চা-কাপের সুখ

চা-কাপের সুখ
চা-কাপের ভেতর সুখ
গ্রামের নাম ছিল চিন্তাপুর। নামের মতোই এখানকার মানুষ সারাক্ষণ চিন্তায় ডুবে থাকত। বিশেষ করে রতন বাবু—চিন্তার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। তাঁর চিন্তার তালিকায় ছিল:
“বৃষ্টি হলে ধান নষ্ট হবে, না হলে আবার পানি কম হবে”,
“ছেলে বেশি পড়লে শহরে চলে যাবে, না পড়লে ভবিষ্যৎ নেই”,
এমনকি—“চা বেশি গরম হলে জিহ্বা পুড়ে যাবে, কম গরম হলে মজা নেই!”
একদিন সকালে রতন বাবু চা খেতে খেতে হঠাৎ বললেন,
“হায় হায়! জীবনটা এত কষ্টের কেন?”
ঠিক তখনই পাশের বাড়ির গোপাল কাকা হাজির। তিনি গ্রামের একমাত্র মানুষ যিনি সবসময় হাসতেন। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলতেন,
“আমি ফুলটাইম সুখে আছি!”
রতন বাবু বিরক্ত হয়ে বললেন,
“কাকা, আপনার তো কোনো চিন্তাই নেই! টাকা নেই, জমি কম, তবু এত হাসেন কীভাবে?”
গোপাল কাকা হেসে বললেন,
“চিন্তা আছে রে বাবা, কিন্তু আমি ওগুলোকে ছুটি দিয়েছি।”
“মানে?” রতন বাবু চোখ কপালে তুলে ফেললেন।
গোপাল কাকা এক কাপ চা এনে বললেন,
“এই চা খাও।”
রতন বাবু চুমুক দিতেই চিৎকার,
“উফ! কী তিতা!”
কাকা শান্ত গলায় বললেন,
“চিন্তাও এমনই। বেশি ঢাললে জীবন তিতা হয়।”
তারপর কাকা পকেট থেকে এক চিমটি চিনি বের করে চায়ে দিলেন।
“এই নাও, আবার খাও।”
রতন বাবু এবার মুচকি হেসে বললেন,
“আহা! বেশ লাগছে!”
গোপাল কাকা বললেন,
“জীবনেও এমনই। সমস্যা থাকবে—চিনির মতো ছোট ছোট সুখ যোগ করতে হয়। হাসি, কৃতজ্ঞতা, একটু ধৈর্য—এইগুলোই চিনি।”
রতন বাবু একটু চুপ করে থাকলেন। তারপর বললেন,
“কিন্তু কাকা, সমস্যা তো শেষ হয় না!”
কাকা হেসে উত্তর দিলেন,
“চা কি কখনো শেষ তিতা হওয়া বন্ধ করে? তবু আমরা চা খাই, কারণ আমরা জানি—চিনি দেওয়া যায়।”
সেদিন থেকে রতন বাবু বদলে গেলেন। আগের মতো চিন্তা আসে, কিন্তু তিনি এখন বলেন,
“আচ্ছা, এর মধ্যে চিনি কোথায়?”
তিনি সকালে পাখির ডাক শোনেন, ছেলের সঙ্গে গল্প করেন, নিজের ভুলে নিজেই হাসেন। আশ্চর্যভাবে, জীবন খুব একটা বদলায়নি—কিন্তু জীবন দেখার চোখ বদলে গেছে।
আর চিন্তাপুর গ্রামে তখন এক নতুন কথা চালু হলো—
“জীবন তিতা হলে, চিনি খুঁজে নাও।” ☕✨
59 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this:
(0)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই