হাওরের পেত্নী

রনি
রনি
লেখক
হাওরের পেত্নী
বাংলাদেশের এক বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা। বর্ষাকাল। চারপাশ শুধু পানি আর পানি। মাঝখানে ভাঙা একটা নৌকা উল্টে পড়ে আছে। আকাশ কালো, ঝড়ের আগের অদ্ভুত নীরবতা।
রাত তখন প্রায় ২টা।
মাছ ধরার জাল তুলতে গিয়ে কুদ্দুস মাঝি হঠাৎ খেয়াল করল—
পানির উপর কেউ দাঁড়িয়ে আছে।
প্রথমে মনে হলো ভুল দেখছে।
কিন্তু না…
সাদা শাড়ি পরা এক নারী। লম্বা ভেজা চুল মুখ ঢেকে রেখেছে। তার পা পানিতে ডুবে নেই—পানির উপরেই দাঁড়িয়ে।
চারপাশে ভেসে আছে মৃত মাছ। যেন সব একসাথে মরে গেছে।
হাওরের বাতাস থেমে গেছে। শুধু দূরে মেঘের গর্জন।
কুদ্দুস মাঝি কাঁপা গলায় বলল,
“কে… কে ওখানে?”
নারীটা ধীরে ধীরে মাথা কাত করল। চুলের ফাঁক দিয়ে একচোখা সাদা দৃষ্টি। ঠোঁট বাঁকা হয়ে অদ্ভুত হাসি।
হঠাৎ ভাঙা নৌকাটা নিজে নিজে নড়তে শুরু করল।
পানির ঢেউ নেই, তবু নৌকা কেঁপে উঠছে।
নারীটা ধীরে ধীরে কুদ্দুসের দিকে এগিয়ে আসছে—পানির উপর ভেসে।
তার শাড়ির নিচ থেকে কালো, লম্বা নখওয়ালা হাত বের হলো।
হাওরের পানি বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেল।
ঝড় শুরু হলো হঠাৎ। বজ্রপাতের আলোয় স্পষ্ট দেখা গেল—
তার মুখে কোনো চোখ নেই… শুধু কালো গহ্বর।
কুদ্দুস চিৎকার করতে গিয়েও পারল না।
পরদিন সকালে মানুষ শুধু ভাঙা নৌকাটা পেল।
জাল ছিঁড়ে গেছে। চারপাশে অসংখ্য মৃত মাছ ভাসছে।
কুদ্দুসের কোনো খোঁজ নেই।
লোকেরা বলে—
বর্ষার রাতে হাওরের মাঝখানে এক পেত্নী দাঁড়িয়ে থাকে।
যে তাকে দেখে ফেলে—
সে আর কখনো তীরে ফিরতে পারে না।
55 Views
1 Likes
0 Comments
4.0 Rating
Rate this:
(1)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই