শুভ্র চৌধুরী ইন্ডিয়ার টপ বিজনেসম্যান দের মধ্যে একজন যার খ্যাতি ইতিমধ্যে ভারতসহ অন্যান্য দেশ গুলিতেও ছড়িয়ে পড়েছে ৷ মাত্র ২৬ বছর বয়সে সফলতার চরম শীর্ষে পৌঁছিয়েছেন তিনি ৷ আজ একটা মিটিং শেষে তিনি এবং তার এসিসটেন্ট আরুশ শেখ ফিরছিলেন হঠাৎই রাস্তায় তাদের থেকে কিছুটা দূরে একটা গন্ডোগোল দেখতে পেলেন ৷ গাড়ি থামিয়ে সেদিকেই গেলেন শুভ্র চৌধুরী ৷ ভীড় ঠেলে সামনে গিয়ে তিনি থাকাকে গেলেন ৷ তার হৃদস্পন্দন ভীষন গতিতে ওঠানামা করছে ৷ তার সামনে দাড়িয়ে আছে তারই হারিয়ে যাওয়া প্রেয়সী যাকে সে গত চার বছর ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছে ৷ কিন্তু একি তার প্রেয়সীর হাত আজ অন্য কেউ ধরে আছে ৷ অন্য একজন পুরুষ তার পাশে দাড়িয়ে আছে তার প্রান প্রিয় প্রেয়সীকে স্পর্শ করছে ৷ এই দৃশ্য দেখে শুভ্রর হৃদয় ধক করে উঠল মুহূর্তেই চোখের কোনে অশ্রু কনা ভীড় করল৷ সে দেখতে পাচ্ছে তার সামনে থেকে অন্য কেউ তার প্রেয়সীকে নিয়ে চলে যাচ্ছে ৷ আর সে চেয়েও কিচ্ছু করতে পাচ্ছে না ৷ বাড়ি ফিরে শুভ্র নিজের ঘরে ঢুকে ওয়াশরুমে চলে গেল। দাড়িয়ে পড়ল শাওয়ারের নীচে ৷ চোখের কোনায় জমে থাকা অশ্রুকনা গুলো ঝড়ে পড়ল তার চিবুক বেয়ে ৷ মনে পড়ে গেল তার এবং তার প্রেয়সীর প্রথম সাক্ষাৎকারের কথা ৷
ফিরে গেল পাঁচ বছর আগে ৷শুভ্র তখন ফাইনাল ইয়ারে পড়ে ৷ কলেজে সকল মেয়েদের ক্রাশ ছিল শুভ্র। তার উচুঁ, লম্বা, শ্যামলা গড়নের সাথে ছিল তার স্মাইল আর অ্যাটিটিউট যার ওপর সকল মেয়েরা ক্রাশ খেয়েছিল খুঁইয়ে ছিল তাদের হুশ৷
রোজকারের মতো শুভ্র এবং তার চার বন্ধু নীলাদ্র, আকাশ, রাহুল এবং তন্ময় ক্যান্টিনে আড্ডা দিচ্ছিল ৷ ঠিক তখনই একজন মেয়ে তাদের সামনে এসে দাড়ায় এবং শুভ্রর কলার ধরে টেনে তাকে দাড় করিয়ে সজোরে একটা থা* প্পর বসাল তার গালে ৷ ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে গেল সকলে ৷ শুভ্র স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে রইল মেয়েটির দিকে ৷ থা* প্পর টা এত জোরে লেগেছে মনে হল শুভ্রর পুরো পৃথিবীটাই ঘুরে গেল ৷ মেয়েটি তখন বলে উঠল মেয়েদের দেখলেই অসভ্যতামি করতে ইচ্ছে হয় আপনাদের ৷ রাতে উল্টোপাল্টা ম্যাসেজ করে আবার বিরক্ত করেন ৷ এতটুকু সভ্যতা নেই আপনার ৷ দেখে তো ভদ্র ঘরের ছেলে মনে হয় কিন্তু কাজকর্মে তো একেবারে অভদ্রদের মতো ৷ এক নাগারে কথাগুলো বলে থামল মেয়েটি ৷ শুভ্রর দৃষ্টি তখনও সেই মেয়েটির মুখপানে।
মেয়েটির বান্ধবী মেয়েটির পাশে এসে মেয়েটিকে বলে আয়ু আমি যেই ছোলটির কথা বলেছি সেই ছেলেটি ইনি নন৷ ওই যে ওই সামনে যেই ছেলেটি বসে আছে আমি তার কথা তোকে বলেছি।
মেয়েটি তখন ঠোঁটে সামান্য হাসি টেনে বলে ওঠে ও সরি আসলে আমি বুঝতে পারিনি ৷ তিথি তখন আমায় বলল যেই ছেলেটা ওকে ডিস্টার্ব করছে সেই ছেলেটা এখানেই আছে আর সে নীল শার্ট পড়ে এসেছে ৷ আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম তিথি আমায় এদিকে দেখিয়ে দিল আর আমি আপনাকেই চ* র মেরে দিলাম ৷ ওই ছেলেটাও নীল শার্ট পড়ে আছে আর আপনিও তাই একটু misunderstanding হয়ে গেছে আরকি । আ... ব... SORRY I কোনো রকমে কথাটা বলে পাশ কাটিয়ে চলে গেল সামনের টেবিলে বসে থাকা ছেলেটির কাছে ৷ গিয়েই তার বাম গালে সজোরে মারল এক থা* প্পর । তারপর আরো দুটো থা* প্পর দিয়ে বলল কি মনে করিস নিজেদের৷ মেয়েদের দেখলেই তাদের নিজের সম্পত্তি বলে মনে হয় নাকি। Next টাইম যেন আমার বান্ধবীকে আর ডিস্টার্ব করতে না দেখি তোকে ৷ বলেই গট গট করে সেখান থেকে চলে গেল ৷
শুভ্র এক দৃষ্টিতে এতক্ষন সব দেখছিল ৷ হঠাৎ করেই তার ডান হাতটা বুকের বাম পাশে উঠাল 'হায় ' বলেই বসে পড়ল চেয়ারে ৷ তার বন্ধুরাও হতভম্ব ৷ তন্ময় তো বলেই বসল এইটুকু মেয়ে তার সাহস কতটা যেখানে কেউ আমাদের সাথে উঁচু গলায় কথা বলতে ভয় পায় সেখানে এই মেয়ে শুভ্রকে চ* র মেরে গেল ভাবা যায় I পাশ থেকে রাহুল বলে উঠল শুধু কি শুভ্রকে নাকি সামনে তাকিয়ে দেখ রাতুলের দুই গালে পাঁচ আঙুলের ছাপ বাস গেছে ৷ মেয়ে তো নয় যেন বোম্বাই মরিচ ৷ আকাশ বলল সে যাই হোক রাতুল মা*র খেয়েছে আমার এটাতেই শান্তি শান্তি লাগছে আহা কী যে শান্তি বলে বোঝাতে পারব না ৷
শুভ্র এবং রাতুল দুজনই একে অপরকে সহ্য করতে পারেনা ৷ তাদের এই শত্রুতার কথা ইউনিভার্সিটির সকলেই জানে ৷ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর তারা যখন ইউনিয়নে যুক্ত হল তখন থেকেই তাদের মধ্যে বি* বাদের সূচনা I
সূচনা পর্ব
অবশেষে তোমাকে পাওয়া
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
904
Views
15
Likes
1
Comments
4.2
Rating