মহারাজের আপেল চাষ

মহারাজের আপেল চাষ
মহারাজের আপেল চাষ,




মহারাজ ঘুমিয়ে আছেন এবং সপ্নে দেখছেন তার রাজ্য খুব ভালো আপেল চাষ হয়েছে । তিনি খুব মজা করে পাকা রসালো আপেল খাচ্ছেন । মহারানী রাজা মশাই কে ঘুম থেকে ডাক দিলেন, মহারাজ উঠুন সকাল হয়েছে। মহারাজ একটু কড়া সুরে বললেন আহ্ রানী দিলে তো সপ্ন টা ভঙ্গ করে,

রানী: কি সপ্ন দেখলেন মহারাজ,

মহারাজ : আহা কি সন্দুর আপেল গাছ আর পাকা টসটসে আপেল দেখলেই প্রাণ জুড়িয়ে যায়, আমার কৃষ্ণনগরে যদি সত্যি এরকম আপেল চাষ হতো।

মহারানী : মহারাজ আপনি যদি সব চাষিদের কে যদি আপেল গাছের চারা প্রদান করেন তাহলে তারা খুব ভালো ফসল ফলাতে পারবে।

মহারাজ : হ্যাঁ এইটুকু বিশ্বাস আছে আমার চাষিদের উপর

রাজসভা আসছেন মহারাজ সবাই দাড়িয়ে রাজাকে সম্মান প্রদর্শন করল
মহারাজ নিজের যায়গায় বসে আছে, চিন্তিত মনে হচ্ছে। গোপাল এখনো রাজ সভায় আসেনি

মন্ত্রী: কি ব্যপার মহারাজ আপনি আপনাকে একটু চিন্তিত মনে হচ্ছে

রাজ বৈদ্য: মহারাজ আপনার শরীর খারাপ হয়নি তো

মহারাজ: সেরকম কিছু না আজ একটা তোমাদের সাথে কিছু গুরুত্বপুর্ন কথা বলব

মন্ত্রী: তো বলুন না মহারাজ দেরি করছেন কেন
মহারাজ: কিন্তু গোপাল তো এখনো আসছে না।

গোপাল আসছে

মন্ত্রী মনে মনে বলছে শয়তানের নাম নিতেই শয়তান হাজির

গোপাল নিজের যায়গায় বসল

মহারাজ: আজকে আমি একটি খুব ভালো সপ্ন দেখেছি

মন্ত্রী: সপ্নে কি দেখেছেন মহারাজ

মহারাজ:আহ্ মন্ত্রী কথার মাঝখানে কথা বলোনা তো, সপ্নে দেখেছি আমার রাজ্য খুব ভালো আপেল চাষ হয়েছে পাকা টসটসে আপেল কি সুস্বাদু, আমি চাই আমার রাজ্য সত্যি সত্যি যেন এরকম আপেল চাষ হয়। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি প্রতিটা চাষি যেন আপেল চাষ করে,

গোপাল: আপনি খুব ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহারাজ আপেলের যা দাম, সবাই আপেল চাষ করলে গরীব মানুষও আপেল খেতে পারবে কিন্তু মহারাজ আপেলের চারা কোথায় পাবেন আর আপেলের চারার দাম তো অনেক

মহারাজ: সেটাই তো ভাবছি

গোপাল: মহারাজ আপনি মুর্শিদাবাদ থেকে আপেলের চারা আনতে পারেন ওখানে অনেক আপেল হয় শুনেছি নবাবের নাকি আপেলের বাগান আছে।

মহারাজ: তাইতো এটাতো আমি আগে ভেবে দেখিনি আমি আজেকেই নবাবের দরবারে পত্র পাঠাচ্ছি

দুইদিন পড়,

রাজসভায় সবাই বসে আছে রক্ষী এসে বলল মহারাজ নবাবের দূত এসেছে

মহারাজ: তাকে রাজসভায় পাঠিয়ে দাও

নবাবের দূত রাজসভার ভিতরে প্রবেশ করল

দূত: মহারাজ আপনার জন্য নবাব পত্র পাঠিয়েছেন

দূত পত্রটি মহারাজের হাতে দিল

মহারাজ: আপনি অতিথিশালয়ে গিয়ে বিশ্রাম করুন, রক্ষী নবাবের দূত কে অতিথিশালয়ে নিয়ে যাও

মহারাজ পত্রটি মন্ত্রীর কাছে দিল

মহারাজ: মন্ত্রী পত্রটি পড় শোনাও

মন্ত্রী পত্র পড়ছে

মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র আশা করি ভালো আছো। তুমি আপেল গাছের চারাগাছ কৃষকদের মাঝে বিলিয়ে দিতে চাও এই মহৎ চিন্তার জন্য ধন্যবাদ। আমার কাছে যথেষ্ট পরিমাণ আপেলের চারাগাছ আছে। আমি তোমাকে সেগুলো খুবই কমদামে দিতে চাই। যত তারাতারি পারো
দুইজন বুদ্ধিমান লোককে পাঠিয়ে দাও যাতে করে তারা চারা গাছের গুনমান দেখে চারা নিয়ে যেতে পারে

পত্র পড়া শেষ

মহারাজ: এটাতো খুব ভালো সংবাদ কিন্তু কে যাবে

মন্ত্রী: আমি ছাড়া আর কে যাবে মহারাজ

মহারাজ: গতবারের কথা মনে নেই তোমার কিভাবে উজিরের সাথে মিলে কলকাঠি নাড়লে

রাজবৈদ্য:আমি বলি কি মহারাজ গোপাল আর বিজ্ঞানী মশাই যাক

মহারাজ গোপাল আর বিজ্ঞানী কে বলল তোমরা কি রাজি

গোপাল আর বিজ্ঞানী একসাথে বলল আমরা রাজি মহারাজ

মহারাজ:তাহলে আগামীকাল বেরিয়ে পড় তোমরা

গোপাল:ঠিক আছে, মহারাজ

মহারাজ: আজকের মত রাজসভা এখানেই শেষ

মন্ত্রী একাএকা বাড়ি ফিরছে আর মনে মনে ভাবছে গোপালের একটা ব্যবস্তা করতেই হবে আমার সব কাজ এই গোপালভার জগাখিচুরি করে দেয়।

পড়দিন সকাল বেলা

গোপালের বউ গোপালে থলে গছানো কাজ করছে গোপাল ঘুমোচ্ছে

গোপালের বউ গোপাল কে ডেকে তুলল

গোপাল বউ: কি মুর্শিদাবাদ যাবে নাকি আমি সব গুছিয়ে রেখেছি তারাতারি উঠ

গোপাল:এই না হলে আমার গিন্নি

গোপাল বাড়ি থেকে বেড় হচ্ছে গোপালের বউ বিদায় দিল

গোপাল আর বিজ্ঞানী ঘোড়ায় চরেছে ঘোড়া মুর্শিদবাদের দিকে ছুটছে

তারা নবাবের প্রাসাদের সামনে

নবাব তার সিংহাসনে বসে আছে পাশে উজির রক্ষী এসে বলল আপনার সাথে কৃষ্ণনগর থেকে দুটি লোক দেখা করতে এসেছে

নাবাব বলল তাদের ভিতরে পাঠিয়ে দাও

গোপাল আর বিজ্ঞানী ভিতরে প্রবেশ করল

গোপাল: আদাব নবাব বাহাদুর
নবাব: আরে গোপাল যে এসো এসো রক্ষী ওদের খাওয়ার ব্যবস্তা কর

নবাবের প্রাসাদে গোপাল আর বিজ্ঞানী খাওয়া দাওয়া করছে নানা রকমের পদ সাজানো

খাওয়া দাওয়ার পর গোপাল,বিজ্ঞানী, নবাব, বাগানের মালি আর কিছু রক্ষী। নবাবের বাগানে একটা ফাকা যায়গায় দাঁড়িয়ে আছে সেখানে অনেক চারাগাছ সাজানো আছে

নবাব: বিজ্ঞানী মশাই চারাগাছগুলোর গুণগত মান পরিক্ষা করে দেখুন
বিজ্ঞানী:নিশ্চয়ই

বিজ্ঞানী আতস কাচ দিয়ে চারাগুলো ভালো ভাবে দেখছে গোপাল পাশে দাঁড়িয়ে আছে

বিজ্ঞানী: এগুলো খুব ভালো মানের চারাগাছ গোপাল

গোপাল: তাইতো মনে হচ্ছে বিজ্ঞানী

উজীর: কেমন দেখলেন আপনারা

বিজ্ঞানী: এগুলো খুব ভালো মানের আপেলের চারা, এগুলো আপনি কৃষ্ণনগর পাঠানোর ব্যবস্তা করুন জাঁহাপানা

নবাব: এই কে আছিস এই চারা গুলো গরুর গাড়ীতে করে কৃষ্ণনগর পাঠানোর ব্যবস্তা কর

সাতটা গরুর গাড়ী ভর্তি আপেল গাছের চারা গাড়ী চলছে কৃষ্ণনগরের দিকে গোপালা আর বিজ্ঞানী ঘোড়ায় করে পিছনে পিছনে যাচ্ছে

গরুর গাড়ী গুলো কৃষ্ণনগরের রাজপ্রাসাদের সামনে এসে থামল সেখানে আগে থেকেই রাজসভার বাকি সভাসদ দাঁড়িয়ে আছে চারা গাছ গুলো দেখে মহারাজের মুখে হাসি ফুটেছে

মহারাজ: শেষ পর্যন্ত আমার সপ্ন সত্যি হতে যাচ্ছে সত্যি গোপালা তোমর বুদ্ধির জবাব নেই এই নাও একশ মোহর তোমার পুরুষ্কার

মহারাজ গোপাল কে একশ মহর পুরস্কার দিল বিজ্ঞানী কে ও দিল

মন্ত্রী মনে মনে বলছে এই ভাড় বেটার একটা হিল,লে না করতে পাড়লে আমার মনে শান্তি নেই

গোপাল বাড়িতে ভাত খাচ্ছে বাইরে থেকে শোনা যাচ্ছে ঢোলের সব্দ

বাইরের দৃশ্য

বটগাছের নিচে দারিয়ে আছে ঘোষণা কারী ঢোল বাজিয়ে বলছে, শোন শোন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার রাজ্যর সকল চাষি ভাইদের বিনামূল্যে আপেল গাছের চারাগাছ বিতরণ করা হইবে কাল সকাল সকাল রাজবাড়ীর সামনে উপস্থিত থাকার জন্য আদেশ করা হইল

কৃষকেরা বলা বলি করছে এবার মহারাজ খুব ভালো একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আরেক জন বলল রাজার খেয়াল কখন কি করে বলা যায়না

পড়দিন সকাল মহারাজ কৃষক দের হাতে চারাগাছ তুলে দিচ্ছেন লম্বা লাইন

কৃষকরা চারাগাছ নিচ্ছে আর বলছে আপনার মত মহারাজ পাওয়া আমাদের ভাগ্যর ব্যপার

একে একে চারা গুলো দেওয়া শেষ হলো

কৃষকের সবাই তাদের মাঠ চারা গাছ রোপন করতে ব্যস্ত
মহারাজ আর গোপাল ঘুরে দেখছে



কিছু মাস পড়

রাজসভায় সবাই উপস্থিত আছে

মহারাজ: কি,হে গোপাল আমার রাজ্যর সে আপেল চাষের কি খবর
গোপাল: খবর খুব ভালো মহারাজ ভালো ফসল হয়েছে

মহারাজ: তাই নাকি গোপাল, তাহলে তো আজকেই দেখতে যেতে হয়
গোপাল: চলুন না মহারাজ

রাজসভার সব সদস্য আপেলের বাগানে দারিয়ে আছে সব গাছে বড় বড় পাকা আপেল ঝুলছে

গোপাল: দেখুন না মহারাজ কি সুন্দর আপেল হয়েছে আ,হা দেখলেই যেন প্রান জুড়িয়ে যায়
মহারাজ: ঠিক কথা বলেছো গোপাল

মন্ত্রী: এরকম একখানা আপেলের বাগান করার শখ আমার আগে থেকেই ছিলো মহারাজ শুধু অলসতার কারণে করিনি মহারাজ

মহারাজ:কচু শখ ছিলো তোমার

সবাই হাসছে মন্ত্রীর মুখ বেজার

রাত্রি বেলা মন্ত্রী একা একা কোথায় যেন যাচ্ছে, মন্ত্রী নিতাই (২৫ বছর বয়সি একটা ছেলে গায়ের রং হালকা কালো) এর বাড়ীর ভিতরে প্রবেশ করল দরজার সামনে দাঁড়িয়ে

মন্ত্রী: নিতাই। কিরে নিতাই ঘুমিয়ে গেছিস নাকি

নিতাই: কে, আরে মন্ত্রী মশাই যে, আজ হটাৎ আমার কথা মনে পড়ল কি ব্যপার মন্ত্রী মশাই

মন্ত্রী: আমি যা বলবো ভালো করে শুনবি এবং সেই মতো কাজ করবি, তোর কানটা এগিয়ে দে কানে কানে বলব

নিতাই: কানে কানে কেন জোরে বললে কি সমস্যা

মন্ত্রী: দেয়ালেরও কান আছে

নিতাই: দেয়ালের কান আছে মুখ তো নেই দেয়াল শুনে বলবে কার কাছে

মন্ত্রী: আমার সাথে কিন্তু একদম ফাজলামো করবি না বলে দিলাম যা বলছি তাই কর

মন্ত্রী নিতাই এর কানে কানে কিছু একটা বলে হাসি মুখে বাড়ির দিক হাটঁতে লাগল

পড়দিন সকাল বেলা

রাজসভায় সবাই উপস্থিত রক্ষী রাজসভায় আসল
রক্ষী: মহারাজ আপনার সাথে কয়েক জন চাষি দেখা করতে এসেছে
মহারাজ: তাদের পাঠিয়ে দাও

তিনজন চাষি ভিতরে আসল

মহারাজ: তোমরা কি কারণে রাজসভায় এসেছ সেটা বলো
চাষি:সর্বনাশ হয়ে গেছে মহারাজ, আমাদের তিন জনের আপেল গাছের সব আপেল চুরি হয়ে গেছে মহারাজ

মহারাজ: কি বলো তোমরা কার ওপর সন্দেহ করছ তোমরা

২য়,চাষি:গোপালের ওপর মহারাজ

গোপাল:আমার ওপর

মহারাজ: কি গোপালের ওপর কেন?

চাষি: আমরা গোপালের বাড়ির সামনে দিয়ে রাজসভায় আসার সময় দেখি এক ঝুড়ি আপেল গোপালের বউ দরজার সামনে থেকে নিয়ে যাচ্ছে

মন্ত্রী: দেখেছেন মহারাজ আপনার আদরের গোপাল কি করেছে

মহারাজ:গোপাল তোমার কাছে আমি এটা কখনো আশা করিনি বেড়িয়ে যাও রাজ সভা থেকে

গোপাল রাজ সভা থেকে বেড়িয়ে গেল। মন্ত্রী মনে মনে বলছে উচিত শিক্ষা হয়েছে ব্যটা ভাড়



গোপাল ঘরের ভিতরে ঢুকল। গোপালের গিন্নি আর তার ছেলে মাটিতে বসে আপেল খাচ্ছে

গোপাল: গিন্নি এই আপেল গুলো কোথায় পেলে

গোপালের বউ: বাইরে গিয়ে দেখি এক ঝুড়ি আপেল আপেল রাখা তাই বাড়িতে নিয়ে আসলাম মনে করলাম কেউ হয়ত দিয়ে গেছে

গোপাল: এইবার বুঝলাম কি হয়েছে, আমাকে ফাঁসানোর জন্যই এসব করা হয়েছে

গোপালের বউ: হয়েছে কে তোমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে

গোপাল: ও সব কথা বাদ দাও চটপট ভাত দাও দেখি


খাওয়া দাওয়া শেষে গোপাল বিছানায় শুয়ে রয়েছে আর ভাবছে, চোর তো মাত্র তিন জনের আপেল চুরি করেছে আরও অনেক গাছ বাকি আছে, চোর আজ রাতেও আপেল চুরি করতে আসবে আজ রাতেই কিছু একটা করতে হবে।

রাতের বেলা গোপাল আর গোপালের ছেলে আপেলের বাগানে ঝোপের আরালে দাঁড়িয়ে আছে খুব মশা গোপালের হাতে বড় দড়ি আছে

গোপালের ছেলে: আমারা শুধু শুধু এখানে দাঁড়িয়ে আছি বাবা চোর কোথায়? শুধু মশার কামড় খাচ্ছি

গোপাল: সবুর কর বাবা সবুরে মেওয়া ফলে

কালো কাপড় দিয়ে মুখ বাঁধা দুটি লোক বাগানে প্রবেশ করল

তারা দুইজন গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আপেল ছিরে তাদের থলেতে ভরছে ঠিক তখনি গোপাল আর তার ছেলে দইজন দুইদিক থেকে দড়ি টেনে নিয়ে গিয়ে তাদের বেঁধে ফেলল

সকাল বেলা আপেল গাছের সাথে মন্ত্রী আর নিতাই বাঁধা
মহারাজ এবং সেনাপতি আসলেন সেখানে গোপাল আর তার ছেলে আগে থেকেই সেখানে ছিল

মহারাজ: কার এত বড় সাহস নিজে চুরি করে অন্যর ওপর চোষ চাপানো কে করেছে
গোপাল: মুখের কালো কাপড় সরিয়ে আপনিই দেখে নিন


মহারাজ মন্ত্রীর মুখের কালো কাপড় সরালো গোপাল বাধন খুলে দিল

মহারাজ: মন্ত্রী, তুমি অবশেষে চুরি করলে,

মন্ত্রী: ক্ষমা করে দিন মহারাজ ক্ষমা

মহারাজ: কিসের ক্ষমা তোমরা দুইজন এক হাজার বার কান ধরে উঠবস করবে

মন্ত্রী আর নিতাই বলল মরে যাব মহরাজ মরে যাব


মহারাজ: আমাকে ক্ষমা করে দাও গোপাল আমি ভুল বুঝেছি

গোপাল: আপনার ওপর আমার কোন অভিমান নেই মহারাজ


মহারাজ: সবাই বল জয় গোপালের জয়

সমাপ্ত
2 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই