রূপকথার জলছবি

রূপকথার জলছবি
কলমি কোনদিন কিছু চাইনি। আজ চাইলো। কিন্তু নিজের জন্য কিছু নয়। বললো "ঐ ফুল গুলোর মতো নিজেকে সোপে দিতে ঈশ্বরের পায়ে। ঈশ্বরই সবকিছু সামলে নেবেন।  "
আজ ঈশ্বর কে যেনো কোন নতুন রূপে দেখছি। বাধ্য শিশুর মতো ঈশ্বরকে প্রনাম করে নিলাম । গীতা নিয়ে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে ভাবনার সাগরে ডুব দিলাম। না ঠিক কিরকম যেনো অদ্ভুত পরিবেশ। আগে যে মন্দিরে ঢুকিনি তেমন কথা নয়। মন্দিরে তো অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি সমাজের জন্য। কিন্তু আমার কাছে মন্দির একটি স্থাপত্য , যা গত সময়ের সাক্ষী, একটি অঞ্চলের নিজস্ব সংস্কৃতি প্রমান বা প্রতিনিধি।
যেমন ধরুন বাংলায় আপনি পাথরের প্রচীন মন্দির পাবেন না। কারণ এখানে পাথর সহজ লাভ্য নয়। এখানে পাবেন কুঁড়ে ঘরে মতো সব মন্দির, হতে পারে সেটা দোচালা, চার চালা, আট চালা। কখনো সেটি হয়েছে নব রত্ন  মন্দির থেকে একুশটা রত্ন যুক্ত মন্দির ও চোখে পড়ে।
মূর্তি বেলায় ও একই রকম, বিহারের রাজার সাথে যখন বাংলার রাজপরিবারের ঝগড়া, তখনই পাথরের অভাবে, বাংলায় তৈরি হলো কাঠের মূর্তি। বাংলাদেশের দারু বিগ্রহের বাংলার এক ঐতিহ্য। নবদ্বীপ নয় দক্ষিণ 24 পরগানার জয় নগর অঞ্চলে গেলেই দেখতে পাবেন। কি সুন্দর দারু বিগ্রহের আছে ওখানে মন্দির গুলোতে।

যাইহোক এসব কথা জেনে কী লাভ। একটু বড় হতেই , ঈশ্বর কাছে মাথা নোয়াতে ছেড়ে দিয়েছিলাম। বরং ঠাকুর মা দাদুকে প্রনাম করলে কাজের কাজ হতো। দুই দশটাকা দিতো। কলম টলম কেনার জন্য। তবে বিজয়ার পর ঘটা করে সবাইকে প্রনাম করতাম একমাস ধরে। নাড়কেল নাড়ু নিমকি খাওয়ার লোভে।
তবে কখনো - সখনো খিচুড়ি আর সিন্নি খেতে প্রনাম করেছি ঈশ্বরকে। তবে পূজা কোনদিন করি নি। নিজেরা চোব্যচোস্য খেয়ে দেবতাকে দুই নকুল দানা ধরে দিয়ে, মঙ্গল কামনা করা ব্যর্থ প্রয়াস , আমি কোন দিন করি নি। মন্দিরে চোখের সামনে রেখে দেওয়া থাকে প্রনামীর  বাক্স। সবাই প্রার্থনা করে দুই পাঁচ টাকা ঘুষ দিয়ে আসে। যেটা আমি কোন দিন দিতে পারতাম না। দুই টাকাও আমার কাছে অনেক মূল্যবান।

আপনি বলবেন মানত করতে পারতে। কিন্তু বড়ো বড়ো নেতারা  কথা রাখে না। আমি না রাখলে আমি ও পাপি হয়ে যাবো বলুন।
একটা একটা টাকা বাঁচাতে কত না  কষ্ট করেছি। শুধু ভবিষ্যৎ সঠিক ভাবে সুরক্ষিত রাখতে। বিবেকের কাছে কত বকাঝকা খেয়েছি, কত দুটো টাকা রোজগার করতে।

কখনো ভাবিনি হঠাৎ মরে গেলে কি হবে। কখনো ধর্ম বিশ্বাস করি নি। কখনো ভাবি দেখিনি স্বর্গের চেয়ে জনত ভালো কিনা? ওখানে হুর সাথে সহবাস করার সুযোগ থাকলে, এখানে অপ্সরা পাওয়া যায় কিনা। এককথায় ঈশ্বরের পৌরাণিক গল্পগুলো তে আগ্রহী হলেও ঈশ্বর প্রতি আমার আগ্রহ ছিলো না।



শুধু আমি কমলিকে নিয়ে এখানে সুখী থাকতে চেয়েছিলাম।হঠাৎ আমার চিন্তা ভাবনাটা ভেঙে দিলো ওর ব্যবহার। মেন দরজা খট খট। বাইরে থেকে একটা গাল বলল" রাধে রাধে মাতাজী প্রসাদ পেতে এসেছিলাম , আমি নিত্যানন্দ।"

গলাটা খুব চেনা , দরজা খুলে দেখলাম চেহারাটাও খুব চেনা। ঠিক মিলিয়ে নিতে পারলাম না। জীবনে একটু স্থায়ীত্ব পেতে আমি অনেক চাকুরী করেছি।অনেক চিন্তা ভাবনা গবেষণা আর একটু কথা বলে আবিষ্কার করলাম ও আমার এক সময়কার সহকর্মী পরিতোষ।  ও কোলকাতা একজন মোটামুটি প্রতীভাবান সংবাদিক ছিলো। মুস্কিল ছিল। হলুদ সাংবাদিকতা কোনো দিন করেনি। ও জীবন এর ঘটনাটা কোনো হিন্দি সিনেমার গল্প মনে হবে অতিরঞ্জিত না করে বললেও।।


পরিতোষ জীবনের গল্প কথায় অতিরঞ্জিত না করে বললেও চলবে। বরং আমি অতোটা বলিষ্ঠ লেখক না যে ওর জীবনে কথা আমি তুলে ধরতে পারবো ঠিক ভাবে। মোটামুটিভাবে ও একজন প্রতিভাবান সংবাদিক ছিলো। আপোষ করতে শেখেনি।

সরকার যোগসাজশে তখন মৃতদেহ থেকে অঙ্গ, কিডনী, চোখ বেড় করে বেসরকারি হাসপাতালে চড়া দামে বিক্রি করছিলো একটি চক্র। একটা গরীব মানুষতো মেরে ফেলাই কিডনী বেড়ে করে নেওয়া হয়েছিল বলে ও লিখেছিলো। সরকারী হাসপাতালে এমনিতেই লোকে আসে না চিকিৎসার জন্য। তথ্য প্রমাণ সহ ওর প্রথম লেখাটাই তাই বিপদে খেলে দিয়ে ছিলো, সরকার সহ বেশ কিছু প্রভাবশালী মানুষকে।



জীবনটা সিনামা নয়। তাই একটা জীবন হঠাৎ দূর্ঘটনা হলো। ও মরলো না ঠিকই ওর বাবা গুরুত্ব আহত হলো। ইচ্ছে করে ধাক্কা মারা লরি ড্রাইভার ড্রিংক এন্ড ড্রাইভ কেসে জেল ঢুকলো। ওর বাবা মৃত্যু সাথে লড়াই করছে তখন। ও নাকি ডাক্তার আর থানার বড়ো বাবুরকে পিটিয়েছিলো। তাই ও জেলে ঢুকলো। ওর বাড়িতে তখন একা ওর বোন। ভাই আর বাবাকে বাঁচাতে নাকি সে মন্ত্রী ঘরেও গেলো , নিজের সতীত্ব বিনিময়েও কিন্তু ও বাঁচাতে পারলো না দাদা কিংবা বাবাকে। পরে বেছে নিলো আত্মহত্যার পথ।




জীবনের লক্ষ্য হারিয়ে ও শান্তি খোঁজে ঈশ্বরের পায়ে আশ্রয় নিলো। সেখান থেকেই মাসির সাথে ওর আলাপ। মাসি ওর শিক্ষা গুরু। মাসিমার এক ভক্ত বৃদ্ধ বয়সে ব্রজভুমিতে থাকবে বলে একটা মন্দির সহ বাড়ি করেছে। সেটাই দেখাশোনা করে ও।

মাসি ওর শেষ জীবনের সাথী হিসেবে গঙ্গাকে দেখে রেখেছে। আজ আবার ওদের ও একসাথে থাকতে বললো। দুই জনকে এক সাথে থাকতে আশ্রমে। মহারাজ জি।
মাসি বললো " কচু পাতায় জল পড়লেও সে ভেজে না । এক সাথে থেকেও তোমাদের সাধনায় যদি প্রভাবিত না করে তাহলে একসাথে থাকতে দোষ কোথায়। "
আজ আমি ও সন্ধা আরুতি করবো কমলির সাথে।  তাই কাল বলবো গঙ্গার গল্প।

68 Views
1 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this:
(1)

মন্তব্য

কোন মন্তব্য নেই