পিচ্চি বউ (পর্ব 5)
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
ভাইয়া আপনি এত বোকা এত গাধা কেন বলেন তো হি হি।(পিচ্চি)
--মানে তুই কি বলতে চাচ্ছিস।(আমি)
--ছোটবেলায় ওখান থেকে কত রস খেয়েছেন সব ভুলে গেছেন। আপনার মাথার মধ্য তো গোবর ছাড়া কিছু নেই। আমার মাথায় কত বুদ্ধি দেখেছেন সব মনে আছে হি হি।
--এই সালি গাধার বাচ্চা তোকে কতক্ষণ আগে বলছি পানি দিতে।কথা বলতে বলতে আমাকে কী মেড়ে ফেলবি নাকী।বেশি কথা না বলে আগে পানি দে মড়ে গেলাম।(হাফাতে হাফাতে)
--মড়লে তো ভালই হত তাহলে আর দুজনে ঘুমাতে হত না।একা একা আগে কত সুন্দর করে ঘুমাতাম(।আস্তে আস্তে বলছে কিন্তু আমি শুনছি)
--কী কী বললি।
--দাড়ান দাড়ন আমি পানি নিয়ে আসছি।দৌড়ে চলে গেল।
--একটু পড় পানি খেয়ে।তুই আমাকে এভাবে দৌড়ায়ে নিলি কেন বল।
--আব্বু ভ্যা ভ্যা।
--এই থাম গাধীর বাচ্চা সারক্ষন আব্বু আব্বু কিরস কেন এখানে আব্বু কোথা থেকে আসলো বল বলছি।
--আসলে অনেক দিন হলে দৌড়ানো হয় না তো পায়ের পাতা দুটো উসখুস করতেছিল কাল থেকে তাই আজকে একটু দৌড়ে নিলাম।আগে আমি প্রতিদিন দৌড়াতাম।(চোখ মুছতে মুছতে)
--তোর দৌড়ানের ইচ্ছে হইছে তুই দৌড়ালি না কেন সালী।আমাকে সাথে নিয়ে দৌড়ালি কেন জীবনের তো ১২ টা বাজিয়ে দিয়েছিলি আজকে।আর ওই লোকটা কে।
--কোন লোকটা ভাইয়া।
--যে লোকটা আমাদের দৌড়ানি দিল।আর একবার যদি তুই আমাকে ভাইয়া ডাকস ঠাস করে চড় মেড়ে দিব।
--আব্বু গালে হাত দিয়ে।
--কি হল বল ওই লোকটা কে।
--হি হি আরে ওই লোকটা তো ওগুলো দেখাশোনা করে।
--ওও সালা এমন দৌড় জীবনেও দেই না।ফ্রেশ হয়ে সবাই মিলে নাস্তা করতেছি।হঠাৎ
--আচ্ছা মা ওনাকে এত আদর করে খাওয়ানের কি আছে ওনার কী হাত নেই সব খাবার ওনাকে খেতে হবে।এই যে ভাইয়া থুক্কু আপনি কী রাক্ষস সব গুলো খাবার একাই খাবেন।(পিচ্চি)
সবাই😁😁😁
--না না আমি কেন সবগুলো খাব তোমার জন্য আছে তো আমাদের বাসায় যে রাক্ষসের মত খাইছ আমি কি কিছু বলেছি তোমায়।রাজরানীর মত বসে বসে(যেহুতু আগে থেকেই এই বাড়িতে আসি আমি কোন লজ্জা করলাম না সবাই আমার আপনজন)
--কী আমি ওখানে রাজরানীর মত ছিলাম ভ্যা ভ্যা আম্নু।(পিচ্চি)
--আরে কাদিস কেন থাম তোরা এই নে নীলা আমি তোকে খাইয়ে দিচ্ছি।(মা)
--খাচ্ছে আর আমার দিকে তাকাচ্ছে।আমি তাকাতেই জিহ্বা বেড় করে ভ্যাাাাাাাাা।(পিচ্চি)
--আমিও কম কিসে দিলাম একটা মেয়েদের মতন মুখ ভেঙ্গচি😏।(আমি)
--ও মা গো কেমনে করলেন। আবার করেন তো আমি তো পাড়ি না।(পিচ্চি)
এই খাইছে এখন কি করি সবার সামনে মান সম্নান সব শেষ করে ফেলবো বাচাও কী করি।
--কী পাড়িস না কাকে কি বলছিস।(মা)
--মা উনি ঠোট দুটো এরকম এরকম যা আমার হয় না।ভাইয়া আর একবার দেখান না সবাই দেখুক।(পিচ্চি)
--কী কী দেখাব(মাইড়ালা আমারে কী করব এখন)
--করুন না 😏এইরকম আমার তো একটা যায় আপনার টা সুন্দর হয়।(পিচ্চি)
আমি আর কিছু না বলে নিচের দিকে হয়ে খেতে খেতে লাগলাম কথা বাড়ালে আবার কোন ঝামেলা লাগাবে।
--এই চুপ করে সবাই খাও তো। এই নীলা তুইয়ো চুপ থাক।( বড় মামা)
মামাকে দেখে সবাই ভয় করে সবাই চুপ হয়ে গেল।রুমে এসে শুয়ে ফেসবুকে ঢুকলাম পিচ্চিটা একটু রেডি হচ্ছে কেন।কী কোথাও যাবে নাকী।
--হুম মার্কেটে যাব একটু।
ওহ যাক বাচা গেল একটু শান্তিতে ঘুমাবো আজকে আহা একটু পড়
--ভাইয়া আপনাকে রেডি হয়ে আসতে বললো মার্কেটে যাব একটু আপু তুইয়ো আয়।( বড় মামার মেয়ে)
--চলেন রেডি হয়ে নেন।(পিচ্চি)
সবাই মিলে মার্কেট করতে রওনা দিলাম।গ্রাম থেকে শহরে আসতে ৩০ মিনিট সময় লাগলো।য়ে যার মত কেনাকাটা করতিছে একটাও যেন তাদের পছন্দ হয় না।এক দোকান থেকে আরেক দোকান আমি বসে পড়লাম।২ দিন দিলেও তো এদের মার্কেট শেষ হবে।হঠাৎ পিচ্চি একটা দোকানে কি জানি দেখলো।আমার কাছে এসে
--চলেন।
--কোথায় যাব।
--ওই পুতুল টা কিনব।বাসায় সাজিয়ে রাখব।
--পাগল হইছো তুমি পুতুল বিক্রি করে তোমায় কে বলেছে।
--কে বলেছে পুতুল বিক্রি করে না চলেন আমার সাথে।
--আরে আরে শোন।টেনে নিয়ে গেল।
--ভাইয়া ওই পুতুলের দাম কত।
--সরি আপু পুতুল তো বিক্রি করি না।(দোকানদাড়)
--তাহলে ওভাবে রেখে দেছেন কেন এটা কী পার্ক পাইছেন হা।
--আসলে আপু ওইটা লোক দেখানোর জন্য(দোকানদার)
--লোক দেখানে কেন লাগবে আমি ওই পুতুল নিবই।দিবি নাকী কোলে করে নিয়ে যাব।
--আরে নীলা পাগলামি কেন করছ এটা তো দেখানের জন্য শুধু।
--এই যে নিয়ে যান তো এটাকে।কোথা থেকে সব পাগল ছাগল আসে।
--এই ব্যাটা এই পাগল ছাগল কাকে বলিস সালা।তোকে আমি।
--এই থাম থাম আটকে ধড়লাম। তবুও একটা লাথি দিল দোকানে কোলে করে নিয়ে আসলাম।
--ছোট মরিচ কিন্তু ঝাল বেশি(দোকানদার)
আমি ওকে টেনে নিয়ে আসলাম।
--তুই আমাকে নিয়ে আসলি কেন ওখান থেকে।
--মানে।
--তুই।
--মানে তুই কাকে বলছ।
--তুই ছাড়া তো এখানে কেউ নেই।
--আপনি থেকে তুই।
--তুই কী আসলেই ছেলে তো।
--আপনি থেকে ডিরেক্ট তুই।
--হে তুই ওর থেকেও নিচু থাকলে তাও বলতাম।ওই দোকানদার আমাকে অপমান করল আর তুই দাড়িয়ে দাড়িয়ে কথা শুনছিলি আবার নিজে তো পাড়িস না আমাকে আটকালি কেন।আমি ওর মুখে খামচি দিয়ে মাংস তুলে নিতাম ব্যাটা আমার সাথে পাঙ্গা নেয়।তোর জন্য সব হল।
লাফ দিয়ে এসে আমার কাছে।আমি ভয়ে মড়ে যাই এ মেয়ের এত রাগ কোথা খেতে আসে।এত মেয়ে তো দেখলে ভোলা ভালা লাগে এ তো দেখি সেই ।
--আচ্ছা তুমি শান্ত হল এই নাও পানি খাও।
--পানি দিয়ে হবে না আমার এখন জুস খাব।
---কী জুস।
--হা জুস যান নিয়ে আসেন।
--জুস তো বাচ্চার খায় তুমি আবার জুস খাও।
--আমি তো বাচ্চাই সবাই আমায় বাচ্চা বলে।
--আচ্ছা বস আমি নিয়ে আসছি।একটু পড় জুস নিয়ে গেলাম।
--আচ্ছা আমার কথা শুনে সবাই হাসে কেন বলেন তো।আমি কী হাসির কোন কিছু বলি।
--না না হাসির কথা বল না হাসির মত কাজ কর।এজন্য হাসে একদম বাচ্চাদের মতন সবকিছু কর।
--চলেন ওই দোকান থেকে একটু আসি।
--আবার কোন ঝামেলায় ফালাবে না না তুমি যাও।
--আরে চলেন না ভাইয়া।একটা শাড়ী নিব
টানতে টানতে নিয়ে গেল।আমি গিয়ে দাড়িয়ে থাকলাম।
--আপা এই শাড়ীটা নেন ভাল লাগবে(দোকানদাড়)
--দোকানদার শাড়ী দেখাতে দেখাতে বেহুস একটা ও পছন্দ হয় না।ভাই উনি আপনার কে হয়(দোকানদার)
--বউ হয় কেন।
--আপনি একটু পছন্দ করে দেন।আফার মনে হয় পুরো দোকান দেখালেও পছন্দ হবে না।
--ওই বেশি কথা বলস কেন।তুই দেখাতে থাক। ওহ হা ভাইয়া একটু দেখেন না কোন শাড়ী টা নিব।
--ভাইয়া(দোকানদাড়)
--ওই লাল শাড়ী টা নাও। ওইটা আমার পছন্দ হইছে।
--ওকে এইটা দেন তাহলে।
--আচ্ছা ভাই আপনি বললেন এইটা আপনার বউ আবার আপনাকে ভাইয়া বলে ডাকছে কেন(দোকানদাড়)
--ভাইয়া মানেই বউ বউ মানেই ভাইয়া বুঝেছেন।আমার দিকে তাকিয়ে কী ঠিক বলেছি না হি হি।
--ভাইয়া মানে বউ মানে ভাইয়া এটার মনে কী মাথা তো ঘুড়িয়ে দিলেন (দোকানদাড়)
--আমি😠😠😠
--ভ্যা ভ্যা আপনি তো তখন আপনার বন্ধকে বলেছেন তাই আমি এখন বললাম।
--ওই চুপ ভাইয় ব্যাগটা দিন তো ওতকিছু আপনি জানতে গেলে পাগল হয়ে যাবেন।
রাতে সবাই বাইরে খেয়ে বাসাই এসে ঘুমিয়ে গেলাম পিচ্চির আাগে না হলে নাকের ডাকে ঘুম পাড়তে পাড়ব না।ঘুমানোর একটু পড় দেখি সেই নাকের ডাক।ওহ শীট তোরে আজে আমি এখন আমি ঘুমাবো কেমনে।নীলা এই নীলা একটু ঝাকি দিয়ে ডাকলাম।
--এই কে কে ভৃত ভৃত।
--এই গাধা ভৃত না আমি।
--ওহ আপনি আমার কাচা ঘুমটা ভেঙ্গে দিলেন কেন।কি হইছে বলেন।
--একটা কাজ করে দিবি বোন আমার।
--কি বলেন তাড়াতাড়ি আমার ঘুম পাচ্ছে খুব।
--তুই তোর নাকটা আমার কানের ওপরে রেখে একটু ঘুমাবি প্লিজ।
--ওমা কি বলেন কানের ওপরে নাক রেখে কিভাবে ঘুমাবো।আপনকে কি ভৃত টুত ধড়েছে নাকী।
--না আমি ঠিক আছি তুই আমার কানের পর্দা টা ফেটে ফেল ।
--যা দুষ্টু তুমি খুব ফাজিল।তাহলে তোমাকে সবাই বয়ড়া বলে ডাকবে হি হি।
--চুপ কর গাধার বাচ্চা ষাড়ের মতন নাক ডেকে ঘুমাস আমি যে ঘুমাতে পাড়ি না সেটা বোঝস না।তোর সাথে তো আমার সারাজীবন থাকতে হবে তাই কানটা ঢোসা করবেো যেন কখন নাক ডাকার শদ্ব না পাই।
--আমি কিন্তু বাবাকে বলে দিব।
--কি বলবি তুই হা।
--আপনি আমাকে বকা দিছেন পড়ে ভ্যা ভ্যা।
--আচ্ছা কেদনা কেদনা যাও একটু তুলা নিয়ে আস।
--তুলা দিয়ে কি করবেন।
--কানে দিয়ে ঘুমাবো।একটি পড় তুলা কানে দিয়ে ঘুমবো ওমনি।
--আচ্ছা ভাইয়া তুমি সবসময় এরকম ছোট প্যান্ট পড়ে ঘুমাও তোমার লজ্জা লাগে না এত বড় ধেমড়া পোলা হইছে
--বেশি কথা বলস কেন এইটা স্টাইল।
--আমিও এরকম প্যান্ট পড়ে ঘুমাবো আমিও স্টাইল করব হি হি।
--এই খবর দাড় কখন না এগুলো ছেলেদের জন্য(কী বলে এসব দেখছেন)
--আচ্ছা ভাইয়া ওইটা কী।
--কেনটা।
--ওইটা (নখ তুলে দেখিয়ে)
--বেশি বেয়াদব হইছিস না ঘুমা।কলকে বাসাই যেতে হবে।
--ওকে দুড় ভাল লাগে না খালি রাগ দেখায় রাক্ষস একটা
আমি একটু পড়ের দিন সকালে নাস্তা করে বেড়িয়ে পড়লাম।সবার একটু মন খারাপ। পিচ্চিটা ওর মাকে জড়িয়ে কেদে দিল।বাসাই পৌছে একটু বাইরে গেলাম ঘুড়তে।অনেকদিন হল আড্ডা দেই না যাই।আড্ডা দিয়ে রাতে বাসাই এসে দেখি সবাই খাবার টেবিলে বসে।
--কোথায় ছিল এতক্ষণ নতুন বউ বাসায় রেখে সারাদিন শুধু ঘোড়া না।(বাবা)
--আসলে বাবা অনেকদিন হলে বাইরে যাই না তো(ভয়ে ভয়ে)
ওপাশ থেকে
--ভাইয়া খেতে আসেন তো আপনার জন্য কেউ খেতে পাড়ছে না আসেন তো।(পিচ্চি)
একি বাবা আমার দিকে আসছে কেন। এই মাল এত রাগ করে আসছে কেন।কাছে এসেই।
--ঠাসসসসস বেয়াদব এখন বউ ভাইয়া বলে ডাকে কেন হা।একটা বউ সামলাতে পাড়িস না। তোর মত বয়স আ থাকতে ৫ টা গালফ্রেন্ড চালাতাম একসাথে সবাইকে ঘুড়কির মত ঘুড়াতাম। আর তুই আমার ছেলে হয়ে একটা বউ সামলাতে পাড়িস না(বলেই জিহ্বাই দিল একটা কামুড়)এ কি বলে ফেললাম আস্তে আস্তে করে বলে ফেললো।
মা রান্না ঘড় থেকে গড়ম হাতা হাতে নিয়ে এসে বাবার দিকে তাকিয়ে😠😠😠😠
আমি নচু হয়ে হি হি হি।
--বাবা আপনি এতগুলো প্রেম করছেন কেমনে আপনার ছেলে তো একটাও করে না হি হি।(পিচ্চি)
Next.....
928
Views
21
Likes
2
Comments
3.9
Rating