জমিদার বাড়ির মেয়ে (পর্ব ৩)

পর্ব:৩য়

👇
- নীলার পিছন পিছন ভিতরে
যাইতেছি।
মেইন দরোজাটা পার হয়ে
বাড়ির মধ্যে ঢুকতেই দেখি।
দরবেশের মতো একটা লোক
সোফাই উপর বসে তসবি গুনতেছে।

নীলার কানে ফিস ফিস করে বললাম ।
- ঐ.... তোমরা কী বাড়ির ভিতরে
জ্বীন টিন পালো নাকি।
- কেনো।
- ঐ যে সোফার উপরে জ্বীনের মতো
ঐটা কে বসে আছে।
- ওটা আমার দাদু।
- ওহহহহহ আচ্ছা...আমি তো ওনার চেহানা ছুরত আর দাঁড়ি দেখে ভাবছিলাম।
কোন দরবেশ টরবেশ হইবো হয়তো।
আবার কেমন জ্বীন জ্বীন ও মনে
হইতেছে.... হি হি হি।
- চুপপপপপ...আমার সাথে
যত যত ইচ্ছে দুষ্টুমি করো,
কিন্তুু বাবা আর দাদুর সাথে একদম কোন
দুুষ্টুমি করবা না।
- কেনো।
- ওনারা দুই জন অনেক রাগি।
- সত্যি।
- হুমমমমমম।
- যাক দুুষ্টুমি করার জন্য শেষ মেষ
দুইটা লোক মিললো.... হি হি হি।
এবার তুমি আমার পিছন পিছন আসো,
আমি একটু আগে গিয়ে জ্বীন, দরবেশ
দাদুর সাথে কথা বার্তা সেরে ফেলি।
- আরমান.... না।

কে শুনে কার কথা।

- দরবেশ দাদু...আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
- ওয়া'আলাইকুমুসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু”।

- দরবেশ দাদু... আমার নাম আরমান।
- ঠিকআছে...এখানে কীভাবে আসছো।
- সে তো এক ইতিহাসের মতো কাহিনি,
শর্ট করে বলতাম নাকি পুরো ইতিহাসটাই
শুনবেন।
- শর্ট করে বলো।
- জ্বী..... প্রথমে আব্বার আলমারি
থেকে টাকা চুরি করছি, এরপরে
সিলেট আসার জন্য সিলেটের বাসে উঠছে।
বাসে উঠে নীলার নামের একটা মেয়ের
সাথে পরিচয়।
পরিচয় হবার পর থেকে তার সাথে
গল্প করতে করতেই আসতেছিলাম।
হঠাৎ.... বুমমমমমমম।
- বুমমমমমমম.... মানে।
- বুমমমম মানে বাসের চাক্কা ফেঁটে
গেছে।
তো বাসের চাক্কা মাঝ রাস্তাই ফাঁটার
কারণে আপনার নাতনি আমারে এখানে
গাড়ি করে নিয়ে আসছে।
গাড়ি থেকে নামার পরে থেকে আপনার এখান
অব্দি পায়ে হেঁটেই আসছি।
- বাহ্.... একটা মেয়ে আসতে বললো
আর চলে আসলে।

- এই যে হ্যালো... দরবেশ দাদু... আমি
না আপনার নাতনির কথায় এখানে আসি নাই।
ওর মুখে যখন শুনছি.... ওর দাদু এখানকার
জমিদার।
জীবনে তো খালি
রাজা জমিদারদের কথা গল্পেই পড়ে
গেছি।
তাই ভাবছিলাম সুযোগ যখন আসছেই
এবার না হয় একটু সামনে থেকে দেখে আসি।

কিন্তুু এ আমি কী দেখছি.... জমিদার
নামটার সাথে তো আপনার কোন মিলই নাই।
আসার সময় মনে মনে ভাবছিলাম,
জমিদার দেখতে হয়তো কোন
বীরের মতো হবে।
কিন্তুু আপনারে দেখে তো মনে হইতেছে।
- কী মনে হইতেছে।
- না থাক, বলমু না.... হুদাই আবার
খালি খালি রেগে যাবেন।
- রেগে যাবো না বলো।
কেমন লাগতেছে।
- কেমন আবার... কোন জ্বীন আর দরবেশরে
এক সাথে মিশাইলে যেমন লাগে... তেমন
লাগতেছে।

রাগি একটা লুক নিয়ে আমার দিকে
তাঁকালো...অনেক কিছু বলতে চেয়ে ও বললো না।

- নীলা...এই দিকে আয়।
- জ্বী দাদুু।
- আরে জ্বী দাদু না বলে জ্বীন দাদু বলো.. হি হি।
- আরমান....চুপপপপপপ....
দাদু ওর কথায় কিছু মনে করো না,
ও একটু বেশি কথা বলে।
- আচ্ছা তোর মা কেমন আছে ।
- ভালো আছে দাদু.....আব্বু কোথায় গেছে।
- একটা কাজের জন্য একটু বাহিরে গেছে
কালকে ফিরবে।
তুই ওকে নিয়ে উপরে যা।
- ঠিকআছে দাদু।

- আরমান.. উপরে আসো।
- হুমমমমম....।
ঐ আর এক মিনিট দাঁড়াও।
- আবার কী?

- আচ্ছা দাদুু তোমারে কী আমি জ্বীন দাদু,
দরবেশ দাদু, নাকি খালি দাদু বলে ডাকমু।
- নীলা... ওকে উপরে নিয়ে যা।
- আরমান.... উপরে চলো।
- কিন্তুু ওনি তো কোনটাই বললো না।
তাহলে কী আমি তিনটা বলেই ডাকমু।
- নীলা...ওকে উপরে নিয়ে যা বলছি,😡
আমি চাই না বাড়ির কোন মেহমানের
সাথে খারাপ কিছু হোক।😡
- আরমান..প্লিজ উপরে চলো।
- আচ্ছা ঠিক আছে...চলো...
কী আর করার আমার পছন্দ মতোই কোন
একটা বলে ডাকমুনি।😁

উপরে যাওয়ার পড়ে।

- আরমান... তুমি কী পাগল.. হ্যা।
দাদু আর বাবা অনেক ডেঞ্জারাস।
- তো কী হইছে.... চুল, দাঁড়ি আর
কাপড়চোপড় দেখে তো জ্বীনেদের
দরবেশ মনে হচ্ছিলো... হি হি।😁
- আরমান চুপপপপ....আমি যে
কেনো তোমারে আনতে গেলাম।
- ও মা তোমার কী কোন প্রবলেম হচ্ছে
নাকি।
আচ্ছা আমি তাহলে গেলাম.... বাই, টাটা।
- আরে দূর... আমি সেটা বলি নাই।
প্রবলেম আমার হবে কেনো, প্রবলেম তো
হবে তোমার।
তুমি যদি এমন করতে থাকো না....
সত্যি সত্যি খারাপ কিছু একটা হয়ে যাবে।
- কেনো?

- কেনো আবার, বাবা আর দাদু
অনেক ডেঞ্জারাস তাই।
- ওওওওও।
- হুমমমমমম.... এবার ঐ রুমে গিয়ে...
ফ্রেশ হয়ে বসে থাকো।
আমি খাবার নিয়ে আসতেছি।
- ঠিকআছে ।

বাহ্..... রুমটা তো সেই।
মনে হচ্ছে আমার আসার কথা
শুনে কেউ আগে থেকেই রুমটা
গুছিয়ে রাখছে।
আর, হাজার হলে ও জমিদারের বাড়ি
বলে কথা...।
সব কিছুু তো সেই হবেই।

ফ্রেশ হয়ে....খাটের উপর চিতপটাং
হয়ে শুয়ে ফোন টিপতেছি।

এমন সময় দরোজাই... ঠক ঠক ।
- দরোজার কাছে গেলাম,
কে.....।
- আরমান...আমি নীলা।
- দাঁড়াও.... খুলতেছি।
- হুমমমমম....।

- এই যে ধরো... তোমার খাবার।
- হুমমমম, দাও... অনেক খিদে
লাগছে।
- আচ্ছা তুমি খেয়ে নিয়ো, আমি গেলাম।
- ঠিকআছে ।

খাবার গুলো দেখে তো সেই
লাগতেছে.....
কিন্তুু সেই লেগে তো কোন লাভ নাই,
যতক্ষণে না পেঁটের ভিতরে ঢুকতেছে।

আহা...খাইতে যা লাগলো না... পুরাই
জমিদারি খাবার।😚😚😚

আজকের মতো খাওয়া দাওয়া সব শেষ... এবার একটু ঘুমাই নেই...
রাতটা কাঁটলেই কালকে সকালে উঠেই...
সিলেটের দিকে দৌঁড় দিমু।

বিশ মিনিট যাবৎ শুয়ে আছি,
কিন্তুু ঘুম আসার কোন নামই নাই।
আর এই দিকে হারামজাদা শয়তান👹
মনে ভিতরে ঢুকে খালি খালি ভয়ঙ্কর
চিন্তা ভাবনা নিয়ে আসতেছে।
কেমনডা লাগে তাই।

একটু যে ঘুমামু... ভয়ের চিন্তা ভাবনা
মনের ভিতরে ঢুকে ঘুমটা ও আর
আসতেছে না।

খালি মনে হইতেছে....আরমান এমন পুরাতন
জমিদার বাড়িতেই তো ভূত থাকে।👻
আর এখন যদি এই রুমের মধ্যে কিছু ঘটে
আমি তো ডিরেক্ট মরে ভূত 👻👻👻।
আমার স্বপ্নের সিলেট যাওয়া তাইলে হইছে।

এত ভয়ে ভয়ে আর চিন্তার মধ্যে
থাকলে, আমি এমনেই ঠাস করে মরে যামু।🙃
তার থেকে বরং নীলার রুমে যাই।
গল্প করতে করতেই রাত শেষ হয়ে
যাবে।

ঠক ঠক ঠক।
- কে।
- ঐ... দরোজা খোলো, আমি আরমান।

- কী হলো আবার।
- ভিতরে চলো আগে।
- আচ্ছা।

- কী হইছে বলো।
- আমি তোমার রুমে তোমার সাথেই থাকমু।
- কীইইইই? কেনো।
- এমন কীইই করার কিছু নাই,
আমি তোমারে টাচ ও করমু না,
কারণ...আমার ও এখনো বিয়ে হয় নাই।🙈
আর আমারে দেখে কী খারাপ মনে হয় বলো।
- ওহহহহহ.... আমি কী সেটা একবার ও
বলছি নাকি।
- তাহলে তোমার সাথেই থাকি।
- কিন্তুু কেনো।🤨
- ওই রুমে আমার একলা থাকতে ভয় লাগতেছে তাই।😑

- ঐ... চুপ করে আছো কেনো...কিছু তো বলো ।
- আচ্ছা... আমার সাথেই থাকো।
- হি হি... ওকে।

রুমের এদিক ওদিন একটু ভালো করে
তাঁকাইতেই তো আমি হা।

- ঐ আরমান হা করে আছো কেনো।
- না মানে.. দেখছি।
- কী দেখছো।
- তোমার রুম।
- কেনো।
- এমনি.... আর একেই বলে জমিদারের
মেয়ের রুম।
- দূর।

- নীলা.... তোমার কোন তুলনা নাই।
- কোনো।
- তুমি যে এত্ত বড় ঘরের একটা মেয়ে,
তোমারে দেখে বুঝাই যায় না।
আর তোমার মনটা ও চলে।
- চলে মানে।
- চলে মানে... ভালোই.... হি হি।
- আচ্ছা তোমাদের এত্ত গাড়ি থাকতে
তুমি বাসে করে আসলে কেনো।
আর তোমার মা কোথায়।

- আম্মু এই সব কিছুর থেকে আলাদা
থাকে।
- কেনো ।
- কারণ... এই সব জমিদারি, ধন, সম্পদ কোন
কিছুই আম্মুর ভালো লাগেনা...
আম্মু চায় সুন্দর এটা পরিবার নিয়ে।
সাধারণ ভাবে থাকতে,
যেখানে সবাই সবাইকে সময় দিবে
ভালোবাসবে।
কিন্তুু বাবা, আম্মুর ঠিক উল্টো সব সময়
ব্যাস্ত, আমাদের জন্য কোন সময় নেই তার।
এই জন্য আম্মু আমাকে নিয়ে দূরে চলে যায়,
যাতে আমি বাবার মতো না হই।
- ওহহহহহ.... তবে একটা জিনিস ভাবছো।
- কী?
- তোমার বাবা আর মা কিন্তুু দুইজন দুইজনকে
সেই ভালোবাসে.... এজন্য কেউ এখনো
কোন বিয়ে করে নাই।
আর যতসব আমার বাপ মা।
- কেনো... তোমার বাবা, মার আবার কী
হইছে।
- তেমন কিছু না.... দুইটা থেকে চারটা হইছে
এই আর কী।
- মানে।
- ওরে বাপু রে... এইটা ও বুঝো না....🤦‍♂️
দুুইজন দুই দিকে গিয়ে আবার বিয়ে
করছে ।
আর মাঝখানে আমারে দিয়া পাঁচ জন।
- তোমার খুব খারাপ লাগে তাই না।
- দূর...খারাপ লাগবে ক্যান,,
আমার তো আরো গর্ব হয়।
কোন হালাই এমন আছে যে আমার মতো
বাপ মা দুই জনেরি বিয়ে খাইছি।😁
- আরমান.... তুমি না অদ্ভুত।🙃
- হুমমমম.... জানি।😄
হায় হায় কালকে তো আমি সিলেট
যামু..... এখন যদি না ঘুমাই, আর কালকে
যদি সিলেট যাই কীসের ঘুরমো খালি তো
ঘুমে ধরবে।
ঐ নীলা তুুমি নিচে ঘুুমাও
আমি উপরে ঘুমামু।
- আমি নিচে ঘুমাবো।🤨🤨
- হুমমম...সারাজীবন তো উপরেই
ঘুমাইছো।। আজকে একটু
নিচে ঘুমাও কেমন।
বাপ দাদা জমিদার হইলে ও মাঝে
মধ্যে একটু নিচে ঘুমানো লাগে, তা না হলে
পাপ হয়।
এখন এই নাও কম্বল, চাদর আর বালিশ
যাও এখন ঘুমাও.... ট টা টা।
আবার কালকে দেখা হবে।

আর শোনো.... তুমি আর তোমার
আম্মু সত্যি অনেক ভালো।
এবার যাও।

আহা কী নরম.....বিছানা।.....যাই গা কালকে আবার দেখা হয়বো....হি হি হি😁😁😁

চলবে.......😁
কেমন হইছে জানাবেন।
47 Views
4 Likes
1 Comments
4.7 Rating
Rate this:
(3)

মন্তব্য

সকল মন্তব্যগুলো (1)

Reader photo
আরজিনা জামান অথই
09-May-2024, 05:57 PM

খুব ভালো

শ্রী প্রভাশ চন্দ্র
শ্রী প্রভাশ চন্দ্র
10-May-2024, 09:18 AM

ধন্যবাদ 😇