জ্বিনের আছর (Season 1) Episode 6
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
_তোমার হয়তো ভুল হচ্ছে আপু।আমি কালকে রাতে অনেক তারাতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
আমি খুব অবাক হয়ে ভাবতে লাগলাম _তাহলে কালকে রাতে আমার সাথে কে ছিলো। আমি কি সপ্ন দেখছিলাম তাহলে।মনের মধ্যে নানান প্রশ্ন আসতে লাগলো।
যাই হক আমি সকালের নাস্তা শেষ করে বারান্দায় গেলাম পাখিগুলোর খাবার দেয়ার জন্য। আচমকা দেখি আমার একটা পাখি মরে পড়ে আছে।আর এর গায়ে আচড়ের দাগ।আমি ভাবতে লাগলাম এখানে তো কোনো পশু আসে না তো এভাবে আমার পাখিকে মারলো কে? আমার খুব খারাপ লাগা শুরু করলো। আমি আমার পাখিটাকে কবর দিলাম।এর এক ঘন্টা পর আমার পাখিগুলো খুব চিৎকার করা শুরু করলো। আমি দেখতে গেলাম আর দেখি একি ভাবে আমার আরো দুটি পাখি মরে পড়ে আছে। আমি খুব চিন্তায় পরলাম।এর আগে তো এমন কিছু ঘটে নি।আজকে কেন ঘটে যাচ্ছে।আমি এই ব্যাপার আমার কাকিকে জানালাম। কাকিও খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন।আসলে হচ্ছে টা কি? আমি গত রাতের ঘটনা গুলো কাকিকে খুলে বললাম।কাকি খুব অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।কাকি বলতে লাগলেন,,,
_মায়া মা তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন?
_কেমন দেখাচ্ছে কাকি?
_কেমন যেনো অসুস্থ অসুস্থ লাগছে তোকে? কিহইছে মা তোর? তোর কি ঠান্ডা লাগলো?
_নাতো কাকি।আমি তো পুরো পুরি ঠিক আছি।
_না মা কিছুতো হয়েছে।চল তোকে ডাক্তার দেখিয়ে নিয়ে আসি।
_আরে কাকি বস তুমি।আমার কিছুই হয় নি।আমার মাথা ব্যাথা করছে আমি একটু রেষ্ট নেই।
এই বলে আমি আমার রুমে চলে আসলাম।ভাবতে লাগলাম কাকি হঠাৎ এমন বলা শুরু করলো কেন?আমি রুমে গেলাম একটু৷ বসলাম।আমার মনে হতে লাগলো খুব ভারি কিছু আমার কাধে ভর করে আছে।আমি উঠে দারাবার শক্তি পাচ্ছিলাম না।আমি ব্যাগ এ ওষুধ খুজতে লাগলাম ব্যাথার।এমন সময় অই রুমালটা আমার হাতে আসে।আমি রুমালটা হাতে নিতেই ঘ্রাণ টা নাকে আসতে লাগছে। আমি কখন ঘুমিয়ে যাই আমি নিজেও যানতে পারলাম না।ঘুম যখন ভান্গলো খেয়াল করলাম কালো বিড়ালটি আমার কাধের পাশে বসে আছে।আচমকা দেখে খুব ভয় পেয়ে যাই।আমাকে দেখতেই কালো বিড়ালটি জানালা দিয়ে চলে গেলো। আমার হাতে তখনও রুমালটা ছিলো। আমি পড়াতে যাওয়ার জন্য রেডি হলাম।আজকে পড়ানো তারতারি শেষ করলাম।আসতে আসতে সন্ধ্যা নেমে যায়।যখন সন্ধ্যা নামে আমি ঠিক চাবাগানের সামনে।মনে হলো কে যেনো আবারও আমার নাম ধরে ডাকছে। আমি এদিক অদিক তাকিয়ে দেখলাম একটি অল্প বয়স্ক সুন্দরী একটা মেয়ে আমাকে ডাকছে।
_আপু আমি না রাস্তা খুজে পাচ্ছি না।আমাকে এই ঠিকানা চিনিয়ে দিবা।
খেয়াল করে দেখলাম এই ঠিকানা আমার বাসার পাশেই।আমি বললাম,,,
_ওকে আপু আমি চিনি চলো তোমাকে নিয়ে যাই।তাছাড়া তুমি এই রাতে চাবাগানে কি করছ।তুমি জানো না যে রাত করে চা বাগান যে ভালো না।
_জানি আপু।আমাকে মনে হলো কে যেনো ডাকছে।আপু আমার পা আটকে আছে।তুমি কাছে এসে আমার পা চুটাতে সাহায্য করবা প্লিজ।
আমি মনে মনে ভাবলাম এই সন্ধ্যা করে চাবাগান এ যাবো। কিন্তু এই মেয়েটা সমস্যায় আছে।কিছু হবে না যাই।এই বলে যেই আমি চা বাগানের দিকে পা বাড়াতে লাগলাম অমনি কে যেনো আমার হাত ধরে টান দিলো।আমি পিছনে ফিরে দেখি সেই বদমাইশ বেয়াদব ছেলেটা।
_আমার হাত ছাড়ুন।
_হে ছাড়ছি কিন্তু আপনি এই রাত করে চা বাগানের দিকে কথায় যাচ্ছেন?
_আপনার জেনে কোনো লাভ নেই।
_আজবতো আপনি কি জানেন না যে চা বাগান খারাপ জায়গা।অইদিন রাতে কি হলো ভুলে গেসেন যখন শপিং শেষ করে আসছিলেন।
_আপনি জানেন কিভাবে?আর একটা মেয়ে বিপদে আছে।আমার যাওয়া লাগবে বাধা দিবেন না প্লিজ।
_এখানে তো কোনো মেয়ে নেই।
আমি পিছনে ফিরে দেখলাম আসলেই এখানে কেউ নেই।তাহলে ওই মেয়েটা কে আছিলো।
_দেখেন এখন আপনার একা যাওয়াটা ঠিক হবে না।চলেন আমি আপনাকে দিয়ে আসি।
_লাগবে না আমি একাই যেতে পারব।
_দেখেন আপনি বুঝতাছেন না আপনার ক্ষতিও হতে পারে এখন।আর অইদিনের ব্যবহারের জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি।প্লিজ আমার কথা মানেন।
_আমি আপনাকে অনেক ভালো ভাবছিলাম।কিন্তু আপনি অইদিন যা করলেন আমি কোনোদিনো ভুলবো না।আপনি আপনার রুমালের জন্য এমন করছিলেন।এই নেন আপনার রুমাল।আমার পিছু আর করবেন না।এই বলে আমি তাকে রুমালটা দিয়েই চলে আসলাম।সে বার বার আমাকে ডাকা শুরু করলো অন্তত রুমালটা যাতে নেই।কিন্তু আমি একবার যেটা বলি সেটা করি।আমি চলে আসলাম।আসার সময় মনে হলো কে যেনো আমার কাধে হাত রেখেছে এবং বলছে এখন আমার জন্য অনেক সুবিধা করে দিলি।আমি সাথে সাথেই পিছনে তাকালাম দেখলাম কেউ নেই।আমি খুব ভয় পেলাম হাতটা কে রাখছিল। আবার যখন হাটা শুরু করলাম আবার এক মহিলা কন্ঠে জোরে জোরে হাসতে লাগলো আর বলতে লাগলো এবার তুই শেষ। আমি তোকে আর ছাড় ছিনা।আমি খুব ভয়ে বলতে লাগলাম
_কে ওখানে? আর কি চান?
_তুই আমার জীবন থেকে আমার স্পেশাল মানুষকে নিতে চাস না এবার তুই নিজেই আমার বন্দি হয়ে থাকবি।
_আমি কাকে নিতে চাই।আপনি যেই হন আপনার কোনো ভুল হচ্ছে আপু।
_ভুল না এবার তুই দেখবি।
আমি যখনি পিছনে ফিরি দেখি ওই মেয়েটা যার সাথে কিছুক্ষন আগে আমার দেখা হয়েছিলো সে হাসছে আর আমার দিকে এগিয়ে আসছে।পরনে সাদা শাড়ি।চুল ছাড়া। আমি খুব ভয় পেলাম।এমন সময় কে যেনো আমার কাধে হাত রাখে আর আমি খুব অসস্তি অনুভব করি আর সেখানেই বেহুশ হয়ে পরে যাই।
চলবে,,,,,,,
লেখকঃইয়াসিন আরাফাত মুবাশশির
893
Views
29
Likes
6
Comments
4.3
Rating