জ্বিনের আছর ( season 1) episode 4

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:

আমি তারাহুরো করে ফ্রেশ হয়েই তৈরি হলাম কাকার সাথে মার্কেটে যাবো বলে।আমি আর রাকিব খুব ভালো মতো করেই জামা কিনেছি আজকে।আমরা ২ জনই খুব খুশি,কারন অনেকদিন পর আজকে কাকার সাথে বাহিরে বের হয়েছিলাম।আমরা বাহিরে নানারকম জিনিস খাই।আসতে আসতে রাত ১০টা বেজে যায়।তখন আমরা চা বাগানের সামনে দিয়েই যাচ্ছি।হঠাৎ মনে হল কে যেন আমার পিছু করছে এবং আমাকে ডাকছে।আমি এই কথা আমার কাকাকে জানালাম। কাকা বললেন_হয়তো তর ভুল এখানে আমরা ৩ জন ছাড়া আর কেউই নেই।আমিও তখন ভাবলাম হয়তো অতিরিক্ত ঘুরাঘুরির কারনে এমন হচ্ছে।কিছুদূর যাওয়ার পর আবারো একি ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।আমার প্রচুর ভয় হচ্ছিলো এবার। মনে হলো ঠিক আমার পিছনে রয়েছে।আমি এবার পিছন তাকাই।এবং আমি অবাক হই কারন সেখানে কেউ নেই।আমি এবার প্রচুর পরিমানে ভয় পাই।

আমি যতই সামনে এগিয়ে যেতে থাকি ততই মনে হচ্ছে কেউ আমার খুব কাছে অবস্থান করছে।কাকা আমার এইসকল আচার আচরন দেখেন এবং বলেন
_কিরে মা, তর কি কোনো সমস্যা হচ্ছে?
_না কাকা কিছু না চলেন আমরা বাসার দিকে তারাতাড়ি যাই।
_মানে?কি বলস এসব আমরা তো অনেক আগেই বাসার সামনে এসে পরলাম তুই তো কেমন যেনো করছিস।আবার বলস চল তারাতাড়ি বাসায় যাই। তর কি হইছে মা? আমাকে বল।
আমি খেয়াল করে দেখলাম আমরা ঠিকি আমার বাসার সামনে।তাহলে এত্তোক্ষন কি চলছিল আমার সাথে? আমি খুব ঘাবড়ে যাই।আর এখনো আমার মনে হচ্ছে কে যেন আমার পাশে। আমি বাসার গেটে ঢুকবো এমন সময় দেখি অয় ছেলেটা আমার বাসার সামনে দিয়ে যাচ্ছে।আমি খুব অবাক হলাম সে আমার বাসার সামনে কি করছে।তাকে তো সবসময় চা বাগানের সামনে দেখি।আমি খেয়াল করলাম সে আমাকে দেখে মুচকি একটা হাসি দিলো এবং ইশারায় সালাম প্রদান করলো। তার এই আচার-আচরণ দেখে আমার কেমন যেনো ভয়টাও কেটে গেলো। আমিও ইশারায় তার সালামের জবাব নিলাম।কাকাকে কিছু বুঝতে দেই নি। কারন হয়তো এতে উনি খারাপ ভাবতে পারেন।

যাই হক আমি ঘরের ভিতর ঢুকলাম।ঘরে ঢুকে আমি ফ্রেশ হলাম।ফ্রেশ হতে গিয়ে লক্ষ করলাম আমার হাতে কেমন যেনো দাগ লক্ষ করা যাচ্ছে।আমি খুব অবাক হয়ে ভাবতে থাকলাম এই দাগটা কোথা থেকে আসলো। এমন সময় জানালার বারির আওয়াজ শুনলাম।কিন্তু আমি খুব অবাক হলাম কারন বাহিরে কোনো বাতাস নেই।আমি খুব ভয় অনুভব করলাম। আমি ভয়ে ওয়াশ্রুম থেকে বের হয়ে রুমে গেলাম। সেখানে আরো একটি অবাক করার মতো বিষয় আমার চোখে পরল।কেননা কালো বিড়াল টা সেখানে উপস্থিত ছিলো। আমি কালো বিড়ালকে লক্ষ করে বললাম_কিরে তুই কোথায় চলে গিয়েছিলি। আমার তর জন্য অনেক চিন্তা হচ্ছিল। এমন সময় রাকিব আমার রুমে আসে।সে এসে কালো বিড়ালকে দেখে প্রথমত ভয় পেয়ে যায়।
_আরে ভয় পাসনে এটা আমার বন্ধু।
_একটা বিড়াল তেমার বন্ধু কিভাবে হতে পারে আপু?
_কেন হতে পারে না?
_না পারে। পারবে না কেন? এই বলে সে কালো বিড়ালটাকে কোলে তুলে নিলো।সে কাকা কাকির সাথে কালো বিড়ালটাকে পরিচয় করিয়ে দিলো। আমরা সবাই এক সাথে খাবার খেলাম। তারপর যে যার রুমে ঘুমাতে চলে গেলাম। আমি রুমে গিয়ে যখন আমার ব্যাগে হাত দেই তখন অই রুমালটা আমার সামনে পরে। আমি মনে মনে বলি_অই ছেলের রুমালটা তো ফেরত দেয়া হলো না।এমন সময় রুমাল থেকে খুব সুন্দর একটা ঘ্রান আসছিল।এই ঘ্রানে যে কেউ প্রেমে পড়ে যাবে। আমি রুমালটা হাতে নিয়ে দেখছি এমন সময় খেয়াল করলাম বিড়ালটা এই রুমাল তার কাছে নিয়ে পা এর নখ দিয়ে আচড় দিচ্ছিলো। আমি চেয়েও রুমালটা তার থেকে নিতে পারছিলাম না।

যাই হক আমি রুমালটা তার কাছ থেকে কেড়ে নিলাম।দেখি রুমালটা বেশ ময়লা হয়ে গেছে।আমি রুমালটা ধুবার জন্য নিয়ে গেলাম।রুমালটা ধোয়ার পড়েও অই ঘ্রানটা কেমন যেনো রয়ে গেলো। আমি মনে মনে ভাবলাম শুকালে হয়তো ঘ্রান টা চলে যাবে। তাই আমি বারান্দায় তা বালাতে দিয়ে আসলাম এবং আমার পাখিগুলোকে দেখে আসলাম। তারপর আবারো বিড়ালটাকে বোলে ঘুমাতে দিলাম এবং আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। যথারীতি আমি ঘুম থেকে উঠে দেখলাম বিড়াল টা নেই। আমি বারান্দায় যখন যাই দেখি রুমালটাও সেখানে নেই। আমি মনে মনে ভাবলাম রুমালটা কে নিলো। আচ্চা যাই হোক একটা রুমালই তো কিনে দিলাম ছেলেটাকে। এমন সময় কাকি ডাক দিলেন মায়া,,,,,মায়া,,,,,এদিকে আয়,,,
_জ্বী কাকিমা ডাকলা
_দেখতো রাকিবের কি হলো। কেমন যেনো দাতে দাত লাগিয়ে আছে এবং অনেক জ্বর।(কাকি খুব চিন্তায় বলছিলেন)
_সে তো কালকেও সুস্থ আছিলো। আজকে হঠাৎ কি হলো। কাকাও তো বাসায় নেই।
সারাদিন রাকিবের সেবা যত্নে দিন চলে যায় এবং বিকালে পড়াতে চলে যাই।রাতে যখন ফিরছিলাম চা বাগানের সামনে আবারও অই ছেলের সাথে দেখা। ছেলেটা আমাকে বলে উঠে
_আমার রুমালটা কোথায়?
_এমন সময় আমি একটু ঘাবড়ে যাই এবং বলতে থাকি রুমালটা তো গত রাতে হারিয়ে গেছে।
_কি!!!!!!😡 একটা রুমাল আপনি রাখতে পারলেন না? এটাও হারিয়ে ফেলছেন।
_আজব তো,,একটা রুমালের জন্য এভাবে চেতার কি আছে?😡 কালকেই আপনি আপনার রুমাল নিয়ে যেয়েন।😡
এই বলে আমি সেখান থেকে চলে আসলাম। বাসায় যখনি ঢুকবো এমন সময় দেখি ঢ্রেনে অই ছেলের রুমাল পড়ে আছে। আমি রুমালটা নিয়ে ধুয়ে আমার কাছেই রেখে দিলাম পরেরদিন দিব বলে।এদিকে রাকিবের শরীর এর অবস্থা আগের মতই রয়ে গেলো। যাই হক এর পরের দিন আমি আবারও পড়ানো শেষ করে যখন আসছিলাম তখন আর অই ছেলেকে দেখতে পেলাম না।মনে মনে বললাম _বেয়াদব ছেলেটা কোথায় গেলো? আজকে আর দেখাই নেই।এই বলে বাসায় চলে আসলাম।মনে মনে ভাবলাম_
_ছেলেটাকে কতই না ভালো ভাবছিলাম কিন্তু একটা রুমালের জন্য আমার সাথে কি ব্যবহার করলো। তাকে একবার পেলে তার রুমালটা দেয়ার পর আর কোনোদিনো কথা বলব না। এমন সময় কাকার আবার ফোন আসলো তাকে এবার আবার ১৫-২০দিনের জন্য শহরে যেতে হবে।

চলবে,,,,,,,
লেখকঃইয়াসিন আরাফাত মুবাশশির
904 Views
32 Likes
4 Comments
3.5 Rating
Rate this: