বাবা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
#পর্ব ১
জীবন থেকে যে শিক্ষা পেয়েছি তা এক জীবনে শেষ করার নয়।
একটা হত দরিদ্র পরিবারে, ছোট বেলা থেকেই ক্ষুধার সাথে. দারিদ্রতার সাথে,অত্যাচারিত সমাজের সাথে। নিজেকে মানিয়ে নিতে শিখেছি। দুঃখ-কষ্ট,অন্যায়-অপবাদ।মানুষ নামক কতগুলো হিংস্র পশুর সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়। দারিদ্র্য পরিবারে সব চেয়ে বেশি অবহেলার পাত্র হলো একজন পিতা। আমি জানি না বাবারা কেমন হয়? তাদেরো কি হৃদয় থাকে। তারাও কি ভালোবাসতে জানে। পরিবারের সব চাহিদা পূরণ করতে অক্ষম হলে,কখনো বাবা রা যৌগ্য সম্মান টুকু পায় না। সারাটা জীবন শুধু একটা কথাই ভেবে এসেছি , জীবনে কিছু দিতে পারে নি পিতা-মাতা। বাবা সকালে কাজে বেরিয়ে যেতো রাতে ঘরে এসে, ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমিয়ে পড়তো। কখনো নিজে না খেয়ে কাজে যেতো।কেউ কিছু দিলে না খেয়ে নিয়ে আসতো। কখনো নিজে নতুন পোশাক না কিনলেও আমাদের নতুন পোশাক ঠিক‌ই দিত। সারাটা জীবন নিজের ঘাম ঝরিয়ে খেটে গেছে। বিনিময়ে জীবনে অবহেলা ছাড়া কিছুই দিই নি। কখনো বুঝতে চেষ্টা করিনি বাবারাও মানুষ হয় ।তারা শুধু কাজের রোবট নয়। তাদের কষ্ট হয়, তাদের মন আছে। তারাও শান্তিতে থাকতে চায় ।কখনো বুঝতে চাইনি।ভাবতাম বাবারা কখনো বৃদ্ধ হয় না, কখনো কষ্ট পায় না। আমি যখন অসুস্থ অবস্থায় হসপিটালে বেহুঁশ ছিলাম। আমার বাবা-মা খাওয়া -ঘুম সব কিছুই ত্যাগ করে। আমার পাশে বসে দোয়া করতো। রাতে পর রাত, দিনের পর দিন। আমার জন্য কান্নাকাটি করছে। আমি অসুস্থ হলে আমার বাবাই পাগলের মত কোলে নিয়ে ছুটে গেছে হসপিটালে। বিনিময়ে অবহেলা ছাড়া কিছুই দিতে পারিনি। কতো বড় অকৃতজ্ঞ সন্তান আমি। তিন মাস আগে হঠাৎ বাবা অসুস্থ হলো শরীর শুকিয়ে হাড়ের সাথে মিশে গেছে। একা হাঁটতে কষ্ট হয়। পিজি হাসপাতালে নিয়ে আসলাম।গাড়ি থেকে নামাতে গিয়ে হাত ধরে দেখি শুধু হাড্ডি আছে। চোখের জল ধরে রাখতে পারলাম না। কিছু দিন আগেও আমার বাবার কতো সুন্দর শরীর ছিল। ছোট বেলা থেকে খাটতে-খাটতে আজ দুর্বল রোগা হয়ে গেছে। আমি কিছুই করতে পারলাম না ।নিজেকে বড় অপরাধী আর অকৃতজ্ঞ সন্তান মনে হচ্ছে। শুধু বললাম বাবা তুমি এমন হয়ে গেছে। আর কিছুই বলতে পারছি না। কন্ঠ বাড়ি হয়ে গেছে। শুধু জল মুছতে মুছতে হাঁটছি। 👉প্রথম পর্ব
1.04K Views
34 Likes
6 Comments
4.6 Rating
Rate this: