জ্বিনের আছর (Season 2) Episode 7
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
তার মানে কি আলজা আবার ফিরে এসেছে। এখন আমার ভিতর আগের চেয়ে আরো বেশি ভয় আর চিন্তা কাজ করছে। কারন আজ থেকে ৩ মাস আগে আলজা যখন আসে সে অনেক জালিয়েছে।
কিন্তু আমার মনে এখনও একটি প্রশ্ন চলছে। আলজা আসলো তো আসলো কিভাবে? তাকে তো সারফারাজ বন্দি করে নিয়ে যায়। আমার এখনো বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমি যে আওয়াজ শুনেছি তা আলজার ছিলো। আর তাছাড়া আব্দুল্লাহ আমার অনেক সাহায্য করছে সেও মনে হয় না মিথ্যে বলবে আমার সাথে।
কি হচ্ছে আমার সাথে এসব আমার কিছুই বুঝা হচ্ছে না। এসব ভাবতে ভাবতে কখন সকাল ৭টা বেজে যায় খেয়াল করলাম না। এদিক দিয়ে কাকি আমার রুমে এলো ঘুম থেকে উঠে। এখন আবার কাকিকে দেখে আমার তেমন ভয় লাগছে। কিন্তু কে যানে যে এখনি আমার আসল ভয় শুরু হবে। কাকি আমাকে বললেন,,,,,,,
-কিরে মায়া ঘুমাসনি তুই?
-না কাকি ঘুম আসে নি।
-মুখ ধুয়েছিস?
-হ্যা।
-আচ্ছা আয় নাস্তা করে নে। তোর কাকা আবার বাহিরে বের হবে।
-আচ্ছা কাকি আমি আস্তাছি।
এরপর কাকি আমার পাশে এসে আমার কাধে হাত রেখে বললেন,,,,,
-ভয় পাসনে মা,,,,সব ঠিক হয়ে যাবে।
আমি শুধু হ্যা সূচক মাথা নারলাম কিন্তু কাকিকে কিভাবে বলবো যে আলজা যে আবার ফিরে এসেছে। এতে কাকি আরও বেশি ভয় আর চিন্তিত হয়ে যাবেন। আমি তার কথা মতো তার যাওয়ার পর যখন নাস্তা করার জন্য যাবো আমি দেখি আমার হাতে বেশ বড় এক আছরের দাগ। আর দাগ টা এমন যে কেউ দেখে বলতে পারবে যে কারও আংগুলের নখের দাগ। আমি তারাতাড়ি করে এই দাগ ঢাকি এবং খেতে যাই।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে এসে দাগটা ভালো মতো দেখি আর ভাবতে থাকি যে এই দাগ কিভাবে আসলো। আর কোনোরকম জ্বলছেও না। তখনই মনে পড়ে ৩ মাস আগের কথা যখন আলজা আমার উপর আছর মারে তখন আমার কাধেও এরকমই একটা দাগ ছিলো। তার মানে কি আবার সে,,,,,, না না এটা কি ভাবছি আমি। উল্টো পাল্টা ভাবা বন্ধ করি। কিন্তু সেই সময় তো সারফারাজ ছিলো আমাকে রক্ষা করেছে কিন্তু এখন তো আর তার খোজ নেই। এখন যদি এরকম কিছু হয় তাহলে কে বাচাবে? এসব ভাবতে ভাবতে আমি বারান্দায় চলে যাই। হঠাৎ আমার চোখ নিচে পরে। এর পর যা দেখতে পাই তা দেখে আমি নিজেকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না। কারণ আজ এতোদিন পর কিভাবে সম্ভব। যাকে এতোদিন আমি পাগলের মতো খুজছিলাম সে আজ আমার সামনে।
আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না যে আমার বারির নিচে সারফারাজ দারানো। আমি ভালো তুমি চোখ কচলাতে লাগলাম। চোখ কচলিয়ে আবার যখন তাকাই সে নেই সেখানে। অবাক করা ব্যাপার এই মাত্র এইদিকে ছিলো এখন আবার নেই। আসলেই কি সে ছিলো নাকি আমি কোন কল্পনা করছিলাম। আমি কনফিউশান এ পড়ে গেলাম। এক পর্যায়ে আমি কল্পনা ভেবে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু কোনভাবেই ভুলতে পারছিলাম না। আর এসব ভাবতে ভাবতেই আমার সকাল দুপুর কেটে গেল এবং বিকাল ঘনিয়ে আসে। আমি বাহিরে যাবো বলে তৈরি হচ্ছিলাম। যেই বাহিরে বের হব কাকি আমাকে বাধা দিয়ে বলেন যাতে না যাই। কিন্তু আমার বাহিরে যাওয়াটা অনেক জরুরি। তাই আমি তার কথা না শুনে বাহিরে বের হয়ে যাই। আসলে আমি কিছু কেনাকাটা করার জন্য বাহিরে যাচ্ছিলাম। কেনাকাটা শেষ করে আসতে রাত ৯টা।
আমি যখন চা বাগানের সামনে মনে হলো কেউ আমার পিছু নিচ্ছে। আমি পিছনে তাকালাম কিন্তু কেউ নেই। আমি আবার সামনে এগিয়ে যেতে লাগলাম। আবার মনে হলো কে যেনো আমার পিছু করছে পিছনে তাকিয়ে দেখি ২ জন বদ ছেলে সিগারেট খাচ্ছে আর আমার পিছু পিছু আসছে। আমি প্রচুর ভয় পাই আর তারাতাড়ি করে সামনের দিকে যেতে থাকি। কিন্তু তারাও এবার তাদের গতি বারিয়ে দিল। এক পর্যায়ে আমি ভয়ে দৌড় দেই আর সামনে এক ছেলের সাথে ধাক্কা খাই। আর সে আর কেউ না বরংচ আব্দুল্লাহ। আমি তাকে দেখে বলি,,,
-আমাকে বাচান।
-কার হাত থেকে আপনাকে বাচাব এখানে কেউ নেই।
তাই পিছনে ফিরে দেখি আসলে কেউ নেই।
--এই মাত্র ২জন ছেলে আমার পিছু নিচ্ছিল।
সে মুচকি হাসি দিয়ে বলে আপনি অনেক ক্লান্ত বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নেন। এই বলে সে আমাকে বাসা পযন্ত দিয়ে যায়। আমি তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বাসায় এসে পরি। আমি ঘরে এসে হাত মুখ দিয়ে খাবার খেয়ে নেই। খাবার শেষ করে আমি যখন রুমে যাই গিয়ে দেখি একটা আজব কালো কালারের প্রানি যা বিড়ালো না আবার কুকুরও না মিক্স। এরকম এক প্রানি আমাকে দেখে গোংরানি দিচ্ছে। আমি দেখে চোখ বন্ধ করে একটা চিল্লান দেই পাশের রুম থেকে কাকা কাকি দৌড়ে আসে আর আমাকে জিজ্ঞাসা করে কি হয়েছে। আমি যখন তাদের দেখাতে যাবো দেখি সেখানে কেউ নেই। সবাই আমার মাথায় হাত বুলিয়ে শুয়ে যায় আর আমিও শুয়ে শুয়ে ভাবি আজ কি হয়েছে আমার। সারাদিনের কথা ভাবতে থাকি।
প্রথমে সারফারাজের দেখা তারপর ওই দুটো ছেলে আবার এই প্রাণী। এগুলো আমার সাথে আগেও হয়েছে। তখন ছিন্তাইকারি পিছু পরছিল কিন্তু তখন আমাকে সারফারাজ বাচিয়েছিল। কিন্তু এবার আব্দুল্লাহ। আবার এই প্রাণী তখন আলজা ছিলো কিন্তু এখন কে আলজা নাকি অন্য কেউ। এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকালে উঠে খবরের কাগজ হাতে নিলাম এবং যা দেখলাম তা বিশ্বাস করার মতো ছিলো না।
চলবে,,,,,,
লেখকঃইয়াসিন আরাফাত মুবাশশির।
476
Views
12
Likes
2
Comments
3.8
Rating