জ্বিনের আছর (Season 2) Episode 8
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
সকালে উঠে খবরের কাগজ হাতে নিলাম এবং যা দেখলাম তা বিশ্বাস করার মতো ছিলো না।
সেই ২টা ছেলের ও একই ভাবে মৃত্যু হয়েছে যেভাবে ৩ মাস আগে সেই ছিন্তাইকারির হয়েছিলো। আমি অবাক হয়ে শুধু খবরের কাগজে চেয়ে রইলাম এবং ভাবতে লাগলাম আমার সাথে আবার এসব কেন হচ্ছে। কেন আমি আবার এসব দেখছি যা ৩ মাস আগেই আলজা এবং সারফারাজের সাথে শেষ হয়ে গিয়েছিল।
ওয়েট,,,,,তাহলে সারফারাজ!!
সে কি আবার ফিরে আসবে আমার জীবনে?😍
না না এটা সম্ভব না। কারন যদি সে আসার হতো তাহলে তো আরো আগেই আসতো। কিন্তু সবকিছু তো আবার কালকে থেকেই শুরু হইছে। না এটা সম্ভব না।
এসব ভাবতে ভাবতে আমি বারান্দায় যাই। গিয়ে দেখি আমার বারান্দার নিচে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। তার মাথা নিচে নামানো যার কারনে চেহারা দেখতে পাচ্ছিলাম না। আমি অনেক্ষন তাকিয়ে থাকলাম কিন্তু সে কোনোভাবেই তার মুখ উপরে তুলছিল না। কিন্তু তাকে এভাবে দেখে আমার অনক চেনা চেনা লাগা শুরু হলো। তার আকার ভন্গিও অনেকটা চেনা চেনা লাগছে। এমন সময় আকাশে তাকালাম আর দেখলাম আকাশ হঠাৎ মেঘলা মেঘলা হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে খুব জুড়ে বৃষ্টি নামবে।হঠাৎ খুব জুড়ে বাতাস বয়ে যাওয়া শুরু হলো।
এমন সময় আমি আবার নিচে তাকালাম আর দেখি ছেলেটা আশেপাশে কোথাও নেই। এতুটুকু সময়ে একটা মানুষ এতো তারাতাড়ি কোথায় চলে গেলো। এমন সময় কাকি আমাকে ডাক দিলেন ছাদের থেকে কাপড় নিয়ে আসার জন্য। আমিও তার কথা মতো ছাদে যাই কাপড় আনার জন্য। যখন আমি ছাদে যাই দেখি ছাদের উপর একটা মেয়ে বসে কান্না করছে। আমি জিজ্ঞেস করতে লাগলাম কে কে? কিন্তু সে কোন উত্তর দিল না বরং কেদেই চলেছে। আমি তার কাছে গেলাম এবং তার কাধে হাত দিয়ে বলতে লাগলাম,,,,
-তুমি কে? আর তুমি এভাবে কান্না করছ কেন? কোন ফ্লাটে থাক? তোমাকে তো আগে দেখিনি?
-আমার ভালোবাসার মানুষ আমার কাছ থেকে দূরে চলে গেসে তাই আমি কান্না করছি। প্লিজ আমাকে একা ছেড়ে চলে যান।
-আজব তোমার মুখ আমি না দেখে এখান থেকে যাব না। বল কে তুমি? তুমি হয়তো জানো না আমার রাগ উঠে গেলে তোমার খবর আছে বলে দিলাম।
সে কিছু না বলে উঠে দারালো এবং খুব জুড়ে ভয়ানক আওয়াজে হাসতে লাগলো। আমার খুব মেজাজ খারাপ হচ্ছিলো। আমি তাকে বলতে লাগলাম,,,,
-আজব তো এই তুমি কানছিলে আবার এই হাসছ। মাথা ঠিক আছে? পাগল মেয়ে যতসব।
-তুই আমাকে রাগ দেখাতে আসিছ না। আমি কিন্তু তোর খবর করে ছারব। তোর পুরো পরিবারকে ধংস করে দিব।
এই বলে আবার সে বিকটভাবে হাসতে লাগলো। আমি পরিবারের এই কথা শুনে ভয় পেয়ে যাই। তারপর অরে কিছু বলব তার মধ্যেই দেখি পিছন থেকে কে যেন আমার নাম ধরে ডাকল। পিছনে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই। সামনে আবার তাকালাম দেখলাম মেয়েটাও সে জায়গায় নেই। আমি ভয়ে তারাতাড়ি কাপড় নিয়ে নিচে ন্বমে গেলাম। এক দৌড়ে রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেই। এবার রুমের মধ্যেও সেই হাসির আওয়াজ আসতে লাগলো আর বলতে লাগলো "তুই আমাকে ধমক দিয়ে ঠিক করছ নি।এর জন্য তোর পরিবারকে শাস্তি পেতে হবে।"
এমন সময় বেলকনি দিয়ে একটা রুমাল উরে আসলো। এটা সেই রুমাল যেটা ৩ মাস আগে সারফারাজ আমাকে দিয়েছিল। রুমালে লেখা আছে,,,ভয় পেয় না আমি তোমার পাশে আছি।❝সারফারাজ❞। হঠাৎ সারফারাজের নাম শুনতেই মনটা কেমন খুশি হয়ে গেলো। চোখ দিয়ে পানি চলে এলো অজান্তেই। যাকে আমি দিন রাত খুজে বেরাচ্ছিলাম আজ তার মেসেজ পেলাম।
দুপুরবেলা সবাই খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম। কাকা খাওয়া দাওয়া শেষ করে বাহিরে যায়। কাকি তার ঘরে ঘুমাতে চলে যায়। রাকিব তার রুমে মমোবাইলে গেমস খেলছে। আমি আমার রুমে শুয়ে ছিলাম। এমন সময় আব্দুল্লাহ এর আওয়াজ শুনতে পেলাম
-কেমন আছেন আপু?
-কে আব্দুল্লাহ?
-জ্বি। কেমন আছেন আপনি?
-আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আচ্ছা।আপনি বললেন না আপনি কোথায় থাকেন আর আমার এমন সাহায্য করছেন যে?
-আমাকে আসলে সারফারাজ ভাইয়া পাঠাইসে।আপনার খেয়াল রাখার জন্য।
-সে পাঠাইসে।। কেন তার নিজের আসলে কি সমস্যা ছিলো?
-আসলে আমাদের ওখানে একটা কাজ পড়ে গেছে তাই আমাকে পাঠাছে।সে অনেকবার আপনার সামনেও আসছে আপনি খেয়াল করেন নি। আপনার উপর অনেক বড় বিপদ আসতে চলেছে। তাই আমাকে আপনার খেদমতে দেয়া হয়েছে। আসলে আলজা কারাগার থেকে রেহাই পেয়ে গেছে। সবাইকে ধকা দিয়ে। তাই আপনার খেদমতের জন্য আমাকে পাঠানো হয়েছে। আপনি চিন্তা করবেন না আমি আপনার পাশে আছি। এখন আমি আসি। আসসালামু আলাইকুম।
-ওয়ালাইকুম আসসালাম।
এই বলে সে চলে যায়। আমি একা শুয়ে রইলাম মোবাইলে ছবি দেখছিলাম ভুতের। এমন সময় রাকিব আমার রুমে ঢুকলো এবং দরজা বন্ধ করে দিল। আমি ওরে জিজ্ঞাসা করলাম দরজা কেন বন্ধ করলো। কিন্তু সে কোন উত্তর দিল না। বরং আমার সামনে এসে নিজের জামা কাপড় খোলা শুরু করলো। আমি দেখে বললাম এসব কি করছস।কিন্তু সে এমন ভাবে রয়েছে মনে হয় সে আর সে নয় বরং অন্য কেউ। আমি লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেললাম। সে এবার আমার পায়জামা ধরলো এবং একটানে ছিরে ফেললো। আমি পুরো হা করে রইলাম সে করতে যাচ্ছে কি আমার সাথে। এমন সময় সে আমার হাত আর মুখ ছেপে ধরে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করল। এক পর্যায়ে সে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হলো। আমি অনেক ছুটে যাএয়ার চেষ্টা করলাম কিন্তু পারলাম না। আমি বলতে লাগলাম -রাকিব এ তুই কি করছিস। এটি অবৈধ ছাড় আমাকে।
কিন্তু সে কোন কথা না শুমে করেই যাচ্ছে তার কাজ। আমার পাশে টেবিলে একটা ফুলদানি ছিলো আমার মাথা শুধু একটা কাজই চলছিলো তার কাছ থেকে রেহাই পাওয়া। আমি ফুলদানি দিয়ে তার মাথায় বারি দেই। আর সে খাট থেকে পরে মাটিতে লটিয়ে পরে। তার মাথা থেকে অজস্র রক্ত পরা শুরু করে।।।।।।
চলবে,,,,,
লেখকঃইয়াসিন আরাফাত মুবাশশির
527
Views
11
Likes
2
Comments
4.3
Rating