জ্বিনের আছর (season 1) Episode 5

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
এমন সময় কাকার আবার ফোন আসলো তাকে এবার আবার ১৫-২০দিনের জন্য শহরে যেতে হবে।কাকা এবার হঠাৎ আমাকে বললেন
_মা তুই কিন্তু সাবধানে থাকিস।
আমি মনে মনে ভাবলাম রাকিব অসুস্থ অথচ রাকিবকে কিছু না বলে কাকা আমাকেই কেন বললেন।যাই হক,আমি কাকাকে বললাম
_আচ্চা কাকা যাও। এর পর কাকা বিকালের দিকে রওনআ দেন।এদিক দিয়ে খেয়াল করে দেখলাম রাকিব আস্তে আস্তে সাভাবিক হচ্ছে।দেখে আমার এবং কাকির অনেকটা শান্তি লাগলো। আমি আবারো প্রতিদিনের মতো করে বিকেলে পড়ানোর জন্য বের হলাম।আজকেও রুমালটা নিয়ে বের হলাম।ভাবলাম ছেলেটাকে পেলে ফেরত দিবো। কিন্তু এবারো ছেলেটাকে পেলাম না।কিন্তু আজকেও চা বাগানে অদ্ভুত ঘটনা ঘটে গেলো আমার সাথে।যখনি আমি চা বাগান দিয়ে হেটে আসছিলাম মনে হলো কে আমার খুব কাছ থেকে পিছু নিচ্ছে। আমি বার বার এদিক ওদিক তাকাচ্ছি কিন্তু কাওকে পাচ্ছিলাম না।আমি যখন একটু খেয়াল করলাম দেখলাম কে যেন খুব রাগের সাথে কান্না করছে।আর শুধু বলছে ওকে ছেড়ে দে নাহয় খুব খারাপ হয়ে যাবে।আমি এই কথা শুনে খুব ভয় পেয়ে গেলাম।আমি তারাহুরো করে বাসার দিকে পা বাড়ালাম কিন্তু আমি সামনে এগিয়ে যেতে পারছিলাম না।এমন সময় রুমালের ঘ্রান আমার নাকে চলে আসলো।এর মধ্যে আচমকা ওই কান্নার আওয়াজ আর শুনতে পেলাম না। আমি মনে মনে ভাবলাম _কি চলছে এসব আমার সাথে।আমি খুব দ্রুত বাসায় চলে আসলাম।বাসায় এসে যেই ঘরে প্রবেশ করলাম দেখলাম আমার সামনে কালো বিড়ালটা দাঁড়িয়ে আছে। আর আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে হয়তো সে আমার উপর অনেক রাগ আর আমাকে কিছু বলতে চায়।
আমি তখন বলে উঠলাম,,,
_কিরে কি ব্যাপার এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন? কিছু বলতে চাস।
যখনি এই কথা বললাম সে৷ এক লাফে আমার গায়ে উঠে যায়।আমি প্রচন্ড ভয় পাই এবং ওকে নিছে নামানোর জন্য ধাক্কা দেই এবং চিল্লাতে থাকি।এমন সময় কালো বিড়ালটাও ওই জায়গা থেকে চলে যায়।আমার রুমে কাকি দৌড়ে আসেন এবং বলেন,,
_কি হয়েছে মায়া এমন চিল্লাতে লাগলি কেন?
_কিছু না কাকি।এমনেই একটু ভয় পেয়ে গেছিলাম এই আর কি।
_যে কোনো সমস্যা হলে আমাকে বলিস মা।
_আচ্চা কাকি।
এই বলে আমি আমি ফ্রেশ হতে যাই।যখন আসি দেখি আমার কাধে কার যেনো হাতের ছাপ।আমি খুব চিন্তায় পারি যাই।কেননা আমাকে এভাবে তো কেউ হাত দে নি।আর হাতের ছাপ অনেকটা লাল হয়ে আছে।পুরো পাচ আন্গুলের দাগ বসে আছে।আর এই জায়গা প্রচন্ড ভার লাগছিলো আর ব্যাথাও করছিলো। যাই হক আমি রাতের খাবার খেয়ে যখন শুতে আসলাম তখন আমার ব্যাথা আরো বারতে শুরু করলো। আমি তাই রাকিবকে ডাক দেই।রাকিব আসে এবং আমার কাধে টিপে দিতে লাগে।
আজ তাকে অনেকটা অন্যরকম লাগছিলো। আমি রাকিবকে বললাম,,,
_কিরে তোর শরীর এর কি অবস্থা? জর কমছেতো নাকি?
_হুম ভালো।(একটু গম্ভীর ভাবে)
_কিরে এভাবে কথা বলছিস কেন?
_কিছুনা।ওই কালো বিড়ালটাকে আজকে দেখছি না যে?
_আজকে জানি নারে কি হলো। কেমন যেনো করছিলো তারপর আবার চলে গেলো।
_চলে গেসে নাকি তাড়িয়ে দিসো।
_তাড়াবো কেন?চলে গেসে।
_কেন তুমি তো ওরে নিচে নামিয়ে দিলা।
_তুই জানলি কেমনে?(একটু অবাক হয়ে জিগ্যেস করলাম)
_না এমনেই যাই হক বাদ দাও।আজকে আসার সময় কি কিছু ঘটছিলো নাকি?
_তুই এসব জিজ্ঞেস করছিস হঠাৎ?(প্রচুর অবাক হলাম)
_না কিছু না আপু ঘুমাবো আমি যাই।
এই বলে রাকিব খুব দ্রুত চলে গেলো। আমি অনেক আচ্শর্য হলাম।যাক রাতে এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে উঠে দেখি রাকিব আমাকে ডাকছে।
আমি ঘুম থেকে উঠে রাকিব কে বললাম,,,,
_কিরে তুই এখানে?
_হুম দুপুর ১২টা বাজে এখনো ঘুম হয় নি তোমার?
_কি বলস এত্তোখন হয়ে গেসে।
আমি আগে কখনো এত্তো বেশি ঘুমাই নি।আজকে এত্তো দেরি কেন হলো বুঝলাম না।আমি রাকিবকে বললাম,,,
_কিরে কালকে তোর কি হয়েছিলো?
_কই কিছু নাতো।
_কালকে রাতে আমার রুমে এসে অনেক অদ্ভুত কথা বলছিলি তুই।
_কি বলো আপু? মাথা ঠিক আছে? আমি তো কালকে রাতে তোমার রুমে আসি নি?
_তুই তো এসেছিলি।আমার কাধে মালিশ করে দিলি।
_তোমার হয়তো ভুল হচ্ছে আপু।আমি কালকে রাতে অনেক তারাতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

চলবে,,,,,,,,
914 Views
31 Likes
5 Comments
4.3 Rating
Rate this: