ঈদের চাঁদ আর তুমি

পলাশ
পলাশ
লেখক
ঈদের চাঁদ আর তুমি
ঈদের চাঁদ আর তুমি
কবি পলাশ

চাঁদটা উঠেছে আজ একটু অন্যরকম,
মনে হচ্ছে—তোমার চোখের মত শান্ত।
ঈদের রাত, অথচ ভিড়ের মাঝেও
আমি একা হয়ে যাই,
কারণ—তুমি নেই।

নতুন পাঞ্জাবি গায়ে দিলাম,
কিন্তু আয়নায় নিজেকে দেখে মনে হলো—
তোমার একটুখানি প্রশংসা ছাড়া
এই সাজ অসম্পূর্ণই রয়ে গেল।

সবার ঘরে আলো, হাসি, মিষ্টির গন্ধ,
আমার ঘরে শুধু তোমার নামের প্রতিধ্বনি—
যেন দোয়ার মতো বারবার ফিরে আসে,
“তুমি কি ভালো আছো?”

ঈদের নামাজে সিজদায় গিয়ে
অজান্তেই একটা নাম বেরিয়ে গেল—
আল্লাহর কাছে চাইলাম না কিছু,
শুধু বললাম—
“ওকে আমার কাছে রেখো,
হোক না দূরে, তবুও থাকুক আমারই।”

চাঁদ দেখার সেই মুহূর্তে
সবাই যখন তাকায় আকাশে,
আমি খুঁজি তোমার মুখ—
কারণ আমার ঈদের চাঁদ
আসলে তুমি।

ঈদ মানে শুধু খুশি না,
ঈদ মানে—
কাউকে খুব করে মনে পড়া,
কাউকে না পেয়ে
আরো বেশি ভালোবেসে ফেলা।

সারসংক্ষেপঃ এই কবিতায় ঈদের আনন্দের মাঝেও এক গভীর একাকীত্ব ও প্রিয় মানুষকে না পাওয়ার বেদনা প্রকাশ পেয়েছে। কবি ঈদের চাঁদকে প্রিয়জনের সাথে তুলনা করেছেন—চাঁদের শান্ত সৌন্দর্যে তিনি খুঁজে পান সেই মানুষটির উপস্থিতি।

চারপাশে উৎসব, নতুন পোশাক, হাসি-আনন্দ থাকলেও কবির মন ভরে ওঠে না, কারণ প্রিয় মানুষটি পাশে নেই। ঈদের নামাজেও তিনি নিজের জন্য কিছু চান না, বরং প্রিয়জনের মঙ্গল কামনা করেন—যা তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রমাণ।

শেষে কবি বুঝিয়ে দেন, তার কাছে ঈদের আসল অর্থ আনন্দ নয়—বরং প্রিয়জনকে গভীরভাবে মনে করা, তাকে না পেয়ে আরও বেশি ভালোবেসে ফেলা। ঈদের চাঁদ তাই তার কাছে শুধুই আকাশের চাঁদ নয়, বরং সেই প্রিয় মানুষটির প্রতিচ্ছবি।
47 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই