প্রেম আমার (সিজন ২ পর্ব ৩)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
প্রেম আমার
কানিজ ফাতেমা
সিজন-২
পর্ব-৩

রিয়াদ অনেকক্ষণ যাবৎ অফিসের গেটের সামনে পায়চারি করছে মাইশাকে এক নজর দেখার জন্য। রিয়াদ তার হাতে থাকা ঘড়ি টার দিকে তাকালো। প্রায় দশটা বাজতে চলল এখনো পর্যন্ত মাইশা অফিসে এসে পৌঁছালো না। মাইশাকে এক নজর দেখার জন্য রিয়াদের মনটা ছটফট করছে। তার চোখ দুটো রাস্তার দিকে স্থির হয়ে আছে তার কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি টার আসার অপেক্ষায়।

কেউ একজন পিছন থেকে মেয়েলি কন্ঠে রিয়াদকে বলে উঠলো,
-------- আপনি কি কারো জন্য অপেক্ষা করছেন স্যার।

রিয়াদ পিছন ঘুরে তাকিয়ে দেখল সীমা। রিয়াদ এই মুহূর্তে সীমাকে একদমই আশা করে নি। রিয়াদ অনিচ্ছা সত্ত্বেও ছোট করে সীমার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বলল,
-------- কই না এমনিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

রিয়াদের উত্তরটা হয়তো সীমার বিশ্বাস হলো না। কারণ সীমা অনেকক্ষণ যাবৎ দেখছিল রিয়াদ অফিসের গেটের সামনে এপাশ থেকে ওপাশ পায়চারি করছে আর রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে। অবশ্যই সে কারো না কারো জন্য অপেক্ষা করছিল কিন্তু সীমাকে রিয়াদ সঠিক উত্তর না দিয়ে কথাটা এড়িয়ে গেল। তাই সীমার কিছুটা মন খারাপ হলো। রিয়াদ বরাবরই সীমাকে তেমন একটা পাত্তা দেয় না। সেটা সীমা বুঝে কিন্তু কেন যেন রিয়াদের কাছাকাছি থাকতে তার ভালো লাগে। রিয়াদ একবারের জন্য সীমার এই ভালো লাগাটা বুঝতে চায় না। রিয়াদ কবে তার এই ভালো লাগাটা প্রাধান্য দেবে তা একদমই অজানা সীমার।
____________________________________

আরিয়ানের গাড়িটা একটা চেকপোস্টের সামনে এসে থামলো। কিছু পুলিশ চেক পোষ্টে আশা গাড়ি গুলো চেক করছে। মাইশা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে পুলিশের দিকে। মাইশা কেন জানো কিছুটা নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করছে।মাইশার মনে হচ্ছে যেনো এখান থেকে কোন রকমে বের হতে পারলে সে বাঁচে। আরিয়ান কেন যে এই রাস্তা দিয়েই আসতে গেল।

মাইশা কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে আরিয়ানকে বলে উঠলো,
-------- আরিয়ান ভাইয়া গাড়িটা ঘুরিয়ে অন্য রাস্তা দিয়ে নিয়ে চলো।

--------- কেনো

-------- দেখতে পাচ্ছো না সামনে পুলিশের চেকপোষ্ট।

-------- চেকপোস্ট হয়েছে তো কি হয়েছে পুলিশ পুলিশের কাজ করবে। এখানে গাড়ি ঘুরানোর কি আছে।

-------- কি দরকার বলো তো এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার তুমি গাড়ি ঘুরিয়ে অন্য রাস্তা দিয়ে চলো সমস্যা কোথায়।

আরিয়ান আর হাতঘড়ির দিকে তাকালো। মিটিং শুরু হতে আর মাত্র ১০/১৫ মিনিট বাকি। এখন অন্য রাস্তা দিয়ে গেলে ঠিক টাইমে মিটিংয়ে অ্যাটেন্ড করতে পারবেনা। এতে করে তার অনেক বড় একটা প্রজেক্ট হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তাই আরিয়ান গাড়ি না ঘুরিয়ে ওখানেই গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখলো।মাইশা আরিয়ানকে আবারও গাড়ি ঘোরানোর জন্য পিড়াপিড়ি করতে লাগলো। আরিয়ান বুঝে উঠতে পারছে না পুলিশের চেকপোস্ট দেখে মাইশা এমন কেন করছে। ইদানিং মাইশার কিছু কিছু ব্যবহার আরিয়ানকে খুব আশ্চর্য করে। আরিয়ান মাঝে মধ্যেই যেন একটা গোলক ধাঁধার মধ্যে পড়ে যায় মাইশাকে নিয়ে

মাইশা আরিয়ানকে আবারও গাড়ি ঘুরাতে বলল।আরিয়ান এবার কিছুটা বিরক্ত হলো মাইশার উপর।

আরিয়ান মাইশাকে কিছুটা রাগ দেখিয়ে বলল,
-------- এই মাইশা তোর সমস্যা টা কি বলতো। আমি না তোকে মাঝে মাঝে ঠিক বুঝে উঠতে পারি না। এই চেক পোস্ট দিয়ে গাড়ি নিয়ে গেলে তোর সমস্যাটা কি আমি তো সেটাই বুঝতে পারছি না। আর শোন এমনিতেই অফিসের অনেক লেট হয়ে গেছে এখন অন্য রাস্তা দিয়ে গাড়ি ঘোরাতে গেলে আরো লেট হয়ে যাবে।

মাইশা কিছু বলতে যাবে তখনই আরিয়ান থেকে জোরে একটা ধমক দিয়ে বলল,
-------- চুপ কোন কথা বলবি না চুপচাপ বসে থাক।

সামনের গাড়িগুলো চেক করা শেষে একজন পুলিশ আরিয়ানের গাড়ি দিকে এগিয়ে আসলো। পুলিশ আরিয়ানের গাড়ির লাইসেন্স সহ কিছু কাগজপত্র দেখতে চাইলো।আরিয়ান লাইসেন্স আর কিছু কাগজ পুলিশকে বের করে দিলো।পুলিশকে দেখেই মাইশার মুখের আদল কেমন যেন হয়ে গেল। মাইশা তার দুই হাত কচলাতে লাগলো।এসির মধ্যেও মাইশা ঘামতে শুরু করলো।মাইশা এক হাত দিয়ে তার কপালে জমা ঘাম টা মুছে নিলো।

সব কাগজপত্র ঠিক থাকায় চেকপোস্ট থেকে আরিয়ান থেকে গাড়িটা ছেড়ে দিল। মাইশা যেন স্বস্তির একটা নিঃশ্বাস ফেলল।মাইশার প্রতি আরিয়ানের কৌতুহল দিন দিন বেড়ে চলেছে। মাইশাকে কেমন যেন এক রহস্যময় লাগছে আরিয়ান এর কাছে। মাঝে মধ্যেই যেন মনে হয় এটা তার সেই চির চেনা মাইশা নয় মনে হয় মাইশার মতোই দেখতে অন্য কেউ।

______________________________________

আলিয়া তার একটা গল্পের বই খুঁজে পাচ্ছিল না ভাবলেও হয়তো মাইশার রুমে আছে তাই আলিয়া মাইশার রুমে তার বই খুঁজছিল। তখনই আলিয়ার বেখেয়ালে মাইশার টেবিলের উপর থেকে একটা ডায়রি নিচে পড়ে গেল। আলিয়া ডায়রি টা ওঠাতে যাবার সময় ডায়রির ভেতর থেকে কিছু কাগজের টুকরা নিচে পড়ল। মাইশা কাগজের টুকরো গুলো হাতে নিয়ে দেখল তাতে কিছু লেখা। এর সাথে কাগজে সে লেখার পাশে বড় করে লাল চিহ্ন দিয়ে ক্রস আঁকা। আলিয়া বিষয়টা ঠিক বুঝে উঠতে পারল না কি লেখা আর ক্রস চিহ্ন কেন আঁকা।পরে মাইশাকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করবে এই ভেবে মাইশা ডায়রির ভেতরে কাগজের টুকরো গুলো রেখে দিলো। আবার সে বই খুঁজতে শুরু করল।অনেকক্ষণ তার খোঁজার পরেও তার গল্পের বই টা খুঁজে পেল না। তাই সে মাইশার রুম থেকে বেরিয়ে গেল।

____________________________________

সাব্বির কমিশনার অফিসে অনেক চিন্তা আর আতঙ্ক নিয়ে বসে আছে। একজন এসে সাব্বিরকে কমিশনার রুমে ডেকে নিয়ে গেল। সাব্বির কমিশনার রুমে যেয়ে কমিশনার কে স্যালুট করল। কমিশনার হাতে ইশারায় সামনে থাকা চেয়ারে বসতে বলল। সাব্বির চেয়ারে বসে তার হাতে থাকা ফাইল টা কমিশনারের দিকে এগিয়ে দিল। কমিশনার ফাইল টা খুলে কাগজ গুলো উল্টোপাল্টা দেখতে লাগলো।

কাগজ গুলো দেখা শেষে কিছুটা রাগণ্বিত স্বরে কমিশনার সাব্বির কে বলল,
-------- একটা মধ্যবয়স্ক মানুষকে এইভাবে জঘন্য ভাবে মেরে পুড়িয়ে ফেলা হলো আপনার এলাকার পুলিশ কি করছিল। গতকালকে আবারও সেই একই প্যাটার্নে আরো একজনকে খুন করা হলো। এটা আপনার দায়িত্বের নমুনা। এই জবাব আছে আপনার কাছে বলুন।

সাব্বির কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না সে চুপচাপ কমিশনারের কথা গুলো শুনে যাচ্ছিল। তার এলাকায় এই রকম ঘটনা এই প্রথম। এভাবে এরকম খুন খারাবি এর আগে কখনো হয় নি।

কমিশনার তার হাত দিয়ে টেবিলের উপর জোরে একটা বাড়ি দিয়ে বলল,
-------- চুপ করে থাকার জন্য আপনাকে এখানে ডাকা হয় নি।

সাব্বির তার গলাটা ঝেড়ে ঠোঁট টা একটু ভিজিয়ে নিয়ে কমিশনার কে সাবলীল ভাষায় বলল,
-------- স্যার আমার ভালো কাজের যথেষ্ট রেকর্ড আছে। আমি সবসময় মন দিয়ে আমার দায়িত্ব পালন করি। কে বা কারা এইভাবে এই খুনগুলো সংঘটিত করছে তা খুঁজে বের করার জন্য আমাকে কিছুদিন সময় দিন স্যার। আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব আমি এই কেসের সত্যতা উৎঘাটন করে আপনাকে জানাবো এবং আসামি কে আপনার নিকট হাজির করব।

--------- আমি এইসব কথা শুনতে চাই না আমি কাজ দেখতে চাই। যত দ্রুত সম্ভব আমি সেই অপ
অপরাধী কে মিডিয়ার সামনে তুলে ধরতে চাই। যদি অন্যথা হয় তাহলে তোমার এই পুলিশ ডিপার্টমেন্টে থাকার কোন দরকার নেই। এখন তুমি আসতে পারো।

সাব্বির আর কোন কথা না বলে ফাইলটা হাতে নিয়ে কমিশনার কে স্যালুট দিয়ে সেখান থেকে চলে আসলো।

____________________________________

আরিয়ানের গাড়িটা অফিসের সামনে এসে থামলো। গাড়ি থেকে মাইশা নামলো। মাইশাকে দেখা মাত্রই রিয়াদ মাইশার কাছে এগিয়ে আসলো মাইশার সাথে কথা বলার জন্য। ওর সাথে যে আরিয়ান ও ছিল সেটা একদমই খেয়াল করে নি রিয়াদ। কারণ আরিয়ান তখন গাড়ি লক করছিল। রিয়াদ মাইশার সাথে কথা বলতে যাবে সেই মুহূর্তে আরিয়ান আসলো। মাইশার হাত টাকে শক্ত করে ধরে মাইশা কে বলল,
-------- কিরে এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন তোকে না ভিতরে যেতে বললাম ভিতরে চল।

কথাটা বলে আরিয়ান মাইশা কে টেনে অফিসের ভিতরে নিয়ে গেল। রিয়াদ মাইশার সাথে এক মুহূর্ত কথা বলারও কোন সুযোগ পেল না। এতক্ষণ করা তার সমস্ত অপেক্ষা বিফলে চলে গেল।।

মিটিং এর সকল প্রেজেন্টেশন দেখে ক্লাইন্ট আরিয়ানের উপর সন্তুষ্ট হয়ে তাদের সাথে ডিল টা সাইন করে চলে গেল।মিটিং শেষ হবার পর যে যার কেবিনের দিকে চলে গেল। মাইশা নিজের কেবিনে ঢুকতে যাবে তখনই রিয়াদ তাকে পিছন থেকে ডাক দিয়ে বলল,
--------- কেমন আছো মাইশা।

মাইশা পিছনে ঘুরে কিছু না মুচকি হেসে রিয়াদের প্রশ্নের উত্তরে বলল,
--------- এইতো ভালো আছি আপনি কেমন আছেন।

--------- এতক্ষণ ভালো ছিলাম না এখন ভালো আছি।

--------- কেন!

--------- সব কেন র উত্তর দেয়া যায় না কিছু উত্তর নিজের থেকে বুঝে নিতে হয়।

--------- মানে

-------- না কিছু না।

রিয়াদ আর মাইশা দাঁড়িয়ে হেসে হেসে কথা বলছিল। কিছুটা দূর থেকে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন দেখছিল আরিয়ান। আরিয়ানের ইচ্ছা করছিল রিয়াদকে যেয়ে কতগুলো থাপ্পড় বসিয়ে দিতে। ওকে বারবার মানা করা সত্ত্বেও সব সময় মাইশার পিছনে পিছনে ঘুরে। সব সময় সুযোগ খুঁজে কি করে মাইশার সাথে কথা বলবে। পৃথিবীতে কি মেয়ের অভাব পড়েছে যে আমার মাইশার পেছনে পড়ে আছে ও।

আরিয়ান তার পকেট থেকে ফোনটা বের করে দিয়ে দে নাম্বারে ফোন দিয়ে আরিয়ানের কেবিনে আসতে বলল। রিয়াদ দ্রুত করে আরিয়ানের কেবিনের দিকে চলে গেল।

আরিয়ান রাগে ফুঁসছে। রাগে ওর চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। আরিয়ানের ঘাড়ের রগ গুলো তিড়তিড় করছে রাগে। রিয়াদ আরিয়ান এর দরজায় নক করল। আরিয়ান ওকে ভিতরে আসতে বলল।

আরিয়ান রিয়াদের সামনে একটা সাদা কাগজ আর পেন রেখে রিয়াদকে বলল,
-------- এই কাগজের নিচে একটা সাইন করে দিন।

ছাতা কাগজে স্নান করার কথা শুনে রিয়াদ কিছুটা অবাক হল। তাই সে আরিয়ানকে প্রশ্ন ছুঁড়ে বলল,
-------- সাদা কাগজে আমি কেন সাইন করব।

-------- কারণ এখানে আপনার রেজিগনেশন লেটার টাইপ করা হবে।

রেজিগনেশন লেটারের কথা শুনে তো রীতিমত ভড়কে গেল রিয়াদ। সে তো এই অফিস থেকে চলে যেতে চায় এমন কোন কিছু তো কখনো আরিয়ানকে বলেনি তাহলে রেজিগনেশন লেটার কেন দিতে বলছে তাকে।

--------- এই সবের মানে কি স্যার।আমি তো কোনো রেজিগনেশন দিতে চাচ্ছি না।

আরিয়ান পায়ের উপর পা তুলে তার হাতে থাকা কলমটা ঘুরাতে ঘুরাতে বলল,
---------লিসেন মিস্টার রিয়াদ আপনার চাওয়াতে কিছু আসে ও না আর যাইও না। আপনাকে এই কোম্পানি তে দরকার নেই তাই আপনি রেজিগনেশন দিয়ে আজকের ভিতরে এ কোম্পানি থেকে চলে যাবেন।

রিয়াদ তার ভ্রু জুগল কুঁচকে আরিয়ান কে বলল,
--------- এটা কিন্তু ঠিক নয় স্যার আপনি কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার কাছ থেকে রেজিগনেশন নিতে পারেন না।

আরিয়ান আর নিজের রাগটাকে সংযত করতে পারল না। এমনিতে সে মাইশার দিকে হাত বাড়িয়েছে তার উপরে তার মুখে মুখে তর্ক করছে। রিয়াদের এই সাহস যেন আরিয়ানের ভিতরের আগুন তাকে জ্বালিয়ে দিল। আরিয়ান সঙ্গে সঙ্গে উঠে গিয়ে রিয়াদের কলার চেপে ধরে বলল,
-------- আমি এই কোম্পানিতে কাকে রাখবো আর না রাখবো সম্পূর্ণ আমার ব্যাপার কারণ কোম্পানি টা আমার তোর না। আর আমি তোকে অনেকবার সাবধান করেছিলাম মাইশার আশে পাশেও না আসতে। তারপরও তুই বারবার আমার নিষেধ অমান্য করেছিস। তাই তোর মত একজন এমপ্লয়ি আমার দরকার নেই। এই মুহূর্তে এই কাগজের সাইন করে আজকেই তুই এই অফিস থেকে চলে যাবি।

রিয়াদ আরিয়ানের হাতের দিকে তাকিয়ে আরিয়ানের হাত থেকে তার গলাটা ছাড়িয়ে নিয়ে আরিয়ানকে বলল,
--------- আপনি মনে হয় এই কোম্পানির রুলস ভুলে যাচ্ছেন স্যার। এই কোম্পানির রুলস মোতাবেক আপনি আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই কোম্পানি থেকে কোনদিনও বের করতে পারবেন না। আর যদি আপনি এই কোম্পানির রুলস বের করেন তাহলে কিন্তু আমি আপনার বাবাকে জানাতে বাধ্য হব। আর মাইশা আপনার কোন একার সম্পত্তি নয় যে তার সাথে কেউ কথা বলতে পারবেনা।

আরিয়ান রিয়াদকে জোরে চিল্লিয়ে বলল,
--------just shut up. মাই শাকের নাম ধরে একদম ডাকবি না ওকে ম্যাডাম সম্বোধন কর।

------- আমাকে ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে লাভ নেই স্যার আমি যেটা সঠিক সেটাই বলেছি। আমি এই কোম্পানি ছেড়ে কোথাও যাবো না। আর মাইশা আর আমি এই অফিসে একসাথে চাকরি করি মাইশার থেকে আমার পোস্টটা অনেক উপরে তাই সেই সূত্রে মাইশা কি আমি মাইশা বলে ডাকতে পারি।

কথাটা বলেই রিয়াদ আরিয়ানের কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল। আরিয়ান রাগে তার টেবিলের উপর জোরে একটা গুশি মেরে বলল,
-------- তোকে আমি ছাড়বো না।তুই জানিস না তুই কোথায় হাত বাড়িয়েছিস। মাইশা শুধু মাত্র আমার আর কারো নয়।

আরিয়ান তার ফোনটা বের করে একজনকে ফোন দিয়ে কিছু একটা বলল।কথা বলা শেষ করে আরিয়ান তার দিকে তাকিয়ে একটা বাঁকা হাসি দিলো আর মনে মনে আওরালো,
"" মাইশার মনের রাজ্য টা শুধুমাত্র আমার আর কারো নয়।

_______________________________________

বিকালের দিকে অনেক টা মন খারাপ করেই অফিস থেকে বাসায় ফিরলো মাইশা।কারন হঠাৎ আরিয়ান তার সাথে জানি কি রকম ব্যবহার করা শুরু করেছে। গাড়ির ভেতরে আরিয়ান মাইশার সাথে একটা কথাও বলে নি। মাইশা অনেকবার আরিয়ান কে এটা সেটা জিজ্ঞেস করেছে কিন্তু একটা কথার ও উত্তর দেয় নি আরিয়ান। হঠাৎ আরিয়ান কেন মাইশার সাথে এমন করছে সেটাই বুঝতে পারছে না।

কথাগুলো ভাবতে ভাবতে মাইশার চোখ গেল তার টেবিলের দিকে। মাইশার কাছে তার টেবিলটা একটু অগোছালো মনে হচ্ছিল। মাইশা টেবিলের কাছে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে দেখল ডায়রি টা যেখানে রেখেছিল সেখানে নেই অন্য এক জায়গায় রাখা আছে।মাইশা সঙ্গে সঙ্গে ডায়রি টা খুলে কিছু একটা খুঁজতে লাগলো। তার কাঙ্খিত জিনিসটা পেয়ে মাইশা কিছু তো স্বস্তি ফিরে পেলো। মাইশা বুঝতে পারছে না কে তার রুমে আসলো। তবে যেই রুমে আসুক না কেন সে কি এই ডায়রি টা ধরেছে। কথাটা ভেবেই মাইশার চোখে মুখে চিন্তা এসে ভিড় করলো। কারণ এই ডায়রির সাথে এমন কিছু জড়িয়ে আছে যা তার জীবনের থেকে ও মূল্য বান।তাই এটাকে তার যক্ষের ধনের মত আগলে রাখতে হবে।

চলবে.....

572 Views
11 Likes
1 Comments
4.6 Rating
Rate this: