আমি প্রবাসী

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
আমার বিদেশ যাওয়ার কোনো ইচ্ছা ছিলো না।
আমার বউয়ের কথায় আমি বিদেশ যাই,কিন্তু আমার সাথে এমন কিছু ঘটবে জানলে কখনই বিদেশের নাম নিতাম না।

আমি অমর, ফানিচারের কাজ করতাম। রাস্তা দিয়ে একটা মেয়ে মাঝে মাঝেই যেতো, আমারও চোখে চোখ পরলো একদিন, তারপর থেকেই ভালো লাগতে থাকে। মেয়েটাও রাস্তা দিয়ে যায় আর আমার দিকে তাকায়। বেশ কিছুদিন এভাবে কাটছিল। আমি আমার বাসায় জানাই! পরে মায় একদিন সমন্ধ নিয়ে যায় মেয়ের বাড়ির সবাই রাজি হয়। মেয়েতো মনে মনে রাজি।

বিয়ে হলো আত্বীয় স্বজন বাসায় ভরা। বেশ ভালই কাটলো কয়দিন। কিছু দিন পর থেকে আমার বউ বলে দেখো,তুমি যে কাজ করো কয় টাকা পাও বলো, কয়দিন পর আমাদের বেবি হবে তখন আরো টাকা লাগবে। আমি: হুম বুঝলাম তো কি করবো?
তুমি বিদেশ চলে যাও। অনেক টাকা কামিয়ে আসবে জীবন পালটে যাবে সবার।

আমি বললাম ভেবে দেখি,আর বিদেশ যাবো টাকা পাবো কই। এটা বলাতে বউ রাগ করে খায়না কথাও বলে না। আমি চিন্তায় পরে গেলাম কি করি এখন।
আমার বউ বলে তোমাদের বাসা বন্ধক দেও।
আমি বলছি কি বলো এসব কবে সুদ করবো, আমার বাবা মা কই থাকবে বাসার কিছু হলে।

সে বলে আমি যানিনা,আমি অনেক ভেবে চিনতে বাসা বন্ধক রেখে! বিদেশের বেপারে সব ঠিক করি। কিছু দিনের মধ্যে আমার বিদেশের সব হয়ে যায়। চলে যাই আমি বিদেশ,কঠোর পরিশ্রম করি। নিজে না খেয়ে থেকেও দেশে টাকা পাঠাই। বউ বলছিলো আমার একাউন্টে পাঠালেই হবে,তোমার বাবা মাকে আমি সব দিবো কোনো চিন্তা করো না।

আমিও র্নিচিন্তায় রইলাম বউ তো আছে বাবা মাকে দেখতেছে। নিজে ওভার টাইমের টাকা রেখে সব বউ কে পাঠাই। এভাবেই প্রায় ৫বছর চলে যায়। বউ বলে সব দেনা শেষ, আমাদের বাসা উঠাচ্ছি যা পাঠাইছ সব দিয়ে,ভিডিও কল দিলেও দেখায়। মাঝে মাঝে মা বাবার সাথে কথা বলি কিন্তু কিছু একটা বলতে চায়"কারো ভয়ে বলে না,আর যখনই তাদের সাথে কথা বলতে চাই, নানান বাহানা দেয় আমার বউ।

আমি ভাবছি অনেক দিন হলো দেশে যাওয়া উচিৎ, হঠাৎ করে চলে যাবো সারপ্রাইজ দিবো। কিন্তু আমি যে নিজেই সারপ্রাইজ হয়ে যাবো ভাবিনি। কাওকে না বলে দেশের উদেশ্য রওনা হলাম। বাসায় গিয়ে দেখি আমার বাবার ভিটা বাড়িও নাই। আমি অবাক কি হলো, মনে হয় অন্যখানে জায়গা রেখে বাসা তুলছে। বাবা মা করে চিৎকার করার পর এলাকা বাসি আসলো আমাকে বলে তুমি আসছ কখন,

এখানে তো ঘটনা ঘটছে,আমি কিছুই বুঝতে পারছি না কি বলছেন বুঝিয়ে বলুনতো। তুমি যাওয়ার কিছুদিন পর থেকেই তোমার মা বাবাকে তোমার বউ দেখতে পারেনা। কাজে লাগাই দিছে কাজ করলে ভাত দেয় নয়তো না। আমি পুরাই অবাক,কি বলেন আমার বউ কই? তোমার বউ তো নাই। নাই মানে? নাই মানে শুনছি! নতুন প্রেমিকের হাত ধরে পালাইছে।

আমি তো দারানো থেকে বসে পরলাম কথা শুনে।
মা বাবা কার মুখে শুনে আমাকে দেখতে আসছে।
তারা ভিক্ষা করে আর রাস্তায় রাস্তায় ঘুমায়।
কিরে বাবা তুই আসছ, মাগো কি হইলো এসব কিছুই মাথায় ঢুকছে না। হেরে বাবা সব সর্তি কথা আমি আর তোর বাবা ভিক্ষা করে খাই। তুই শুনলে কষ্ট পাবি তাই এলাকার কাওকে বলিনি তোকে জানাতে।

তোর বউও একদিন বলছিলো তুই আমাদের সাথে কথা বলতে চাস না। মা কি বলো আমি কেমন তুমি যাননা। আমাদের নতুন বাসা কই? কিসের বাসা সব টাকা নিয়ে তোর বউ ভাগছে। বন্ধকের টাকা দিতে পারিনা বলে ভিটা মাটিও কেরে নিছে। বাবারে তোরে কই রাখি এখন? মা চিন্তা করো না আমি আসছি সব ঠিক হবে।

আমার কাকার বাসায় উঠি। কিছু দিন পর খুজ নিয়ে জানতে পারি বউ ভালো নেই নতুন স্বামী মদ খায় আর মারে। একটু শান্তি পেলাম,কয়দিন পর মা বাবা কে একটা ভাড়া বাসায় রাখি আর আমি বিদেশ চলে যাই। টাকা পাঠাই মা বাবা ভালো আছে। আস্তে আস্তে টাকা জমাচ্ছি একটু জায়গা করবো।

বিদেশ জীবন টা অনেক কঠিন। সবার জীবন যেমন সুন্দর হয়না তেমনি কারো কারো বিদেশ সফরো সুন্দর হয়না। সময় গেলে সব ঠিক হয়, ঘটে যাওয়া স্মৃতি গুলোই মাঝখানে রয়ে যায়। ধন্যবাদ 👏
442 Views
14 Likes
2 Comments
5.0 Rating
Rate this: