জ্বিনের আছর (Season 1) Episode 7

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
এমন সময় কে যেনো আমার কাধে হাত রাখে আর আমি খুব অসস্তি অনুভব করি আর সেখানেই বেহুশ হয়ে পরে যাই।যখন আমার হুশ আসে আমি নিজেকে আমার বাসায় পাই।আমার তখনও মাথাটা প্রচন্ড ব্যাথা করছিলো। আমার শরীর টাও ব্যাথা করছিলো। উঠে দারাবার বা বসার শক্তি আমার মধ্যে পাচ্ছিলাম না।এমন সময় কাকি বলে উঠেন,,
_মা তর কি হয়েছে বলতো।তুই রাস্তায় বেহুশ হয়ে পরে আছিলি কেন?
_কে যেনো আমার কাধে হাত রাখছিল আর বলতে শুরু করলো তুই শেষ। এর মধ্যেই কি যেনো একটা দেখলাম এবং বেহুশ হয়ে পরে গেলাম।তারপর কি হলো কাকি আমার কিছু মনে পরছে না।
_আচ্চা তুই বিশ্রাম নেয়।সব ঠিক হয়ে যাবে।
কাকি আমার কথাগুলো শুনে খুবই অবাক হলেন।আমার আশে পাশে অনেক মানুষ রয়েছেন।তারা অনেকে বলতে শুরু করলো নিশ্চয়ই মেয়েটাকে জিনের আছর পড়েছে।এসব শুনে কাকি খুব ভয় পান এবং তাদেরকে রুম থেকে বের করে দেন আর অনেক চিন্তা করতে লাগলেন।আমার তখনও কাধে প্রচুর ব্যাথা।মনে হচ্ছিলো আমাকে ১০০ জন কাধে চাপা দিয়ে ধরে রেখেছে।এমন সময় দেখি কাকা আসছেন।কাকা এসেই আমার কাছে চলে আসলেন।এসে যখনি আমাকে ধরলেন আমার থেকে অসস্তি লাগা শুরু করলো। আমি ভাবতে লাগলাম এর আগে তো এমন কিছু ঘটে নি। কাকা আমার এই আচরণ বুঝতে পেরেছেন এবং উনি কিছু না বলেই বাহির হয়ে গেলেন।আমাকে দুপুরে খাবার এনে খাইয়ে দিলেন কাকি।বিকেলে নিজেকে একটু সুস্থ লাগছিল।তাই পড়ানোর জন্য বের হচ্ছিলাম।কাকা কাকি আমাকে বার বার মানা করছিলেন।কিন্তু আমি কারো কথা না শুনেই বের হয়ে গেলাম।যখনি আমি চা বাগানের সামনে যাই আমাকে কে যেনো আবার ডাকা শুরু করলো। আমি পাশে তাকিয়ে দেখি অই মেয়েটাই আমাকে ডাকছে।আমি আবারো সেই মেয়ের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করলাম মনের অজান্তেই। তখন আমার নিজের মধ্যে কোনো প্রকার আওত্ত ছিলো না। মনে হচ্ছিলো কে যেনো আমাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।আমি যতই সামনে এগিয়ে যাই ততই মেয়েটা কাছে আসছিলো। আর তখন রাতে প্রায় ৯টা বাজে।এই সময় কেউ এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করে না। এমন সময় কে যেনো আমাকে পিছনে ডাকছিলো। আমি যেই পিছনে ফিরি এক ছায়ার মতো আমার পাশ দিয়ে চলে গেলো আমার গায়ে স্পর্শ করে এবং আমি অখানে অজ্ঞান হয়ে পরে যাই।পরের দিন আমার চোখ খুললে নিজেকে বিছানায় পাই।আমার পাশে একজন ডাক্তার আর একজন কবিরাজ বসা আছিলো। চারপাশে অনেক মানুষ। হঠাৎ পাশে তাকিয়ে দেখি আমার কাকা আমার পাশে বসে আসেন।এরিমধ্য দিয়ে কবিরাজ আমাকে জিজ্ঞেস করা শুরু করলেন,,,
_মা,তুমি কি কাওকে পছন্দ কর?
এই কথা শুনেই আমি ঘাবড়ে যাই।মনে মনে ভাবতে লাগলাম এসব কি বলছে উনি।আমি মুহুর্তে বলে উঠি,,
_না না আমি কাকে পছন্দ করব।
_তুমি কি কোনো বিড়ালকে নিজের কাছে রাখসিলা বা ওর সাথে অসাভাবিক কিছু হয়েছিলো।
_হ্যা।একটা কালো বিড়ালকে আমি কোলে নিছিলাম এবং ওকে খাওয়েছিলাম।কেনো?
_না কিছু না।
এই বলে কবিরাজ চলে৷ গেলেন তার সাথে ডাক্তার এবং এলাকাবাসিও চলে গেলেন।কাকাকে কেমন যেনো দেখাচ্ছিলো। হয়তো উনি কিছু লুকাচ্ছে।কিছু জিজ্ঞেস করবো এর আগেই কাকাও চলে গেলেন।কাকি বললেন,,
_মা তুই বিশ্রাম নে আমি তর জন্য দুধ নিয়ে আসি।
_আচ্চা কাকি।
আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম আমার সাথে হচ্চেটা কি?

এমন সময় জানালায় আমার চোখ যায় আর দেখি জানালা বেয়ে কে যেনো উপরে উঠে যাচ্ছে।আমি চিল্লান দিবো এমন সময় এক অচেনা হাত আমার মুখ চেপে ধরেছে।আমি খেয়াল করতেই দেখলাম এটা আর কেউ না ওই ছেলেটা। কিন্তু সে এখানে কি করছে।আমি ওকে দেখে বলতে লাগলাম,,,
_এখানে কি আপনার তাও আবার আমার রুমে?
সে কিছু বললো না শুধু মুচকি হাসি দিতে লাগলো।
_কি হলো বোবা হয়ে গেলেন নাকি।
তাও সে কিছু বললো না শুধু হেসেই যাচ্ছে মুচকি ভাবে।শেষ পর্যন্ত সে মুখ খুলে এবং বলে,,,,
_আপনাকে অনেক সুন্দর লাগছে।
_এই কথা বলার জন্য আপনি মুখ খুলছেন।
সে আবারো হাসা শুরু করলো। তারপর বললো,,,,
_আপনি চুল খোলা রেখে কোথাও যাবেন না।
_আপনি আমাকে এসব বলার কে?
_কেউ না।এই নেন আপনার জন্য আমি পায়েস নিয়ে আসছি।এই নেন আমার হাতে আপনি খেয়ে নেন।
এই বলেই সে আমার পাশে বসে আমাকে খাওয়াতে চাচ্ছিলো।আর আমি এখনো তাকে ওই রাগ দেখানো শুরু করলাম। তখন সে আমাকে ধমক দিয়ে খাওয়ানো শুরু করলো। আর বলতে লাগলো,,,,
-যতদিন আপনি ঠিক না হন আমি আপনাকে প্রতিদিন এসে দেখে যাবো। আর আমি দেখি আপনাকে সুস্থ করে তুলার কোনো উপায় পাই নাকি।
--আপনি জানেন কিভাবে আমি অসুস্থ?
--আমাকে বলা লাগে না আমি সবসময় আপনার দিকে নজর দিয়ে রাখি।
--মানে??আর আমার কি হয়েছে বলেন না প্লিজ?
--কিছু না।
--প্লিজ বলেন না হয় আপনার সাথে কথা নাই কোনো সময়।
_আপমি তো অনেক জিদ্দি।
_হুম বলেন কি হয়েছে?
_জীনের আছর পড়েছে আপনার উপর।
_মানে কি বলেন এসব?
এমন সময় কাকি বলে উঠেন,,,,
_মায়া দরজা লাগিয়েছিস কেন? দরজা খুল।
আমি পাশে ফিরে ছেলেকে যেতে বলব তার আগেই ছেলেটা কোথায় যেনো চলে গেলো।

চলবে,,,,,,,

লেখকঃইয়াসিন আরাফাত মুবাশশির।
812 Views
28 Likes
8 Comments
4.3 Rating
Rate this: