ভেতরটা হুহু করে

ভেতরটা হুহু করে
সে কখন যে মেয়েটাকে এতটা ভালোবেসে ফেলেছিল, তা নিজেও জানত না। প্রথম দেখাতেই যেন হৃদয়ের ভেতর কিছু একটা কেঁপে উঠেছিল। মেয়েটার হাসি, কথা বলার ভঙ্গি, এমনকি রাগটাও—সবকিছুই তার কাছে অপার মাধুর্যের মতো লাগত। সে দূর থেকে মেয়েটাকে দেখেই দিন কাটাত, কখনো সাহস করে সামনে গিয়ে কিছু বলতে পারেনি। শুধু চেয়েছিল, মেয়েটা যেন একবার তার অনুভূতিটা বুঝতে পারে।

মেয়েটা হয়তো কিছুটা বুঝতও। ছেলেটার চাওয়াটা, তার দৃষ্টি—সবই অজানা ছিল না। কিন্তু সেই বোঝাপড়ার মাঝেও ছিল এক অদ্ভুত ঘৃণা। ছেলেটা যতবার তার দিকে তাকাত, মেয়েটা ততবার বিরক্ত হয়ে উঠত। “এইভাবে তাকিয়ে থাকো কেন?”—রাগে ফেটে পড়ত সে। ছেলেটা মাথা নিচু করে চুপ করে যেত, তবুও তার চোখে সেই ভালোবাসার ছাপ মুছে যেত না।

দিনগুলো এমনভাবেই চলছিল। প্রতিদিন একটু একটু করে সে অপমান সহ্য করত, তবুও ভালোবাসাটা কমেনি। বরং মনে হতো, হয়তো একদিন মেয়েটা বুঝবে। হয়তো একদিন সব বদলে যাবে।

কিন্তু সেই দিনটা এল অন্যরকমভাবে।

এক বিকেলে, ছেলেটা আগের মতোই দূর থেকে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ মেয়েটা প্রচণ্ড রেগে গিয়ে তার সামনে এসে দাঁড়াল। চোখে আগুন, কণ্ঠে বিষ। সে এমন কিছু কথায় ছেলেটাকে আঘাত করল, যেগুলো শুধু অপমানই নয়, যেন তার অস্তিত্বকেই ভেঙে দিল। “তোমার মতো ছেলেদের আমি সহ্যই করতে পারি না”—এই কথাটা যেন ছেলেটার বুকের ভেতর ছুরি হয়ে বিঁধে রইল।

সেদিন প্রথমবার ছেলেটা কিছু বলার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শব্দগুলো গলায় আটকে গিয়েছিল। চোখে পানি চলে এসেছিল, তবুও সে তা লুকিয়ে রেখেছিল। মেয়েটা চলে যাওয়ার পর, সে অনেকক্ষণ একই জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল—নীরব, ভাঙা, অসহায়।

সেদিনই সে একটা সিদ্ধান্ত নেয়।

সে প্রতিজ্ঞা করে—আর কখনো সে মেয়েটার সামনে যাবে না। আর কখনো তাকে বিরক্ত করবে না। তার ভালোবাসাটা সে নিজের ভেতরই চেপে রাখবে, যতই কষ্ট হোক না কেন।

এরপর থেকে সে বদলে যেতে শুরু করে। আগের মতো অলস সময় কাটানো বন্ধ করে দেয়। নিজের স্বপ্ন, নিজের ক্যারিয়ারের দিকে মন দেয়। রাত জেগে পড়াশোনা করে, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করে। কারণ সে বুঝে গেছে—যে ভালোবাসা তাকে অপমান ছাড়া কিছু দেয়নি, তার পেছনে জীবন নষ্ট করার কোনো মানে নেই।

তবুও মাঝে মাঝে, গভীর রাতে যখন সবকিছু নীরব হয়ে যায়, তখন সেই মেয়েটার মুখটা ভেসে ওঠে। বুকের ভেতরটা হুহু করে ওঠে। কিন্তু এবার সে কাঁদে না, শুধু চুপচাপ নিজের চোখ বন্ধ করে ফেলে।

কারণ সে জানে—এই ব্যথাটাই তাকে শক্ত করে তুলেছে। আর সেই শক্তি নিয়েই সে একদিন নিজের জীবনকে নতুন করে গড়ে তুলবে, যেখানে আর কোনো অপমান নয়—শুধু নিজের সম্মান আর সাফল্য থাকবে।

37 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই