পাপী মেয়ে

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
আমি এক অভাগিনী! স্বামী তালাক দিয়েছে ১৫দিন আগে। খুব সুখে শান্তিতে কাটছিলো আমাদের জীবন।। মা বাবা খুব সখ করেই বড় ঘরে বিয়ে দিয়েছে,আমরা মধ্যে বৃত্ত ছিলাম! বলতে গেলে বাবা কাজ করলে খেতাম' না হয় না খেয়েই থাকতাম।
স্বামীর নাম ছিলো রানা। আমার নাম মিতা।

আমি দেখতে সুন্দর ছিলাম তাই বড় ঘরে বিয়ে হয়ে গেলো। আমি যেনো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি পেলাম।
অনেক সখ ছিলো নিজের জীবন পালটানোর।বিয়ে হলো পরিবারের সবাই খুব ভালো ছিলো। আমার অনেক যত্ন নিতো।আমিও প্রথমে সবার সাথে ভালোই ব্যবহার করতাম।আমার ভিতর কেমন যানি একটা লোভ চলে আসে।আমার স্বামী বড় ছিলো,

দুই ভাই তারা বোন ছিলো না। তাই আমার শাশুড়ী আমাকে মেয়ের মতোই দেখতো।দেখতাম আমার স্বামী সব খরচ করে ছোট ভাই বসে বসে খায়, তাই দেখে আমার মোটেও ভালো লাগতো না।আর ওই দিকে আমার শাশুড়ী আমার বেবি নেওয়ার জন্য চাপ দিতো।আমি চাইতাম সব সুখ আনন্দ আমি উপভোগ করে নেই।

স্বামীকে যা বলতাম তাই শুনতো।আমিও ইচ্ছে মতো টাকা ওড়াতে থাকতাম।দিন নাই রাত নাই বাহিরে ফ্রেন্ড দের সাথে পার্টি করতাম। আমি ভাবতে শুরু করলাম আমি একা মালিক সবাই আমার দাসী।

হঠাৎ করে স্বামী বলল দেখো,আমাদের বিয়ে হয়েছে ২বছর হলো, এবার আমাদের বাচ্চা নেওয়ার সময় হচ্ছে।মা বাবা ও অসুস্থ! তারা যদি তাদের নাতি নাতনির সাথে খেলা ধোলা না করতে পারে, তাহলে বিয়ে করে কি লাভ বলতো?

তখন বিষয় টা পাত্তা দিলাম না,নিজের মতই চলছি কিন্তু বুঝতে পারছি যে বাড়ির সবাই আমার কাজ কর্মে খুশি না। তাতে আমার কিছুই যায় আসে না।

হঠাৎ একদিন আমার ভমি ভমি ভাব আসে।সারা দিনই খারাপ লাগে,আমি কাওকে না বলেই ডাক্তার কাছে গেলাম, ডাক্তার পরিক্ষা দিলো জানতে পারলাম আমি মা হবো।

কেনো যানি আমি খুশি ছিলাম না,আমি ভাবতাম আমার ক্যরিয়ার শেষ হয়ে যাবে। আমার শরীর নষ্ট হয়ে যাবে, সেদিন সারা দিন এটা ভেবে" পরের দিন একাই গেলাম ডাক্তার কাছে। গিয়ে বাচ্চাটা নষ্ট করে ফেললাম।আমি এমন মা যে একবার নিজের সন্তানের কথাও চিন্তা করিনি।

আমি যানতাম পরিবারের সবাই কতো খুশি হবে খবর টা শুনলে।কিন্তু আমি কাওকেই জানাই নি। আমি কি মানুষ 😭 ডাক্তার টা রাজি হয়নি প্রথম আমি অনেক রিকুয়েষ্ট করেছি এটা সেটা ভূল বুঝিয়ে রাজি করিয়েছিলাম।

একদিন আমার স্বামীর সাথে রাস্তায় ডাক্তারের দেখা? সে আমার কথা জিগ্যেস করছিলো, আমি কেমন আছি।আসলে আমি যখন অপারেশন করিয়েছি তখন অসুস্থ হয়ে পরেছিলাম।কিন্তু কাওকে বুঝতে দেইনি।

আমার স্বামী বলল কেনো ওর কি হইছে আবার।ডাক্তার বলল কেনো আপনি যানেন না।ডাক্তার আমাদের পরিচিত ছিলো। না যানি নাতো। কিছু দিন আগেই তো আপনার ওয়াইফ(বউ) আমার কাছে একটা অপারেশন করেছে।

রানা বলল মানে? কি বলছেন বুঝতেই পারছিনা, কিসের অপারেশন? আপনার বউ তো সন্তান সম্ভবা ছিলো।ডাক্তার সব খুলে বলল?
রানা কিছু না বলেই বাসাই গেলো,খুব রাগ! রানার মা বলল কিরে তুই না কাজে গেলি এখনি চলে আসলি।কিছু না বলে রুমে গেলো আর মিতার গালে একটা থাপ্পড় মারলো।

আমি কিছুই বুঝলাম না।কি হইছে তোমার মারলা কেনো। রানা বলল জীবনে কি পাপ করছি যে এমন বউ পাইছি।আর তোরে কি কষ্ট দিছি যে তুই আমাকে এমন সাজা দিলি।ডাক্তার আমাকে সব বলছে।
মিতার বুঝতে বাকি রইলো না।সরি আমাকে মাপ করে দাও👏

রানা কিছুই বললো না আমার হাত ধরে টেনে বের করে দিলো বাসা থেকে।তখন বুঝলাম আমি সব সময় গরিব গরিবই থাকবো।না ভালো বউ হলাম,না ভালো মেয়ে হলাম আর না ভালো মা হলাম।

জীবনে বেশি লোভ মানুষ কে অপরাধী হতে সাহায্য করে।তাই কখনো বেশি লোভ করতে নেই।লোভে পাপ আর পাপে মৃত্যু হয়।
এর কিছু দিন পরই রানা ডিবোস লেটায় পাঠালো,মা বাবা অনেক বুঝাতে চাইলেও আমার সাথে আর সংসার করবেনা পরিস্কার বলে দিয়েছে।
468 Views
11 Likes
0 Comments
4.1 Rating
Rate this: