রায়হান লাজুক একটি ছেলে নবম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে | সে গনিতে অনেক খারাপ তাই গ্রামের একটি কোচিং সেন্টারে পড়তে যাচ্ছে |
স্যারের নাম ছিল গোপাল |
স্যারকে দেখতেও গোপালের মতোই | মাথায় চুল নাই , ভড়ি মোটা এবং মজার মানুষ |
গণিত অনেক সুন্দর করে করাই |
বিকালের ওই ব্যাচে রায়হান আর অষ্টম শ্রেণীর দুটো মেয়ে কোচিং করতো সুবর্না ও আনিকা |
রায়হান মেয়েদের সাথে কথা বলতে লজ্জা পায় |
সুবর্না: আপনার নাম কি ভাইয়া ?
রায়হান : রায়হান।
আনিকা: আপনি কোন স্কুলে পড়েন ?
রায়হান: মডেল স্কুলে ।
স্যার আসতে একটু দেরি করলে । সুবর্না ও আনিকা রায়হানকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করতো কথা বার্তা বলতো।
রায়হানের তেমন কোন বন্ধু ছিল না । কারোর সাথে তেমন কথা বার্তা বলত না । তাদের দুইজনের সাথে রায়হানের বন্ধুত্ব হওয়ার পর রায়হানকে অনেক হাসি খুশি দেখা যায় ।
এভাবে একটি বছর কেটে যায় ।
রায়হান এখন দশম শ্রেণীতে পড়ে । সুবর্না ও আনিকা নবম শ্রেণীতে । নবম ও দশম শ্রেণীর বই এক হওয়াই তাদের তিন জনকে একই সাথে গণিত করাতো ।
রায়হান মনে মনে সুবর্নাকে ভালোবেসে ফেলে। কিন্তু ভয় পাই , বলতে পারেনা ।
একদিন তারা ডেয়ার খেলা শুরু করলো । বোতলের মুখ যার দিকে যাবে তাকে যা প্রশ্ন করা হবে সত্য উত্তর দিতে হবে ।
খেলার এক পর্যায়ে রায়হানের দিকে বোতলের মুখ আসে ।
সুবর্না: আপনি কাকে ভালবাসেন ?
রায়হান: কাকে
সুবর্না: আপনি কাকে ভালবাসেন?
রায়হান: আমি বলতে পারব না, বুক কাঁপছে ।
সুবর্না: আপনাকে বলতেই হবে ।
রায়হান: তোমাকে ( চোখ বন্ধ করে )
সুবর্না: আমি আপনাকে ভাইয়ের মতো দেখি । আপনার দিয়ে আমি এটা আশা করিনি ( বলে চলে যাই)
রায়হানের অনেক খারাপ লাগে । রাতের বেলায় ঘরে দরজা দিয়ে অনেক কাঁদে । কিছুদিন কোচিং যায়নি।
গোপাল স্যার : রায়হান আর কয়দিন পরে তোমার এসএসসি পরীক্ষা । কোচিং না করলে কিন্তু ফেল করবা ( ফোন দিয়ে বলে )
তখন রায়হান আবার কোচিং এ যাওয়া শুরু করে ।
আনিকা: ভাইয়া আপনি যদি এসএসসিতে এ প্লাস করতে পারেন আমি আপনাকে মিষ্টি খেতে দেবো। আর যদি না পারেন আপনি আমাকে মিষ্টি খেতে দিবেন।
রায়হান: সবাই প্লাস পেলে খেতে দেওয়ার কথা বলে । আর তুমি প্লাস না পেলে খেতে দেওয়ার কথা বলছ কেন ?
আনিকা: আপনি এ প্লাস পেলে আমি অনেক খুশি হব । তাই আমি আপনাকে মিষ্টি খাওয়াবো । আর যদি না পান আমার অনেক খারাপ লাগবে তাই আমার মন ভালো করার জন্য আপনি মিষ্টি খাওয়াবেন।
রায়হান: ঠিক আছে।
রায়হান: সুবর্না সাথে ঘটে যাওয়া সব কথা তার বন্ধু সুজনের সাথে বলে।
রায়হান এসএসসিতে এ মাইনাস পাইছে তাই শর্ত অনুযায়ী আনিকাকে মিষ্টি খাওয়াই।
কিছুদিন পর কলেজে ভর্তি হয় ।
কোচিং তো আর যায় না ।
পুরনো সবকিছু ভুলে আনন্দের সাথে চলাফেরা করে ।
সুজন একটা মেয়ের সাথে কথা বলে মেসেঞ্জারে । তার মা সব মেসেজ দেখে ফেলে।
সুজনের মা : তুই রাহানের মত হতে পারিস না । তুই এত খারাপ কেন ।
সুজন: তুমি যাকে ভালো ভাবো সেও প্রেম করত আনিকার সাথে । ( রাগে রাগে ভুল বসত আনিকার নাম বলে )
সুজনের মা রায়হানের মায়ের সাথে সব কথা বলে
রায়হান বাড়ি আসলে ।
রায়হানের মা বলে : তুমি আনিকাকে পছন্দ করো ?
রায়হান: লজ্জায় কিছু বলছে না ।
রায়হানের মা বলে : মেয়েটা ভদ্র ও সুন্দরী আমার অনেক পছন্দ হয়েছে। তোমার মামী বলছিল লেখাপড়া করে কিছু না করতে পারলে এমন মেয়ে পাবে না তোমার বাড়ির বউ হিসাবে।
রায়হান: ভাবছে আনিকাকে যেহেতু মায়ের পছন্দ হয়েছে এবার আনিকা কে বলবো ভালোবাসি । না এখন না আগে কিছু হব তারপর ওর সামনে যাবো
দুই বছর পর
রাহান বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করছে। এদিকে আনিকার বিয়ে হয়ে গেছে
( রায়হানের মা অসুস্থ থাকেই বিয়েটা আটকাতে পারেনি )
এক মাস পর শাশুড়ির নির্যাতনের কারণে ছাড়াছাড়ি হয়ে য়াই ।
এদিকে রায়হান আর্মির অফিসার হয়েছে । বাড়ি ফিরে এসে শোনে আনিকার এক জায়গায় বিয়ে হয়ে গিয়েছিল এখন ছাড়াছাড়ি
রায়হান: আমি ওকে বিয়ে করব।
সবাই বলে ওর থেকে ভালো মেয়ে পাবি ।
রায়হান: ওকে তো পাবো না ।
জীবনে যদি বিয়ে করতে হয়, ওকে ছাড়া কাউকে করবো না।
দুইজনের বিয়ে হয়ে যায়
দুই বছর পর তাদের একটি মেয়ে হয় । নাম রাখে
সুবর্না।
প্রিয়তমা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
735
Views
19
Likes
4
Comments
3.9
Rating