জ্বিনের আছর (season 2) episode 4
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
তারপর আমরা ২ জনে তার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
কিন্তু কেউ জানতেই পারলাম না যে এই সিদ্ধান্ত যে আমার জীবনে কাল হয়ে আসবে। আমাদের সেখানে পৌছাতে পৌছাতে দুপুর হয়ে গেলো। তারপর আমরা সেই হুজুরের সাথে দেখা করলাম যে নাকি আমাকে গতবার চিকিৎসা করেছিলেন।তিনি আমাকে দেখেই বলে উঠেন,,,
-কি অবস্থা মা সব ঠিকঠাক তো?
-আমি কিছু বললাম না শুধু হাত পা মুচড়াতে লাগলাম।
-হুজুর দেখেন তো মায়ার সাথে এসব কি আবার শুরু হয়েছে?(কাকি বলে উঠেন)
-কি হয়েছে আমাকে খুলে যদি না বলেন তাহলে তো আর বুঝতে পারবো না।
আমি কাকি নিষেধ করা শুরু করলাম। কারন আমার স্বপ্ন অনুযায়ী যদি হয়ে থাকে তাহলে আমার পরিবার উপর বিপদ আছে। আর এখন এটা কাউকে বলতেও ভয় করছে। হুজুর আমার আচার ভংগিমা দেখে বুঝে ফেলেছেন আমি যে প্রচুর পরিমানে ভয়ে আছি। উনি কিছু কাঠের উপর আগুন জ্বালালেন। এরপর মনে মনে কি যেন পড়তে লাগলেন। উনি যত গভীরভাবে মন্ত্র পড়ে যাচ্ছেন তত বেশি আগুন জ্বলে উঠে। এই অবস্থা দেখে আমারও ভয় লাগা শুরু হলো। কিছুক্ষন এভাবে যাওয়ার পর হুজুর চোখ খুললেন।কাকি হুজুরকে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন,,,
-কি হয়েছে হুজুর? আমার মেয়ে ঠিক আছে তো? তার উপর কোনো ক্ষতি নেই তো?
কিন্তু হুজুর কিছু বললেন না। আমার ভয় আরও বেশি বাড়তে লাগলো। কেননা স্বপ্নে আমি এটাও দেখেছি যেই আমার সাহায্য করতে আসবে তার ক্ষতি হবে। হুজুরকে চুপ থাকতে দেখে আমি ভাবতে লাগলাম উনার কিছু হলো নাতো? এমন সময় হুজুর বলে উঠেন,,,,
-তুমি কি ২–১ দিনের মধ্যে চা বাগানের ভিতর প্রবেশ করেছিলে?
-হ্যা।
এই কথা শুনার পরপরই হুজুর সেখান থেকে উঠে অন্য রুমে চলে গেলেন। আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না এ কি হচ্ছে? হুজুর এভাবে কিছু না বলে উঠে চলে গেলেন কেন? আমার মনের মধ্যে ভয় আরও বাড়তে থাকে। অনেক্ষন এভাবে৷ যাওয়ার পর হুজুর একটি তাবিজ আর একটি বোতলে কিছু পানি নিয়ে আসেন। আমাকে উনি তার কাছে যেতে বললেন। আমিও উঠে তার কাছে গেলাম। তার কাছে যেতেই তিনি আমার বাহুতে তাবিজ বেধে দিলেন এবং পানির বোতল আমার হাতে দিলেন এবং এই পানি ৩ বেলা খাওয়ার জন্য এবং গোসলের সময় ব্যবহার করার জন্য আর তাবিজ যাতে আমি ভুলেও না খুলি। উনি আরও বলতে লাগলেন আমার উপর নাকি অনেক বড় একটি বিপদ আসছে। এই বলেই তিনি আমাদের যেতে বলে ঘরে চলে গেলেন।
কিন্তু আশ্চর্যের একটা ব্যাপার হলো যখন উনি তাবিজ আর পানির বোতল নিয়ে আমার কাছে আসলেন তখন আর তার চেহারা স্পষ্ট দেখতে পেলাম না। তার চেহারা একটি রুমাল দিয়ে বাধা আছিলো। আমি কিছু বুঝলাম না যে উনি হঠাৎ এমন রুমাল বেধে কেন আসলেন। তার গলার আওয়াজও কেমন যেনো ভারি ভারি লাগছিলো। যাই হক আমি তার কথা শুনার পর কাকির সাথে বাসার উউদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। আমাদের বাসায় আসতে আসতে বিকাল হয়।
রাতে সবাই যখন খেতে বসি তখন কাকা কাকিকে বলতে লাগলেন,,,,
-যে কাজের জন্য মায়াকে নিয়ে গেসিলা সেটা কি হয়েছে?
-হ্যা হয়েছে।
এমন সময় রাকিব আবার বলে উঠে,,,
-ভালো হয়েছে।
কাকা আর রাকিবের কথা শুনে আমার কেমন যেনো সন্দেহ লাগা শুরু হলো। তাদের আওয়াজ কেমন যেনো গম্ভীর লাগছিলো। তাও আমি কিছু বললাম না চুপচাপ খাওয়া শেষ করলাম। আমি আর কাকি যখন রান্নাঘরে থালা বাসন পরিস্কার করছিলাম তখন কাকি আমাকে আস্তে আস্তে বলতে লাগলেন,,,,,
-এই মায়া তোর কাকা আর রাকিবের কথাগুলো খেয়াল করেছিস?
-কেন কাকি? কি হয়েছে?
-আমার কাছে কেমন যেনো লাগছিলো। তোর কাকা আর রাকিব তো কোন সময় এমন গম্ভীরভাবে কথা বলে না। তাছাড়া আজকে হুজুরও রুম থেকে যখন তাবিজ আর পানির বোতল নিয়ে আসেন মুখে রুমাল বেধে আসছেলেন। আমার কেমন যেনো ভয় করছেরে মা,,,,
-আরে কাকি হয়তো তারা ক্লান্ত তাই এভাবে কথা বলছিল।তুমি এগুলোতে এতো মাথাব্যথা নিয়ো না।
কিন্তু আসলে আমারও কেমন যেনো লাগছিলো। কিন্তু আমি এই কথা যদি কাকিকে বলতে যাই উনি আরো চিন্তা করবেন। তাই কাজ শেষ করে রুমে গিয়ে বিছানা গুছাতে লাগলাম হঠাৎ কাকি আমার রুমে দৌড়ে আসেন আর এমন একটি সংবাদ দেন যা শুনার পর আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে গেলো এমন মনে হচ্ছে।।
[আপনাদের কি মনে হয় কি এমন সংবাদ হতে পারে কমেন্ট করে জানাবেন। আর এখন থেকে নিয়মিত গল্প পাবেন।]
চলবে,,,,,,,,
লেখকঃইয়াসিন আরাফাত মুবাশশির।
525
Views
10
Likes
1
Comments
3.8
Rating