নাকে হাত দিতেই দেখি তার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলো।।আমার খুব ভয় লাগা শুরু হলো। এমন সময় আলজার আওয়াজ আসলো কাকি আর নেই।আমি আরো ভয় পাই আর তারাতাড়ি করে জামা কাপড় পরে নেই। আর তখনই আব্দুল্লাহ বলে উঠে জামা কাপড় পরে আর লাভ নেই কারন সারফারাজ ভাইয়া এখনই আসছে তোকে ধর্ষন করতে। আমি এই কথা শুনে কাকির লাশ সেখানে রেখেই দৌড়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাই একটা নিরাপদ আশ্রয় এর জন্য। আমি দৌড়াতে দৌড়াতে যখন অনেক দূর পরযন্ত যাই তখনই একজনের সাথে ধাক্কা খাই।মাথা তুলে দেখি সে আর কেউ না সারফারাজ। আমি তাকে দেখে ভয়ে আমার হাত পা কাপাকাপি শুরু হয়ে যায়।
-কি হলো মায়া? আপনি আমাকে দেখে এরকম ভয় পাচ্ছেন কেন?
-প্লিজ আমাকে কিছু করবেন না। আমি আর আপনার জীবন এ আসবো না। আপনি যা চান এখন সব পাবেন কিন্তু দয়া করে আর আমাকে ক্ষতি করবেন না।
-আপনি এসব কি বলছেন? আপনার কি মাথা ঠিক আছে? আমি আপনাকে ভালবাসি আমি আপনার ক্ষতি কেন করবো?
-আপনার মুখে এসব ভালবাসার কথা মানায় না।আমি সব শুনেছি আপনার আর আব্দুল্লাহ এর কথা।
-মানে আব্দুল্লাহ এর কথা মানে? আব্দুল্লাহ কে আপনি কোথায় পেলেন?
-ওহ এখন সব ভুলে গেছেন? আপনি প্রথমে আব্দুল্লাহ কে পাঠাইছেন আমার সাহায্য করার বাহানায় তারপর ওরে দিয়েই আমাকে ধর্ষন করার চেষ্টা। আর এখন নাটক করেন?
-আব্দুল্লাহ কে আপনি কই পেলেন আমাকে দয়া করে বলেন ওর নামে বিচার আছে অনেক।
আমি এরই মাঝে কিছু বলব তার আগেই অজ্ঞান হয়ে যাই। আমার যখন জ্ঞান ফিরে নিজেকে একটা রুমে দেখতে পাই আর পাশে দেখি সারফারাজ বসে আমার মাথায় পানি দিচ্ছে। আমি তাকে দেখে তারাতাড়ি করে উঠে বসব তার আগেই ও আমাকে চেপে ধরে। এমন সময় সে বলে,,,
-আপনি যা বলবেন শুয়ে থেকেই বলেন।আপনার অনেক জ্বর এসেছে।
-আমার যা ইচ্ছে হোক তো আপনার কি? আপনার সাথে থাকতেও আমার ভয় হচ্ছে। আচ্ছা ওয়েট আমি কতক্ষন ধরে অজ্ঞান ছিলাম?
-প্রায় ৩ ঘ্ন্টা।
-কিহ? তার মানে নিশ্চয়ই এবার আপনিও আপনার কাজ সেরে ফেলেছেন।
-মানে কোন কাজের কথা বলছেন?
-যেই কাজের কথা আপনি আব্দুল্লাহ এর সাথে আলোচনা করছিলেন।
এই কথা শুনার সাথে সাথেই সে এমন জুড়ে ধমক দে পুরো বাড়ি কেপে উঠে। তার চোখ এতো লাল যেনো রক্ত পরবে। এই প্রথম আমি সারফারাজের এতো ভয়ানক রুপ দেখলাম। আমি আর কিছু বললাম না। কিছুক্ষণ পর যখন তার মাথা ঠান্ডা হয় সে বলে,,
-আমি সেই জায়গায় ছিলাম না। আর আমি আপনাকে ওয়াদা করছি যে আপনার ক্ষতি করছে আমি তাকে উচিত শিক্ষা না দেয়ার আগ পরযন্ত শান্ত হব না। এবার রক্তের বন্যা যদি হয় হবে। আপনি দয়া করে শুয়ে থাকুন আপনার অনেক জ্বর আসছে।
এই বলে সে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দে আর আমি ঘুমিয়ে যাই। যখন আমি ঘুম থেকে উঠি দেখি সারফারাজ আমার হাত ধরে বসেই ঘুমিয়ে আছে।
আমি না চাইতেও সারফারাজের মাথায় হাত বুলিয়ে দেই কারন তাকে একদিন হলেও অনেক ভালবাসি।
তাহলে কি সে সারফারাজ ছিলো না? তার কথাতেও তাই মনে হচ্ছে। তাছাড়া আমি তাকে যতটা ছিনি সে ওইরকম ছেলে না? তাহলে ওয়টা কে ছিলো?
ওয়েট, আলজা এর আগেও অনেকের রুপ নিয়ে আসছিলো। তার মানে কি সেটা আলজা ছিলো?
এমন সময় সারফারাজ ঘুম থেকে উঠে। সে উঠেই বলে
-দুঃখীত আপনার হাত ধরার জন্য।
-সমস্যা নেই। আচ্ছা আপনি সত্যিই করে একটা কথার উত্তর দিবেন?
-কি?
-সেটা কি আসলেই আপনি ছিলেন না?
-নাহ। আমি ছিলাম না?
-আমার বিশ্বাস হচ্ছে না।
তখনি সে তার পকেট থেকে রুমালটা বের করে যেখানে আল্লাহর নাম লেখা আর সেটা ধরে কসম করে বলতে লাগলো সে ছিলো না।
-তাহলে সে কে ছিলো?
-এটা জানার জন্য আপনাকে আবারও ৩ মাস আগে যেতে হবে যখন আমি আলজাকে নিয়ে এখান থেকে চলে যাই।।।।
চলবে,,,,,
[কি ঘটেছিলো আপনাদের কি মনে হয় জানাবেন]
জ্বিনের আছর (Season 2) Episode 11
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
418
Views
13
Likes
1
Comments
3.7
Rating