জ্বিনের আছর ( Season 2) Episode 5
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
হঠাৎ কাকি আমার রুমে দৌড়ে আসেন আর এমন একটি সংবাদ দেন যা শুনার পর আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেলো এমন মনে হচ্ছে।।
কাকি আমাকে বলেন যে হুজুর নাকি মারা গেসেন।তাও মারা গেসেন তখন যখন তিনি তাবিজ আর পানি পড়া আনতে গেসেন। তাহলে তাবিজ আর পানি দিলেন যে উনি কে?
আমি কাকি কে জিজ্ঞাসা করলাম,,,,
-কাকি হুজুর মারা গেসেন কীভাবে?
-জানি না মা হুজুরের বিবি ফোন দিসিলেন এবং বলেন হুজুর নাকি মাটিতে চিত হয়ে পড়ে ছিলেন আর উনার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিলো।
আমি এই কথা শুনে আরো বেশি ভয় পাই।আমি কাকির সাথে চিল্লাচিল্লি শুরু করলাম। আমি কাকিকে বললাম,,,
-আমি মানা করেছিলাম কিছু বলতে না।আমি বলেছিলাম কারও সাহায্য লাগবে না। তাও তুমি আমাকে উনার কাছে নিয়ে গেছো। এখন উনি আমার জন্য উনার জীবন হারালেন।আমি এই কাহিনির জন্য কোনদিন ও নিজেকে মাফ করতে পারবো না।
-
এই বলে আমি দৌড়ে বাথরুমে চলে যাই এবং কান্না করতে থাকি। কারন আমার নিজের কাছে খুব খারাপ লাগা শুরু হয়েছিল।নিজেকে দোষি ভাবতে লাগলাম। এর মধ্যেই কাকির চিল্লানোর আওয়াজ শুনতে পাই।আমি দৌড়ে রাকিবের রুমে যাই। আর যেয়ে দেখি রাকিব কেমন যেনো হাপাচ্ছে।তার চোখ দুটো উল্টো যাচ্ছে।দাতে দাত লেগে যাচ্ছে। আমি এই দেখে কি করবো কোন দিশে পাচ্ছিনা না। আমার হাতে সেই পানির বোতল ছিলো যা হুজুরের বাসা থেকে নিয়ে আসছিলাম। আমার তখন কোন হুশ ছিলো না।
আমি কিছু না ভেবেই রাকিবকে এখান থেকে পানি খাওইয়ে দেই। আর এর কিছুক্ষণ পরেই দেখি রাকিব স্বাভাবিক ভাবেই যায়। এই সব ঘটনার পর খেয়াল করলাম রাকিবের এই অবস্থা দেখে আমি আর কাকি দিশেহারা হয়ে গিয়েছি কিন্তু কাকা স্বাভাবিক রয়েছেন। আমি কাকাকে তখন পানি পান করানোর চেষ্টা করি। আর তখনি কাকা আমাকে ধাক্কা দেন।
উনি আমাকে আস্তে ধাক্কা দিলেও আমি দেয়ালের সাথে ছিটকে পরি আর কোমর এবং পায়ে প্রচুর ব্যাথা পাই। এই দেখে কাকি দৌড়ে আমার কাছে এসে আমাকে ধরেন এবং কাকাকে বকাবকি করতে লাগেন। আর তখনি আমি কাকিকে বাধা দেই। তখন দেখি কাকা কেমন যেনো গম্ভীর সুরে আওয়াজ করতে লাগলেন।আমি এই ঘটনা দেখে বুঝে গিয়েছিলাম যে উনি আমার কাকা নন। আর কাকা আমাকে এতো জুড়ে ধাক্কা দিয়েছিলেন যে আমি কোমর এর ব্যাথায় নরতেও পারছিলাম না।কিন্তু তাও কিছু না ভেবে আমি কাকার কাছে এগিয়ে যেতে লাগলাম। কাকি আমাকে অনেক বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু আমি শুনি না।
আমি কাকার কাছে গিয়েই কাকার বুড়ো আন্গুল চেপে ধরি। আমি যখন তার বুড়ো আন্গুল চেপে ধরি তখন দেখি কাকা কেমন ঝটফট করছেন। আমি তখন আয়তুল কুরসি পড়া শুরু করি। আর কিছুক্ষণ পর দেখি কাকা বেহুশ হয়ে পড়ে যান। এসব ঘটনা এর মধ্যে একটা দুর্ঘটনা ঘটে যায় যা প্রথমে আমি খেয়াল না করলেও পরে তা খেয়াল করেছি। আর সেই দুর্ঘটনা হলো আমাকে যখন কাকা ধাক্কা দেন তখন আমার হাত থেকে পানির বোতল টা ছিটকে পড়ে যায়। আর বোতলের মুখ খোলা থাকায় সব পানি মাটিতে পড়ে যায়। কাকি এই দেখে বলতে লাগলেন,,,,
-মা উনি কে ছিলো তাহলে যে তর হাতে পানির বোতল আর তাবিজ দিসিলেন। তার এই পানির জন্য রাকিব আজ আমাদের সাথে আছে।
-জানি না কাকি।আর পানির বোতল থেকে পানি সব মাটিতে পড়ে গেছে।
-কি বলছ! এখন কি হবে। আর যেই দিসিলেন সে হয়তো তোর ভালো চায়। কিন্তু এখন কি হবে? পানি তো সব পড়ে গেছে।
-আরে কাকি সমস্যা নেই।
-চুপ।(গালে একটা চড় মেরে)।দেখিস নি আজকে কি কাহিনী হলো। তার মানে তোর উপর অনেক বড় বিপদ ঘুরছে।
এই বলেই কাকি তার রুমে যান আর তাবিজটা নিয়ে আমার হাতে বেধে দেন। আর বলেন,,,,
-তুই ওয়াদা করযে এই তাবিজ তুই কোন সময় খুলবি না। যদি খুলছিস আমার চেয়ে খারাপ আর কেউ হবে না।
-আচ্ছা কাকি ওয়াদা।
এর পরেই কাকি আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। আসলে বাবা-মা না থাকা সত্ত্বেও কাকা-কাকির কাছে আমি যে পরিমাণ ভালোবাসা পেয়েছি তাদের জন্য আমি আমার জীবন দিয়ে দিলেও কিছু হবে। কাকি কাকাকে নিয়ে রুমে চলে গেলেন আর আমি রাকিবের সাথেই রাকিবের পাশে শুয়ে পড়লাম।
হঠাৎ রাত 2 টার সময় আমি পানি খেতে উঠলাম এবং পাকের রুমে গেলাম। আমি পাকের রুমে গিয়ে দেখি ফ্রিজ খোলা। একটু সামনে যেতেই দেখি কাকি দাঁড়িয়ে কি যেনো খাচ্ছে। আরেকটু যখন সামনে যাই দেখি কাকি দাঁড়িয়ে কাচা গরুর মাংস চিবিয়ে খাচ্ছে। আমি তা দেখে থমকে খারাই। আমি কাকি কাকি বলে সামনে যেতে লাগলাম ভালো করে দেখার জন্য। কিছুক্ষন সামনে যেতেই দেখি তার কাছ থেকেও একি আওয়াজ আসছে যা কাকার কাছ থেকে পাচ্ছিলাম।
আমি প্রচুর ভয় লাগা শুরু করে। আমি আবারো কাকি কাকি বলে ডাকা ডাকি শুরু করলাম। কিন্তু তার কাছ থেকে কোন উত্তর পাচ্ছিলাম না। তাই আমি বুকে সাহস নিয়ে কাকির একদম কাছে চলে যাই। আর কাকির কাধে হাত রাখি। আর তখনি কাকি আমার দিকে ঘুরে একটা চিল্লান দেন। যখন আমার দিকে তাকায় আমি থমকে যাই আর হাত পা কাপতে থাকে আমার। তার চোখ দুটো টকটকা লাল।মুখে রক্ত লেগে আছে।তার চেহারা কেমন ভয়ানক রুপ।আমার যায়গায় অন্য কেউ হলে অখানেই বেহুশ হতো। কেননা এমন চেহারা কেউ কল্পনাতেও ভাবতে পারে না।
আমি কিছু না বুঝে জুড়ে চিৎকার দেই। আর আমার আওয়াজ শুনে পিছন থেকে কাকি আমাকে ডাক দে।যখন আমি পিছনে তাকাই দেখি পিছনে কাকা কাকি রাকিব দারানো। আবার যখন সামনে তাকাই দেখি সামনে কেউ নেই। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো যে মাংস বের করা ছিলো তাও নেই এবং ফ্রিজও বন্ধ।
এমন।একটা অবস্থা ছিলো মনে হবে এখানে কেউ ছিলো না এবং কিছুই ঘটে নি। আমি দৌড়ে কাকির কাছে যাই এবং কাকিকে জড়িয়ে ধরি।
চলবে,,,,,
লেখকঃইয়াসিন আরাফাত মুবাশশির।
573
Views
19
Likes
3
Comments
4.4
Rating