প্রেম_আমার
কানিজ_ফাতেমা
সিজন_২
পর্ব_১
নিস্তব্ধ রাত, জনমানব শূন্য হীন পিচ ঢালা রাস্তায় প্রাণপণে ছুটে চলেছে এক যুবক।তার চোখেমুখে এক আতঙ্ক। সে দৌড়াতে দৌড়াতে যেন আর দৌড়াতে পারছে না তার দম বন্ধ হবার উপক্রম। তার পা গুলো তাকে আর দৌড়ানোর শক্তি জোগতে পারছে না।নেশায় সে বুঁদ হয়ে আছে নেশায় ঢুলুঢুলু অবস্থা। নির্জন এক জায়গায় এসে তার পা দুটো থমকে গেল। সে তার দুই হাত হাঁটুতে চেপে ধরে বড় বড় করে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
হঠাৎ তার দেহটা মাটিতে লুকিয়ে পড়ল। পিস ঢালা রাস্তা টা রক্তে গড়াগড়ি খাচ্ছে। কারো কাছে সে বাঁচার জন্য আকুতি মিনতি করছে। ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে আছে এক অগান্তুক।অগান্তুকের ছুরি টা যেন তার রক্ত চাইছে।রক্তের পিপাসায় যেনো কাতর হয়ে আছে অগান্তুকের হাতে থাকা সেই ছুরি টা।
হুঁ হুঁ করে রাত বেড়ে চলেছে।সবাই ঘুমের মধ্যে নিজেদের কর্ম বিরতি পালন করছে।বাহিরে যতো দূরে চোখ যায় চারি দিকের পুরো পরিবেশ টা ঘুটঘুটে অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে আছে।
রাতের সেই অন্ধকার ঠোঁটে একটা জলন্ত সিগারেট নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে আরিয়ান।চোখে কোন ঘুম নেই তার।মাথায় তার ভাবনার পাহাড়।আর তা শুধু মাইশা নিয়েই।মাইশার সেই চাহনি যেনো এখনো চোখে এসে ধরা দিচ্ছে আরিয়ানের। কিছুতেই সেই চাহনি ভুলতে পারছে না আরিয়ান।আরিয়ান তার ফোনটা বের করে গ্যালারি তে যেয়ে মাইশার ছবি গুলো দেখছে একটার পর একটা।৫ বছর আগে যে মাইশা কে রেখে সে পাড়ি জমিয়েছিল সুদূর আমেরিকায় ৫ বছর পরে এসে সেই মাইশার সাথে যেন এই মাইশার কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছে না আরিয়ান।এতো দিন ব্যাপার টা এরিয়ে গেলেও আজ কোনো যেন ব্যাপার টা এরিয়ে যেতে পারছে না আরিয়ান।
আরিয়ানের মনে অনেক প্রশ্ন ঘুরঘুর করছে। আরিয়ান অনবরত সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছে।বারান্দায় এপাশ থেকে ওপাশ পায়চারি করছে।
আরিয়ান মন নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে বলছে,
------- মাইশা তো এমন ছিল না। হঠাৎ কেনো এমন হয়ে গেল ও।এই মাইশা কে যেন আমি চিনেই উঠতে পারছি না কিন্তু কেনো।
কিন্তু এর কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না আরিয়ান।
পরক্ষনে তার ভাবনা তাকে জানান দিলো,
''''সে মাইশা কে খুব বেশি ভালোবাসে তাই হয়তো এই সব উদ্ভট চিন্তা ভাবনা তার মাথায় আসছে। হয়তো সময়ের সাথে সাথে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
তাই আরিয়ান চিন্তা ভাবনা থেকে নিজেকে বের করে গিয়ে শুয়ে পড়ল।
________________________________
টপ টপ করে ছুরি থেকে রক্ত পড়ছে।মাটিতে পড়ে আছে সেই যুবকের নিথর দেহ।হুড্ডি পড়া পুরো মুখমণ্ডল কালো মুখোশে আবৃত করা একজন তার হাতে থাকা ছুরির রক্তের দিকে তাকিয়ে এক পৈশাচিক হাসি দিলো সে।ছুরি সহ কিছু জিনিসের পেট্রোল ঢেলে সেটা তে আগুন লাগিয়ে দিলো। তার চোখের সামনে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে যাচ্ছে সব।
সেই আগুনের দিকে তাকিয়ে হাঁটু গেড়ে সেখানে বসে চিৎকার দিয়ে কেঁদে বলে উঠে বলল,
""তোর রক্তে আমার প্রতিশোধ…
যা ঘূর্ণায়মান সময়ের মতোন,
যা আরো হিংস্রতার সাথে
ফিরে এসেছে আমার হৃদয় গহীনে'''।
কাজের প্রেসারে আর দুশ্চিন্তায় সারারাত ঘুমাতে পারে নি সাব্বির। সকাল ছয়টার দিকে মাত্রই ঘুমের সাথে খুব জোরালো একটা সখ্যতা গড়ে উঠেছিল সাব্বিরের। খুব সুন্দর একটা স্বপ্নে বিভোর হয়েছিল সে। সুন্দর এক মায়াবী মুখ যেন তাকে হাতছানি দিয়ে ডাক ছিলো। খুব চেনা পরিচিত সেই মুখটা। স্বপ্নের মধ্যে তাকে তাকে ছোঁয়ার বৃথা চেষ্টা করছিল সাব্বির। হঠাৎ ভোঁ ভোঁ শব্দে ভাইব্রেশন করে তার মুঠো ফোনটা বেজে উঠল। চোখে মুখে একরাশ বিরতির ছাপ নিয়ে কোন রকমে চোখটা খুলে ঘুমঘুম চোখে তাকালো মোবাইলের দিকে দেখলো ত্রিপল নাইন থেকে ফোন এসেছে।
সাব্বির অনেকটা রাগ নিয়ে দাঁত দিয়ে তার নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরেছে। চোখ মুখ খিচে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বিরক্ত ভরা কন্ঠে বিড়বিড় করে বলল,
-------- এই ট্রিপল নাই টা কে আবিষ্কার করেছিল। এর কোনদিনও কোন বুদ্ধি শুদ্ধি হবে না। দিল আমার এত সুন্দর স্বপ্নের বারোটা বাজে।
সাব্বির ফোনটা ভোঁ ভোঁ শব্দে ভাইব্রেশন হয়ে বেজেই চলেছে। অনেকটা বিরক্ত নিয়ে ফোনটা রিসিভ করল সাব্বির। ফোন রিসিভ করার সাথে সাথে ওই প্রান্ত থেকে পুরুষালি কন্ঠে একজন কনস্টেবল বলে উঠলো,
--------- আসসালামু আলাইকুম স্যার। আপনার থানা এলাকায় লেকের পারে একটা পোড়া লাশ পাওয়া গেছে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।
কথাটা শোনা মাত্র সাব্বিরের মাথায় যেন বাজ পড়লো। আবারও একটা পোড়া লাশ। আফজালের মৃত্যুর তদন্ত শেষ হলো না আবার একটা লাশ পড়লো একি জাগায়।
সাব্বির নিজের ফোনটা বিছানার উপর ছুঁড়ে ফেলল। মনের ভিতর প্রচন্ড পরিমাণ রাগ নিয়ে বলল,
-------- মনে হয় পুলিশের চাকরি নেই নি যুদ্ধক্ষেত্রের নাম লিখিয়েছি। ঘুম, শান্তি আমার জীবন থেকে যেন বিদায় নিয়ে চলে গেছে।
তবে যাই হোক সাব্বির এইটুকু বুঝতে পারছে যে, এটা কোন সাধারণ মানুষ হতে পারে না। অবশ্যই এক ধরনের সাইকো আর নয় সিরিয়াল কিলার।
সাব্বির তার ফোনটা তুলে নিয়ে থানায় ফোন করে বলল,
--------- দ্রুত ফোর্স রেডি কর লেকের পাড়ে যেতে হবে একটা পোড়া লাশ পাওয়া গেছে।
সাব্বির তার সুন্দর স্বপ্নটা সম্পূর্ণ দেখতে না পাওয়ার কষ্ট আর আরামের ঘুমটা হারাম হয়ে যাওয়ার রাগ মনের মধ্যে পুষে রেখেই ফ্রেশ হতে চলে গেল।
______________________________
প্রায় আধঘন্টা ধরে দরজার বাহির থেকে দরজায় ধাক্কা দিয়ে মাইশা কে ডেকে যাচ্ছে আলিয়া। কিন্তু মাইশার কোন সাড়া শব্দ নেই। এদিকে আরিয়ান তো রাগের লাল হয়ে যাচ্ছে মাইশার এমন কর্মকাণ্ড দেখে।আজকে অফিসে এক ক্লাইন্টের সাথে অনেক বড় একটা মিটিং আছে আর মাইশা এক প্রকারের যেন ঢং শুরু করেছে আজ।আরিয়ান আর নিজের রাগটাকে কন্ট্রোল করতে না পেরে নিজের রুম থেকে বেরিয়ে মাইশার রুমের দিকে চলে গেল।মাইশার রুমের সামনে গিয়ে দেখল আলিয়া এখনো পর্যন্ত মাইশার দরজা ধাক্কিয়ে যাচ্ছে কিন্তু মাইশা দরজা খুলছে না।
আরিয়ান কিছুটা গম্ভীর গলায় আলিয়াকে বলল,
--------- কিরে মাইশা এখনো দরজা খুলছে না।
-------- নারে ভাইয়া দেখ না সেই কখন থেকেই ডেকে চলেছি ওতো দরজায় খুলছে না।ভাইয়া আমার মনে হয় কি ও মনে হয় ওয়াশরুমে গেছে।
--------- আধঘন্টা ধরে ওর দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে ওকে ডাকা হচ্ছে।ও আধঘন্টা ধরে কি ওয়াশরুমে মশা মাছির সাথে গল্প করছে।
আলিয়া বুঝতে পারছে তার ভাইয়ের মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। আলিয়া তার ভাইকে শান্ত করে বলল,
-------- মাথা গরম করিস না ভাইয়া।
আরিয়ান আলিয়া কে সরিয়ে দিয়ে দরজার বাহিরে থেকে কিছুটা জোরে চেঁচিয়ে উঠে বললো,
------- মাইশা আমি শেষ বারের মতো তোকে বলছি এই মুহূর্তে যদি দরজা না খুলিস আমি কিন্তু দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকবো তারপর যে কি করবো তা তুই ভাবতেও পারছিস না মাইশা।
কিন্তু ভিতর থেকে কোনো রেসপন্স এলো না।আলিয়া তো চরম ভাবে চিন্তায় পড়ে গেল।ও কিছু টা চিন্তিত হয়ে বলল,
------- ভাইয়া মাইশা কখনো তো এমন করে না ওর আবার কিছু হলো না তো।
এবার আরিয়ানের ও সত্যি চিন্তা হচ্ছে।এতো গুলো ডাক দিলো ওরা ২ জন কোনো রেসপন্স আসছে না কেন।গত কালকে সবাই মিলে ওকে অনেক কথা শুনিয়েছে।তবে কি মাইশা ভুলভাল কিছু করে বসলো।না আরিয়ানের মাথা কাজ করছে না। আরিয়ান দরজা ভাঙার সিদ্ধান্ত নিলো। দরজায় জোরে ধাক্কা দেবার জন্য আরিয়ান কিছুটা পিছিয়ে গেল।
আলিয়া আরিয়ান কে বাঁধা বলল,
-------- এই ভাইয়া এই কি করতে যাচ্ছিস তুই।
আরিয়ান আলিয়ার কথায় কোন পাত্তা না দিয়ে দরজা ধাক্কা দিতে যাবে সেই মুহূর্তে মাইশা দরজা খুলে দিল। আরিয়ান হুড়মুড় করে যেয়ে ধাম করে মাইশার উপর পড়ে গেলো।আলিয়া এমন কান্ড দেখে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে।
সঙ্গে সঙ্গে মাইশা জোরে চেঁচিয়ে বলে উঠলো,
------- ওমা গো বাঁচাও গো আমার কোমর টা ভেঙে গেলো গো।
আরিয়ান মাইশার মুখ চেপে ধরে বলল,
-------- চুপ একদম চুপ। কতক্ষণ ধরে ডাকছিলাম তোকে দরজা খুলেছিলি না কেনো।
মাইশা কথা বলতে না পেরে উম উম করছিল।
মাইশা কথা বলছে না দেখে আরিয়ান মাইশা কে ধমক মেরে বলল,
-------- কি রে কথা বলছিস না কেন?
মাইশা আরো জোরে উম উম করতে লাগলো। মাইশা তার এক হাত দিয়ে আরিয়ানের হাত টা তার মুখ থেকে সরিয়ে বলল,
-------- তোমার কি বুদ্ধি শুদ্ধি সব লোপ পেয়েছে আরিয়ান ভাইয়া।
আরিয়ান চোখ গরম করে বলল,
-------- কি বললি তুই।
-------- ঠিকই তো বলেছি। তুমি তোমার হাত দিয়ে আমার মুখ চেপে ধরে রেখে ছিলে তাহলে আমি কথা বলবো কি করে।আর শোনো আমি ওয়াশ রুমে ছিলাম তাই শুনতে পাই নি।
-------- তুই আধঘন্টা ধরে ওয়াশ রুমে কি তুই মশা মাছির সাথে গল্প করছিলি
-------- আমি যাই করছিলাম তুমি এটা কি করছো বলো তো এবার তো আমার উপর থেকে উঠো।
আরিয়ানের বিষয় টা খেয়ালই ছিলো না। তাড়াতাড়ি করে আরিয়ান মাইশার উপর থেকে উঠে গেল। তখনই মনে পড়লো এখানে তো আলিয়া ও ছিলো। আরিয়ান আলিয়ান দিকে ঘুরে তাকাতেই আলিয়া অন্য দিকে তাকিয়ে বলল,
-------- হ্যাঁ মা আসছি। ভাইয়া মা ডাকছে আমি গেলাম।
আলিয়া ওখান থেকে দৌড়ে চলে গেল। আরিয়ান নিজের গাঁ,হাত পা ঝাড়তে ঝাড়তে বলল,
-------- ৫ মিনিটের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করতে আসবি মনে থাকে যেনো।Only 5 minutes ok.
কথা টা বলে আরিয়ান পকেটে হাত দিয়ে ওখান থেকে চলে গেল।আরিয়ান চলে যেতেই মাইশা অন্য রকম একটা হাসি দিলো।
___________________________________
এদিকে সাব্বির সেই ঘটনা স্থলে গিয়ে আশে পাশে অনেক ঘোরা ঘুরি করেও কোনো ধরনের আলামত সংগ্রহ করতে পারল না। খুনি লোক টাকে খুন করে আগুন দিয়ে সমস্ত আলামত জ্বালিয়ে দিয়েছে। সাব্বির খুব ভালো করে দেখে বুঝতে পারল খুনের প্যাটার্ন টা ঠিক একই রকম।আফজাল কে যেভাবে যে জায়গায় খুন করা হয়েছিল এই লোকটা কে ও ঠিক সেই জায়গায় সেভাবে খুন করা হয়েছে।
সাব্বিরের সাথে আসা এক কনস্টেবল রিমন এসে সাব্বিরকে একটা অর্ধ পুড়ে যাওয়া আইডি কার্ড তার হাতে দিয়ে বলল,
---------স্যার এটা আগুনে পুড়ে যাওয়া জিনিস গুলোর সাথে পাওয়া গেছে।
সাব্বির আইডি কার্ড টা হাতে নিয়ে ঘুরি ফিরিয়ে অনেকক্ষণ দেখলো কিন্তু আইডি কার্ডের অনেকাংশ পুড়ে যাওয়াতে তেমন কিছু বোঝা যাচ্ছে না।
সাব্বির আইডি কার্ড টা পুনরায় রিমনের হাতে দিয়ে বলল,
-------- এই আইডি কার্ডের কিছু ফটোকপি করবে বিভিন্ন থানায় পাঠিয়ে দাও।। আর খবরের কাগজে নিউজ করার জন্য পাঠিয়ে দাও যদি কেউ জেনে থাকে অবশ্যই ওর খোঁজ নিতে আসবে।
এর মধ্যেই আশেপাশে লোকজন আর মিডিয়াতে ভরে গেছে। মিডিয়ার লোকজন সাব্বিরকে প্রশ্ন করছে, ""এই রকম পরপর দুইটা খুন। পুলিশের তদন্ত কতদূর এগিয়েছে তারা কি করছে। কেন এই খুনিকে খুঁজে বের করতে পারছে না।
সাব্বির তাদের প্রশ্নের উত্তরে বলল,
-------- দেখুন তদন্ত কোনো লুডু খেলা নয় এখন খেলতে বসলাম কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ফল পাওয়া যাবে। সময় লাগবে আমরা সময় মত আপনাদেরকে সম্পূর্ণ টা জানাবো।
সাব্বির সম্পূর্ণ কাজকর্ম শেষ করে লাশ টাকে মর্গে পাঠিয়ে দিলো।
_____________________________________
নাস্তার টেবিলে বসে সবাই নাস্তা করছিল। রেহানা বেগম সবাইকে নাস্তা পরিবেশন করে দিলেও মাইশা কি দিচ্ছে না।মাইশা বুঝতে পারছে তার মামী তার ওপরে এখনো রেগে আছে। মাইশা এটা বুঝতে পারছে না সে ভুল কি করেছে। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে তার যা করা উচিত ছিল সে তো তাই করেছে এ কারণে তো ভুলের কিছু নেই।
আরিয়ান অনেকক্ষণ যাবৎ বিষয়টা খেয়াল করছে কিন্তু কিছুই বলছে না।
রেহানা বেগম আরিয়ান এর কাছে এসে আরিয়ানকে জিজ্ঞেস করল,
-------- আরিয়ান তোর কি কিছু লাগবে।
আরিয়ান নাস্তা মুখে দিতে দিতে তার মা কে উত্তর দিল,
-------- মা তোমার সবার প্রতি খেয়াল আছে কিন্তু মাইশাকে খাচ্ছে বা না খাচ্ছে ওর কিছু লাগবে কিনা সেই দিকে তো তোমার কোন খেয়ালই নেই। এটা কি ঠিক হচ্ছে মা।
আরিয়ানের কথা শুনে রেহান বেগম কিছুটা রাগ দেখিয়ে বলল,
-------- দেখ আরিয়ান আমি তোর মা তুই আমার মা না। সুতরাং কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল আমাকে শেখাতে আসবি না।
--------- মা তুমি এইসব কি বলছ বলতো কি দোষ করেছে মাইশা যে তুমি ওর সাথে এরকম ব্যবহার করছ।
-------- আরিয়ান এত কিছু হয়ে যাবার পরেও তুই এমন কথা কি করে বলছিস।
-------- প্লিজ মা যা হবার হয়ে গেছে এটা নিয়ে আর কোন টানা হেচরা করো না।
-------- টানা হেচরা যা করার অনেক আগেই করা হয়ে গেছে।
আজমত সাহেব তার স্ত্রীকে থামিয়ে বলল,
-------- আহ কি করছো টা কি থামো এইবার।
-------- বাহ্ যার দোষ তাক কিছু না বলে আমাকে থামাতে এসেছো তুমি।উঠাও উঠাও লাই দিয়ে দিয়ে ভাগ্নি কে আরো মাথায় উঠাও।
কথা বলে রাগে গজগজ করতে করতে রেহানা বেগম ওখান থেকে চলে গেলেন।মাইশার যেনো আর গলা দিয়ে খাবার নামছে না।সে অনাথ হাতে পারে কিন্তু তার একটা সেলফ রেসপ্কেট আছে।
চোখ ফেটে তার কান্না আসছে। সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে মাইশা নিজেই নিজেকে বলল,
"" না আমি কেন ভেঙে পড়ছি আমাকে ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। চোখের পানি ঝরায় ভিতু রা আমি ভীতু নই। আমার উদ্দেশ্য আর আমার পথ এখন একটাই সেদিকেই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।
মুহূর্তের মধ্যে মাইশার চোখের কোণে জমে থাকা পানির জায়গায় যেনো অন্যরকম কিছু জেগে উঠলো। মাইশা তার দু হাতের মুঠি শক্ত করে তার চোখ জোড়া বন্ধ করে বড় একটা নিঃশ্বাস নিল। সেই নিঃশ্বাস টা যেন মাইশার মনে নতুন কিছুর সঞ্চার করল। নতুন এক শক্তি নতুন এক দিগন্তের পথে ধাবিত হচ্ছে তার মন।যা অদম্য যাকে আটকে রাখার সাধ্য কারো নেই।
চলবে
প্রেম আমার (সিজন ২,পর্ব ১)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
2.06K
Views
18
Likes
5
Comments
4.0
Rating