পিচ্চি বউ(পর্ব 8)

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:

কী দাদী তুমি একে এইটা শিখাইছ।(আমি)
--এই ছেমড়ি আমি কী তোকে তাই বলেছিলাম।বলছি একটা করিস আর একটা।(দাদী)
--ওমা তুমি না কাল রাতে বললা বাইরে গেলেই স্বামীর পায়ে সালাম করতে হবে।জান দাদী আমার না মনে ছিল না।টয়লেটে গেছিলাম যখন তোমার কথাটা মনে পড়েছে টয়লেট করা রেখে দৌড়ে এসে সালাম করলাম ভাল করছি না।(পিচ্চি)
--হ খুব ভাল করেছিস মনে হয় ও না তুই একবারে চলে যাচ্ছিস যেভাবে দৌড়ে এসে সালাম করলি।(দাদী)
--কেন দাদী তুমি না কাল বললা বাইরে গেলে ই সালাম করতে তাই তো করলাম হি হি।(পিচ্চি)
--আমি মা র দিকে তাকালাম।দেখছ মা এইটা কার সাথে বিয়ে দিয়েছ যে এখন কিছু বুঝে না।এর সাথে সারাজীবন কেমনে কাটাব(চোখ দিয়ে বললাম)
--আমি ঠিক করছি তুই টেনশন করিস না।(মা)
--😠😠😠😠।(আমি)
--কী ওমন করে তাকিয়ে আছেন কেন খেয়ে ফেলবেন নাকী হি হি।(পিচ্চি)
--দাত কটমট করছি এই পরী চল।(আমি)
--একটা কথা শুনুন না।(পিচ্চি)
--আবার কী হইছে।আমি)
--কানে কানে একটা কথা আছে।(পিচ্চি)কানের কাছে এসে
--বাবা আছে কিছু বলতে পাড়বেন না হি হি।(পিচ্চি)
--জানি আর এ জন্যই বেচে যাস।এই পরী চল।বোনকে নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম ৭ দিন পড় আজ অফিসে যাচ্ছি।(আমি)

--ভাইয়া ভাবীটা কিন্তু অনেক ভাল।(বোন)
--ভাবী মানে কোন ভাবী।(আমি)
--কেন তোর বউ আমার ভাবী।অনেক শান্ত সরল অনেক ভাল একটা মেয়ে।তুই কিন্তু চাইলে ভাবীকে গুছিয়ে দিতে পাড়বি।
--মনে কী বলছিস কেমনে।
--এই দেখ ভাবীকে যে যা বুঝায় তাই করে।তুইয়ো সারাক্ষণ বুঝাবি দেখবি কিছুদিন পড় সব ঠিক হয়ে যাবে।
--হুম ঠিক বলেছিস এবার থেকে তাই করব।এই যা মড়ছি কী করব এখন।
--কী হইছে ভাইয়া আমার বান্ধবী কে দেখে ভয় পাইছিস।কিছু বলবে না আমি দেখছি।
--না তুই রিকশা থেকে নেমে যা এখানেই ওর এসব ভাদাইমা কথা আমার ভাল লাগে না।এই টুকু তুই হেটে যা।
--আরে দুড় কিছু হবে না চল তো এই মামা আপনি যান।

গেটে এসে।

--আরে আকাশ ভাইয়া কেমন আছেন।তা শুনলাম আপনার বউ নাকী আবাল ইস রে বেচারার অবস্থা দেখছিস হি হি।(বান্ধবী)
--এই মেয়ে তুমি কিন্তু বেশি কথা বলতিছ।(আমি)
--এই পরী তোর ভাইটার মুখ খিদায় কেমন যানি হয়ে গেছে তোর ভাবী খেতে দেয় না নাকী।কতবাড় করে প্রফজ করলাম রাজি তো হন নাই উল্টে আরো আমার মা কে বলে দিছেন।আমাকে বিয়ে করলে আজ আর এ দিন দেখতে হত না।আমার বদ দোয়া কাজে লেগেছে কেমন হি হি।(বান্ধবী)
--এই তোরা কী শুরু করলি এমনি ভাইয়া আসতে চায় না তোদের জ্বালায়।(বোন)
--এই মামা যাও তো।বাদর একেক টা এত ছোটতে এত পেকে গেছে।না জানি কার কপালে এরকম দজ্জাক বউ আছে।সালা সকাল সকাল মেজাজ টা খারাপ করে দিল দুড়।অফিসের সবাই আমাকে দেখে খুশি হল সবাই আমাকে অনেক ভালবাসে।অফিসে সবাই বন্ধুর মত। ম্যানেজার এসে কথা বললো এক এক করে সবার সাথে কথা বলে কাজ করতে লাগলাম।

--(আমার পাশের কলিগ বন্ধু ও বটে)তা বাসর রাত কেমন কাটালা হুম।(রাজু)
--আর বাসর রাত রে ভাই। খুব প্যারার দেয় ভাই বউ।(আমি)
--কেন কী হইছে একটু বল তো।
--তাড়পড় ওকে সব খুলে বললাম।
--হা হা হা সত্যি এমন বউ কয়জনার কপালে জুটে।
--হাসা বাদে কোন সলিশন থাকলে বল আমি মড়ি আমার জ্বালায় আর উনি হাসছে।কত কষ্টে যে রাতগুলো পাড় করছি তুই কেমন বুঝবি।পাশে বউ থাকতে কিছু করতে পাড়ি না।আমর মনে হয় সারাজীবন এমন হয়ে পাড় করে দেওয়া লাগবো।
--আরে তোর তো কপাল ভাল বেটা সকাল বেটা ঘড় ঝাড়ু দেওয়া লাগে না।বউয়ের কাপড় ধুয়ে দেওয়া লাগে না।রান্না করে বউকে বাবু খাও খাও তুমি না খেলে আমিও খাব না।সকাল বিকাল রাতে বউয়ের পা টিপে দেওয়া লাগে না।মাসাজ করে দেওয়া লাগে না।রবীন্দ্র সংগীত বলে বউকে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া লাগে না ভাই(নরম সুরে বললো)
--এই সালা তো ছেলে নামের হিজরা।বউয়ের কথায় ওঠে বসে।ওর তো মেডিকেল করা লাগবে।কোন সালাই এসব কাজ করে বল।
--ওইটা আমারি বউ রে ভাই।(জড়িয়ে কেদে দিল)
--কী তোর বউ।
--জী ওটা তের বউ কথাটা শুনে গলাটা শুকিয়ে গেল বউ এমন হয় হাইরে।
--হুম রে। তুই তাও বেচে গেছিস তোর বউ কিছু বুঝে না।জানিস সেদিব রবীন্দ্র সংগীত বলতে বলেছে।আমি তো পাড়ি না এ সময়ে কি কেউ ওসব শোনে বল।বউকে না শোনালে নাকী ঘুস আসবে না।কী করব হঠাৎ করে মনে পড়ে গেল আমি গাইতে শুরু গেল।
--কী তুই রবীন্দ্র সংগীত পাড়িস।তা কী গাইছিলি বল একটু শুনি।
--আমি কী পাড়ি নাকী।আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসী।বলার সাথেই পাছায় একটা লাথি দিয়ে বলে তোকে কী আমি জাতীয় সংগীত বলতে বলেছি।
--হা হা হায়রে বউ। যাইহোক সারাদিন কাজ করে বাসার দিকে রওনা দিলাম।কলিং বেল দেওয়ার সাথে পিচ্চি এসে দড়জা খুলেই।

--হি হি হি।(পিচ্চি)
--হাসছিস কেন কী হইছে।(আমি)
--আপনার শ্বাশুড়ী আসছে আর বলেছে জামাই অফিস থেকে আসার পড় আমার মেয়ের জন্য কী নিয়ে আসে এইটা দেখবে।তা ভাইয়া কী নিয়ে আসছেন।
--এই যে দেখছিস হাত আর পা নিয়ে আসছি শড় এখন।
--ওই শোনেন না।
--কী হইছে।
--কিস করলে কী হয়।
--মজা হয়।
--আমাকে একটু শিখাবেন।
--তুই শিখে কী করবী।
--আমি সবাইকে কিস করব আর মজা নিব হি হি।
--তাই না ওকে তাহলে যাও তোমার মা কে আগে একটা কিস করে মজা নাও।
--সত্যি বলছেন আচ্ছা যাচ্ছি।
--হুম যা আমারো খুব দেখার ইচ্ছে। এবল আবাল মার্কা মেয়েকে আমার হাতে তুলে দিয়ে খুব মজাই আছে আজকে ওর সম্নন সব শেষ করবে হি হি(মনে মনে)আর একটু আগুতেই পিচ্চি কাছে এসে।
--ভাইয়া কিস কিভাবে করব আর কোথায় কোথায় কটব এইটা একটু বল(কানের কাছে এসে)
--এই তো সুযোগ আয় এই সাইডে আয়।আড়ালে নিয়ে গিয়ে ঠোঁটের সাথে ঠোট লাগিয়ে দিলাম ওমনি পিচ্চিটা লাফ দিয়ে উঠলো করেন্টের শক খাওয়ার মতন।দু হাত দিয়ে শাট দুটো শক্ত করে চিমটি দিয়ে ধড়ল।এত সুন্দর লাগতিছে ওমাই গড এই প্রথম কোন মেয়ের অনুভৃতি পেলাম ছাড়তে মন চাইছে না।কী আশ্চর্য পিচ্চিটা কিছু বলছে না কেন।একটু পড় ছেড়ে দিয়ে।ভাল লাগে নি।
--ভাইয়া এটা তুমি কি করলা।আমি যদি আবার প্রেগনেট হই তখন আমি তোমাকে মেড়ে ফেলবো।
--সমস্যা নেই ঔষধ খাওয়াব তাহলে ঠিক হয়ে যাবে।
--সত্যি দৌড়ে এসে উম্নাহহহ গালে দিল।আমার খুব ভাল লাগছে যাই মা কে দিয়ে আসি।
--এ তো ওর মায়ের সাথে ঠোট লাগাবে যে পাগলী মেয়ে।এই দাড়াও দাড়াও।তুমি তোমার মা কে কপালে গালে থোতনায় কিস করবা ওকে।
--ওকে আপনিও আসেন পিছে পিছে দেখবেন হয় কী না হয়।
--হুম চল আমি তোমার পিছনে পিছনে।আর এই শোন ভুলেও কখন বলবা না যে এটা আমি তোমার শিখিয়েছি।
--আমি কী ওতই বোকা সবাইকে বলব হা।আপনি শুধু দেখে যান না।আসেন

ওর পিছনে পিছনে যেতে লাগলাম।এই কিস করার ভৃতটা এর মাথাই কে ঢুকে দিল পাগলী একটা।বাবা মা আর আমার শ্বাশুড়ী বসে গল্প করছে। আমাকে দেখে শ্বাশুড়ী উঠে কিছু বলতে যাবে ওমনি পিচ্চি দৌড়ে গিয়ে ওর মা র কাছে গিয়ে।

--এটা হল কপাল উম্নাহহহহ এটা হল ডান গাল উম্নাহহহহ এটা হল বাম গাল উম্নাহহ এটা হল থোতনা উম্নাহহহ হি হি মা তোমাকে ভাল লাগে নি।।(পিচ্চি)
--এটা কী হল এরকম কেন করলি।( শ্বাশুড়ী)
--মা কিস করলাম ভাল লাগে নি তোমায়(অভিমানী সুরে)

ইয়েস প্রতিশোধ উঠেছে দেখ কেমন লাগে আমার গাধে মেয়েকে তুলে দিয়ে গায়ে হাওয়া খেয়ে বেড়ানো কেমন লাগে মান সম্নান সব শেষ করছি হি হি।(মনে মনে লাড্ডু ফুটছে)

--একদম থাপ্পড় দিব একটা ভাল লাগবে কেন হা দিন দিন বেয়াদব হইছিস না।( শ্বাশুড়ী)
--ভাইয়া কি শিখিয়ে দিলেন মায়ের তো ভাল লাগে নি ও থুক্কু আপনি তো বলতে বাড়ন করেছিলেন আর কাহকে বলবা না প্রমিজ।(পিচ্চি)

এইরে খায়ে ফেললো মান সম্নান আবার আমার সব খেয়ে ফেললো।এজন্য তোরে আমি বিশ্বাস করতে চাইনি সালী।

--মনে ও তোকে কি শিখাইছে।(মা)
--আরে মা উনি তো আমাকে। ওমনি আমার দিকে তাকিয়েছে।(পিচ্চি)
--😠😠।(আমি)
--মা দেখছেন দেখছেন কিভাবে তাকিয়ে আছে আপনি তো আমায় শিখিয়েছেন আবার চোখ গড়ম করে তাকিয়ে আছে।

আর কিছু না বলে রুমে চলে আসলাম।মান সম্নান সব খেল সালীর কথা মনে হয় পেটে আটকে থাকে না মেজাজ খারাপ এখন কি মনে করবে নি।অন্যদিকে

--কি হল যা জামাই অফিস থেকে আসলো গিয়ে একটু কথা বল এখানে বসে পড়লি কেন।( শ্বাশুড়ী)
--বাবা আমি রুমে যাব না ভ্যা ভ্যা।(পিচ্চি)
--কেন রে মা কি হইছে।(বাবা(
--রুমে গেলে উনি আমার দিকে চোখ লাল করে তাকার আর খুব বকে আমায়।(পিচ্চি)
--আচ্ছা তুমি যাও আমি ওকে বকা দিব নি আর কখন ওমন টা করবে না তোমার সাথে।(বাবা)
--সত্যি বলছ তো।(পিচ্চি)
--হুম যাও তুমি রুমে যাও ও আসলো দেখ ওর কি লাগবে।(বাবা)
--ওকে কিন্তু বকা দিলে আমি কিন্তু আর এ বাড়িতে থাকবো না বলে দিলাম।(পিচ্চি)
--ওকে ঠিক আছে।বাবা)
--বাবা তুমি খুব ভাল।(পিচ্চি)

আমি ফ্রেশ হয়ে একটু শুয়ে পড়লাম ভাল লাগতেছিল না।একটু পড় দেখি শ্বাশুড়ী আর পিচ্চি আসলো।

--কেমন আছ বাবা।(শ্বাশুরী)
--জী ভাল আপনি কেমন আছেন।
--আমিও ভাল।দেখ বাবা আমার মেয়েটা একটু বোকা টাইপের আসলে ছোটবেলা থেকে একটু শাসন দিয়ে বড় করেছি তো কখন কারো সাথে মিশতে দিতাম না যেন কোন খারাপ কাজে লিপ্ত না হয়।তাই ও একটু এমন হইছে সকল বাবা মা চাই তার সন্তান ভাল থাকুক।আমার একটা মাএ মেয়ে তাই একটু বেশি কেয়ার করতাম।তুমি ওর কাজে তেমন কিছু মনে কর না বাবা।
--আরে কী বলছেন মা কখনই আমি কিছু মনে করি না।আর আপনি ঠিক কাজই করেছেন সকল বাবা মা এমনি হওয়া উচিত আর এর মত মেয়েকে পাওয়া সত্যি অনেক কষ্টকর।
--হুম বাবা তুমি একটু মানিয়ে নিয়ো।আমি আসি এখন।

চলে গেল শ্বাশুরী।

--আপনার কী কিছু লাগবে।(পিচ্চি)
--লাগবে মানে কী লাগবে।
--বাবা যে বললো আপনার নাকী কি লাগবে।আচ্ছা বাবার থেকে শুনে আসি কি লাগবে।

কেমন ডা লাগে গাধীর বাচ্চা।

(Next......)
738 Views
22 Likes
0 Comments
4.1 Rating
Rate this: