আরেকটি দরজা৷
আরে এটা আবার কিসের দরজা৷ এই মহলে দরজার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই৷
পুরো ঘর তন্নতন্ন করে খুঁজে কিন্তু পায় না৷ সে কাঠের আলমিরার দিকে যায়৷ সেখানে পুরো আলমিরা ভর্তি জামাকাপড়৷ সেখান থেকে সেই মিষ্টি ঘ্রান আসছিলো যেটা সে এর আগে ও পেয়েছিলো৷ আপাতত সে চাবি খোঁজে ব্যাস্ত৷ আলমিরার উপরের এক তাকে সে ছোট্ট একটি কাঠের বাক্স লক্ষ্য করে৷ সেটা বের করে হাতে নেয়৷ সে বাক্সের মধ্যে ছিলো অনেকগুলো চাবি৷
সে সব চাবি দিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা চালিয়ে যায়৷ কিন্ত সে ব্যার্থ হয়৷
আর একটা চাবি আছে এটা দিয়ে যদি এখন না খুলে তাহলে এদিকে থেকে চলেই যাবো৷ শেষবারেরমতো চেষ্টা করি৷
কিছুক্ষণ পর আর্য দরজা খুলতে সফল হয়৷ নিচে এক সিঁড়ি৷ ঘুটঘুটে অন্ধকারের জন্য কিছু দেখা যাচ্ছে না৷ আর্য আস্তে আস্তে নিচে নামতে থাকে সেই সিঁড়ি দিয়ে৷
নর্তকীর মহলে আর্য যখন তার তদন্ত শুরু করে, তখন সে মৃত্যুর সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায়। এই সিঁড়ি দিয়েই এক নর্তকী, রূপা, একসময় পড়ে মারা গিয়েছিলো। সেই ঘটনার পর থেকে সিঁড়িটি রহস্যময়তা ও ভয়ানক ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে৷ আর্য তার তদন্তে জানতে পারে যে রূপা একটি গুপ্ত সংগঠনের সদস্য ছিলো, যারা মহলের অন্দরমহলে গোপন জিনিস লুকিয়ে রাখত। সেই সংগঠন সম্পর্কে আরো খোঁজ নিতে গিয়ে সে দেখে, সিঁড়ির নীচের দেয়ালে কিছু গোপন সংকেত খোদাই করা আছে।আর্য সংকেতগুলি বিশ্লেষণ করে এবং একটি গোপন কক্ষের সন্ধান পায়, যেখানে বহু পুরনো নথি ও কাগজপত্র রাখা আছে। সেখানে সে মাধুরী দেবীর সম্পর্কে আরো কিছু ভীতিকর তথ্য পায়৷
উপর থেকে কৌশিক অনেক জোরে জোরে ডাকছে৷ তাই সে আর সামনে পা না বাড়িয়ে চলে যায়৷ আর সাথে করে মাধুরী দেবীর ডায়েরি ও নিয়ে যায়৷
কি হয়েছে এতো জোরে ডাকছিলি কেনো৷
কৌশিক বলে, কোথায় ছিলে?৷ আমিতো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম তোমাকে না দেখে৷
আর্য বলে,আমি কাজে ব্যস্ত ছিলাম৷তুই না ঘুমোতে গেলি, উঠলি কখন?৷
ঘুমোতে আর পারলাম কই একা একা ভয় লাগছিলো৷ আর রাত ও অনেক হয়েছে৷ তো আর্য দাদা তোমার হাতে এটা কি৷ বইয়ের মতো দেখাচ্ছে মনে হচ্ছে৷
আর্য আমতাআমতা করে বলে হ্যা ঐ আমার ইতিহাস এর একটা বই৷
আসলে সেটা ছিলো মাধুরী দেবীর ডায়েরি৷
চল কৌশিক ঘুমোতে যাই৷ আমি ক্লান্ত,আমার হাত পা চলছে না৷ তুই তোর শোবার ঘরে চলে যা৷ আমি ও যাই৷ এই বলে চলে যায় আর্য৷ ঘরের ভেতর গিয়ে সে সোফার উপর বসে ডায়েরিটা খুলছে পড়ার জন্য৷ প্রথমে তার চোখে পড়ে সুন্দর নকশা যা হয়তো কলম দিয়ে করা হয়েছিলো৷ এরপর এক এক করে সে পৃষ্ঠা ওল্টাতে থাকে৷
ডায়েরি পড়তে গিয়ে আর্য জানতে পারে যে, মাধুরী দেবী ছিলেন এক অসাধারণ নর্তকী, যিনি শুধু নৃত্যকলা নয়, বরং রহস্যময় যাদুকরী বিদ্যাতে ও পারদর্শী ছিলেন। তাঁর ডায়েরিতে নানা যাদুকরী মন্ত্র এবং প্রাচীন রহস্য লুকিয়ে আছে। এই মন্ত্রগুলো বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতো - যেমন, কোনো ব্যক্তির মনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা, এবং রোগ নিরাময়।প্রাচীন শিল্পকর্ম ও রত্ন:এই ঘরে সংরক্ষিত রয়েছে কিছু অমূল্য শিল্পকর্ম ও রত্ন, যা প্রাচীন সভ্যতার অমূল্য নিদর্শন হিসেবে গণ্য হয়। এই শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি, যেগুলোতে বিশেষ যাদুকরী ক্ষমতা রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়।
চলবে!
নর্তকীর মহল (পর্ব ০৩)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
306
Views
6
Likes
2
Comments
5.0
Rating