_না মা তুই আমার পাশে বস।তর কাকি নিয়ে আসুক খাবার।
হঠাৎ৷ কাকা এমন বলল কেন???(মনে মনে ভাবলাম)
যাই হক, সবাই দুপুরে একসাথে খাওয়া দাওয়া শেষ করলাম। তারপর আমি আমার রুমে এসে শুয়ে আজকে সারাদিনের কথা ভাবতে থাকলাম।এমন সময় রাকিব এসে বসল আমার পাশে এবং বলতে লাগলো,,
_আপু আজকে বাবাকে এতো চিন্তিত দেখা যাচ্ছে কেন?
_আরে তেমন কিছু না হয়তো একটা জায়গা থেকে আসছে তাই ক্লান্ত।
_ও তা বলো,,আমি তো ঘাবড়ে গিয়েছিলাম।
_তুই কবে থেকে এত্তো চিন্তা করতে লাগ্লি রাকিব।
_কি বলো আপু চিন্তা তো হবেই ঘরের একটা মাত্র ছেলে আমি, তোমাদের নিয়ে তো চিন্তা হবেই।
_বাহ ভালোই তো বড় হয়েছিস আর পেকে গেছিস।(রাকিবের মাথায় হাত বুলিয়ে আর মুচকি হেসে)
এমন সময় কাকিমা ডাক দিলো মায়া,,,,মায়া,,,,,,
_জ্বী কাকিমা ডেকেছো
_হুম আজকে পড়াতে যাবি না??এত্তোদিন অসুস্থতার কারনে গেলি না।অনেকদিন তো হলো বন্ধের। আর কত?
_আমিও ভাবলাম যে অনেক বন্ধ হয়েছে আর না।
আমি ক্লাস 7 এর ২টা মেয়ে আর ক্লাস 4 এর ১টা ছেলেকে পড়াই। তাদের বাসা আমার বাসা থেকে বেশ খানিকটা দূরে।আসতে আসতে বেশিরভাগ সময় রাত 8-9টা বাজে। বিকালে হালকা নাস্তা করে বেরিয়ে গেলাম।পড়ানো শেষ করে আসতে আসতে আজকেঅ রাত 8টা বেজে যায়। যখনি আমি চা বাগানের সামনে দিয়ে হাটছি, ঠিক তখনি জড়ো হাওয়া বইতে লাগলো। যেখানে একজন সুস্থ মানুষের দাড়িয়ে থাকা অনেকটা অসম্ভব ছিলো। আমার চোখে বালু ঢুকে গেছিলো।আমি কিছুই তাকাতে পারছিলাম না।এমন সময় আমি প্রায় পড়ে যাওয়া অবস্থায় মনে হলো কে যেন আমার হাত ধরেছে।চোখে এতো টাই বালু ঢুকেছে যে স্পষ্টভাবে কিছু দেখতেও পাচ্ছি লাম না।তখন কে যেনো একটি রুমাল দিয়ে আমার চোখে গরম ভাব দিচ্ছিলো। কিছুক্ষন এভাবে দেওয়ার পর যখন আমি তাকালাম দেখলাম সে আর কেও না অই ছেলেটা যে কি না গত রাতে আমাকে ছিন্তাইকারীর হাত থেকে বাচিয়েছিল।সে আমাকে টেনে গর্তে পড়ার হাত থেকে বের করল। আমি তাকে দেখে বললাম
_আপনি এখানে।
_হুম। আমি পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম তখন দেখলাম আপনি বাতাসে হাটতে পারছেন না এবং গর্তে পরে যেতে লাগছিলেন।
_বাহ ভালোই কথা বানাতে পারেন। আমাকে গর্ত থেকে বাচানোর উছিলায় আমাকে টাচ করে ফেলেছেন।
_আমি যদি আজকে না ধরর,,,,,
_হইছে হইছে আর কিছু বলা লাগবে না আপনাকে।
আমি তখনও ভালো মতো দেখতে পারছিলাম না কিছু।
_আপনি আমাকে বাচিয়েছেন এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।আমিও একদিন আপনার উপকার করে এর শোধ করে তুলব।আল্লাহ হাফেয। এই বলে আমি চলে আসলাম সেখান থেকে।মনে মনে ভাবছি ছেলেটা আবার আমার পিছু করছে নাতো। পিছনে তাকিয়ে দেখলাম ছেলেটা আশে পাশে কোথাও নেই।আমি বললাম_কি ব্যাপার ছেলেটা এত্তো তাড়াতাড়ি গেলো কোথায়?
এই কথা ভাবতে ভাবতে আমি বাসার সামনে চলে আসলাম।বাসায় ঢুকতেই দেখি আমার কাকা কাকি এবং রাকিব সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে।তখনি কাকা বললেন,,,
_কি ব্যাপার মা এত্তোখন কোথায় ছিলি? তোর চোখ দুটো এমন লাল দেখাচ্ছে কেন?
_না কাকা কিছু না একটু বালু ঢুকেছে।
_আচ্চা যা মা ফ্রেশ হয়ে নে রাত ৯টা বাজে।
আমি মনে মনে ভাবলাম এত্তুটুকু সময় ১ঘন্টা পার হয়ে গেলো? আমি খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম। কারন চা বাগান থেকে আমার বাসায় আসতে ৫ মিনিট লাগে।সেখানে ১ ঘন্টা কিভাবে সম্ভব।যাই হক ঘরে ঢুকেই আমি ফ্রেশ হলাম।তারপর সবাই মিলে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।আমি রাতে জানালা খোলা রেখে ঘুমাতে ভালোবাসি। আমি আমার বিছানা ঠিক করছিলাম।এমন সময় দেখলাম কোথা থেকে কার যেনো কালো বিড়াল আমার জানালা টপকিয়ে আমার ঘরে ঢুকলো। আমি কালো বিড়াল দেখলে আবার প্রচুর ভয় পাই। আমি প্রথমে অনেক ভয় পেলাম।তারপর দেখি বিড়ালটা তার পিছনের বাম পায়ে প্রচন্ড ব্যাথা পেয়েছে এবং সে অন বরত মিউ মিউ ডাকছে।আমি ভয় লাগা সত্তেও বিড়াল টাকে কোলে তুল্লাম। তারপর আমার একটি গামছার টুকরো দিয়ে তার পায়ে ব্যান্ডেজ করে দিলাম।তারপর রুম থেকে দুধ এনে তাকে আদর করলাম আর দুধ খাওয়ালাম।আমার প্রচুর খারাপ লাগছিলো বিড়ালটাকে নিয়ে।আমি খাটের নিচ থেকে একটি বল বাহির করলাম এবং তাকে অই বলে ঘুমাতে দিলাম।আর বললাম_ আমি না বলার আগ পর্যন্ত তুই কোথাও যাবি না। এই বলে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকালে যখন ঘুম ভাংলো আমি নিচে তাকিয়ে দেখলাম বিড়ালটা নেই। আমি খুব চিন্তায় পড়ে গেলাম। কারন বিড়ালটার পায়ে আমার মতে এখনও অনেক ব্যাথা এবং তার লাফিয়ে জানালা দিয়ে যাওয়া সম্ভব না,আর আমার রুমের দরজাও খোলা না।তাহলে বিড়ালটা গেলো কোথায়?
তখনি কাকা ডাক দিলেন মায়া আম্মু,,,,,,মায়া,,,,এদিকে আয়তো,,,,,
_জ্বী কাকা,আপনি ডাকছিলেন?
_ঘুম ভাংলো কখন মা তোর।
_এইতো মাত্রই।
_কিরে তর পিছনে এমন খামছির দাগ কেন মা?
_কই? পিছনে কাধে খেয়াল করে দেখলাম আসলেই বড় একটা খামছির দাগ। কিন্তু দাগ টা আসলো কিভাবে?খামছি দিলো কে? রাতে তো আমি বিড়ালকে রানে রাখছিলাম।এমন সময় কাকা বললেন
_কোনো জায়গায় আচড় লেগেছে মা তোর?
_বলতে পারলাম নাতো কাকা।
_আচ্চা যা ফ্রেশ হয়ে নে আজকে তোকে নিয়ে একটা জায়গায় যাবো।
_কোথায় কাকা?
_মার্কেটে তোকে জামা কিনে দিব। তুই আর রাকিব আমার সাথে যাবি।
এই কথা শুনে বেশ খুশি হলাম।কারন জানেনিতো একটা মেয়ের মার্কেট করা কত আনন্দের জিনিস। আমি তারাহুরো করে ফ্রেশ হয়েই তৈরি হলাম কাকার সাথে মার্কেটে যাবো বলে।
চলবে,,,,,,,,,
জ্বিনের আছর (season 1) episode 3
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
1.07K
Views
42
Likes
6
Comments
4.1
Rating