বনবাস

বনবাস
শহরের কোলাহল আর ব্যস্ততার মাঝে বড় হওয়া তরুণের নাম রায়ান। সবসময় মানুষের ভিড়, গাড়ির শব্দ আর মোবাইলের স্ক্রিনে ডুবে থাকা তার জীবনটা একদিন হঠাৎ বদলে গেল। পড়াশোনার চাপ আর নিজের ভেতরের অস্থিরতা তাকে ক্লান্ত করে তুলেছিল। তাই একদিন সে সিদ্ধান্ত নিল—কিছুদিনের জন্য সব ছেড়ে বনে চলে যাবে।
রায়ান চলে গেল দূরের এক নির্জন বনে। প্রথম দিনটা তার জন্য খুব কঠিন ছিল। শহরের আরামদায়ক ঘর নেই, ইন্টারনেট নেই, চারপাশে শুধু গাছ আর পাখির ডাক। রাতে অন্ধকার নামলে একটু ভয়ও লাগত। কিন্তু ধীরে ধীরে সে অভ্যস্ত হয়ে উঠল।
প্রতিদিন ভোরে সে পাখির ডাক শুনে ঘুম ভাঙত। সূর্যের আলো গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে যখন মাটিতে পড়ত, তখন পুরো বনটা যেন সোনালি হয়ে উঠত। রায়ান নদীর ধারে বসে অনেকক্ষণ নিজের কথা ভাবত। সে বুঝতে পারল, এতদিন সে নিজের মনকে সময়ই দেয়নি।
বনে থাকতে থাকতে সে ছোট ছোট জিনিসে আনন্দ খুঁজে পেল—একটা প্রজাপতির উড়ে যাওয়া, বাতাসে পাতার মৃদু শব্দ, কিংবা নদীর জলের কলকল ধ্বনি। এসব তাকে অদ্ভুত শান্তি দিত।
কয়েক সপ্তাহ পর রায়ান যখন শহরে ফিরে এল, সে আগের মতো ছিল না। তার চোখে ছিল নতুন এক প্রশান্তি। সে বুঝে গিয়েছিল—জীবনে শুধু দৌড়ানো নয়, মাঝে মাঝে থেমে নিজের ভেতরটাকেও শুনতে হয়।
তার সেই বনবাস ছিল খুব ছোট, কিন্তু সেই সময়টুকু তাকে জীবনের বড় এক শিক্ষা দিয়ে গিয়েছিল।
43 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই