আমি মেয়ের মা😭

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
চারটি মেয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর-ই স্বামী নির্যাতন শুরু করে।
আমার নাম অমি। আমি গৃহ বধু। আমার স্বামীর নাম তপু। ৭ বছর হলো আমাদের বিয়ে হয়েছে।প্রথম দুই সন্তান যখন হলো" তখনও আমার স্বামী আমাকে যত্ন করতো। ৩ নাম্বার সন্তান হওয়ার পর থেকেই আমাকে অবহেলা করে।আর এখন তো কথায় কথায় মারে😭

সন্তার দেওয়ার মালিক তো বিধাতা,আমার হাতে কি ছেলে হওয়ার কৌশল আছে। ২মেয়ে হওয়ার পরেই শ্বাশুড়ি আমার স্বামী (তপু) কে কিযে শিখিয়ে দিতো, ঘরে ঢুকলেই খালি পেন পেন করতো।এক কথায় আমায় দেখতেই পারতো না।মেয়ে গুলো সামনে গেলে দূর দূর করতো।

বলতো এই বার যদি মেয়ে হয় বাপের বাড়ি চলে যাবি।আমি শুরু মুখ বন্ধ করে কাঁদতাম। ৩ নাম্বার মেয়ে হলো খুশি তো ছিলই না বরং দেখতেও আসেনি।অন্য মানুষকে দিয়ে কেনাকাটা করে দিতো।যাযা লাগতো! আর ৪নাম্বার মেয়ে হওয়ার পর দেখতে আসবে তো দুরের কথা কোনো টাকা পয়সা ও দেয়না।

১মাস হলো মেয়েটা হইছে।আমি কি করে চলি। একটা মেয়েরো খরচ দেয়না।বাড়িতেও আসেনা,একজন লোক পাঠাইছে,আমি বাপের বাড়ি গেলে আসবো।কি করার মেয়েদের নিয়ে বাপের বাড়ি আছি আজ ১০দিন।আমার বাবা মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোক।পারা প্রতিবেশির তো কোনো কথাই নাই।একটু হলে আরেকটু বলবে।

বড় ভাই বিয়ে করেছে বেশি দিন হয়নি।ভাইয়ের বউ মুখ ফুটে কিছু না বললেও বুঝি যে মুখে মধু অন্তরে বিষ।কিছু দিন না যেতেই ভাইকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যায়।খুব কষ্টে দিন কাটছিলো। ২মাস হলো বাপের বাড়ি আছি স্বামী কোনো খুজ খবর নেয়নি ছোট মেয়েটাকে একবারও দেখেনি।একজনের মুখে শুনলাম মেয়ে দেখতেছে আবার বিয়ে করবে।

আসলেই ওই কি মানুষ? নিজের সন্তানের মুখ দেখলো না একবার! বিয়ের জন্য রেডি।আমি অনেক ভাবনা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি পুলিশের কাছে যাবো। মা বাবার অনুরোধে চুপ হয়ে আছি।বাবা গেছিলো একদিন বুঝাতে বাবাকে অপমান করে দিছে।

আর সইতে না পেরে আমি পুলিশ কর্মকর্তার কাছে গিয়ে সব ঘটনা বললাম।আমার কথা মতো তদন্ত করলো ঠিকই কিন্তু আমার স্বামী টাকা দিয়ে কিনে ফেলল পুলিশকে। হায়রে টাকা!সেদিন খুব জিদ হলো এই টাকাই আমার জীবন পালটে দিবে।
ছোট মেয়েটাকে মার কাছে রেখে বেড়িয়ে পরলাম কাজের জন্য।

দিন নাই রাত নাই অনেক কষ্ট করি।একদিন রাস্তা পার হবো এক বৃদ্ধ মহিলা পরে যাচ্ছে।আমি তাকে বাঁচালাম তারপর সে তার বাসায় নিয়ে গেলো আমায়, আর সব ঘটনা শুনলো পরে তাকে দেখা শুনা করার জন্য কাজ পেলাম।

কেও ছিলো না মহিলার,এক ছেলে তাও বিদেশ থাকে। স্বামী আর স্ত্রী অনেক টাকা পয়সা ছিলো। আমি এখানে সময় দিতাম আর মা আমার মেয়েদের দেখতো।মহিলা আমাকে মেয়ের মতো দেখতো, ভালো খাবার পোশাক সব দিতো আমি আমার মেয়েদের নিয়ে ভালোই ছিলাম।আমিও S.S.C পাশ করেছিলাম।

তাদের অফিসের হিসাব রাখতে দিতো। উপর ওয়ালা পাশে থাকলে মেয়েরাও অনেক কিছু পারে। এর পর আমাকে আর পিছু তাকাতে হয়নি।
শুনেছি আমার স্বামী বিয়ে করেছে তার আবার মেয়ে হইছে।বউটার উপরও নির্যাতন করে ছেলের জন্য।আমার ইচ্ছা ওকে সাজা দিতেই হবে।

আমি যে বাসায় কাজ করি মহিলার অবস্থা হঠাৎ করে অনেক খারাপ হয়। আর সে তার সব সম্পদ আমাকে দিয়ে যায়।সে মারা যাওয়ার ১৫দিন পর তার স্বামীও মারা যায়।আমার অনেক কষ্ট হইছে যারা আমার কিছু লাগেনা তারাই আমাকে এতো ভালবাসলো।আর যারা আপন ছিলো তারা পদে পদে ঘৃণা দিলো।যাই হোক👇

একদিন স্বামীর বাড়ি গেলাম বড় একটা গাড়ি নিয়ে, সাথে ছিলো অনেক পুলিশ কারন তখন আমার টাকা আছে, পুলিশও আমার।আমার স্বামী ক্ষমা চায় আমার কাছে।কি আজব পৃথিবী? আজ আমার টাকা আছে দুনিয়া আমার।আমি ধরিয়ে দিলাম পুলিশ দিয়ে। ওর দ্বিতীয় বউও শান্তি পেলো মনে হয়।

সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না।মেয়ে হয়েছে তাদের ভাগ্য তারাই আনছে।তাই বলে অবহেলা করবো কেনো? মেয়ে হওয়া কি পাপ? আগে মন মানসিকতা পরিবর্তন করুন ধন্যবাদ 👏
401 Views
11 Likes
3 Comments
4.4 Rating
Rate this: