সুখের সন্ধানে
শহরের কোলাহল থেকে দূরে, নদীর ধারে একটি ছোট গ্রামে থাকত যুবক আবির। পরিশ্রমী, নরম স্বভাবের হলেও তার একটি সমস্যা ছিল—সে কখনোই নিজের জীবনে তৃপ্তি খুঁজে পেত না। অন্যকে দেখে মনে হতো, সবার জীবনেই সুখ আছে, শুধু তার জীবনটাই কেমন যেন শূন্য।
একদিন বড় ভাইয়ের সাথে ঝগড়া হলো—কারণ টাকা কম রোজগার হয়। পরদিন বন্ধুদের সাথে মনোমালিন্য—কারণ তারা বলল, “তুই কিছুই হতে পারবি না।” রাতে মায়ের কথাতেও মন খারাপ—মা বলল, “বাবা, অল্পতেই রাগ করিস কেন?” সব মিলিয়ে আবির মনে করল—এই জীবনটা অর্থহীন।
এভাবে কয়েক মাস কেটে গেল। প্রার্থনা করত না, মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করত না, সারাদিন শুধু অভিযোগ। একরাতে ঘুম ভেঙে গেল হঠাৎ বুকে অদ্ভুত চাপ অনুভব করে। ভোরে উঠেই সে হাঁটতে বের হলো। গ্রামের প্রান্তে পুরোনো মসজিদের সামনে এসে থামল। সেখানে বসে ছিলেন একজন বয়স্ক আলেম—হাফিজ সালেহ।
হাফিজ সালেহ ধীর কণ্ঠে বললেন,
— “মনে হয়, তুমি কোনো কিছু খুঁজছো—কিন্তু জানো না সেটা কী।”
আবির দীর্ঘশ্বাস ফেলল,
— “হুজুর, আমি সুখ চাই… কিন্তু কোথায় পাই?”
হাফিজ সালেহ মাটিতে একটা দাগ টেনে বললেন,
— “মানুষ সুখ খোঁজে বাহিরে—অন্যদের সম্পদে, সাফল্যে, প্রশংসায়। অথচ আল্লাহ বলেন:
‘❤️নিঃসন্দেহে আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় শান্তি পায়।’ (সূরা রাদ ১৩:২৮)❤️
তুমি যাকে সুখ ভাবছ, সেটা আজ আছে, কাল নেই। আসল সুখ ভিতরে—আল্লাহর কাছে।”*
আবির একটু চুপ থেকে জিজ্ঞেস করল,
— “কিন্তু হুজুর, আমার জীবন তো সমস্যায় ভরা। সমস্যা থাকলে সুখ কীভাবে পাবো ?”
হাফিজ সালেহ হাসলেন।
— “রাসুল (সা.) বলেছেন:
❤️‘মুমিনের অবস্থা বিস্ময়কর। সে সুখে থাকলে শোকর করে—তা তার জন্য কল্যাণ। কষ্টে থাকলে সবর করে—এটাও তার জন্য কল্যাণ।’ (মুসলিম)❤️
দেখেছো? সুখ–দুঃখ দুটোই কল্যাণ। কিন্তু তুমি শুধু দুঃখ দেখছো।”*
এই কথা শুনে আবিরের ভেতরে কিছু নরম হয়ে গেল। সে বুঝল—সে সুখ খুঁজছিল দুনিয়ায়, অথচ দুনিয়া তো পরীক্ষা, স্থায়ী সুখ নয়।
তিনি আরো বললেন,
— “আজ থেকে তিনটি কাজ করো:
১) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মিস করবে না।
২) কাউকে কষ্ট দেবে না, বরং ছোট ছোট ভালো কাজ করবে।
৩) প্রতিদিন রাতে শোয়ার আগে তিনটি নেয়ামত লিখে শোকর করবে।
ইনশাআল্লাহ দেখবে—সুখ নিজে থেকেই তোমাকে খুঁজে নেবে।”
আবির সেদিন থেকেই তিনটি নিয়ম শুরু করল।
ধীরে ধীরে তার জীবনে পরিবর্তন আসতে লাগল। নামাজে দাঁড়িয়ে মনে হতো—সে আল্লাহর কাছে কথা বলছে। মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করতে শুরু করলে তারাও তাকে সম্মান করতে লাগল। রাতে শোকর লিখতে গিয়ে আবির দেখল—তার কাছে কত কিছু আছে: মা আছে, খাবার আছে, বাসা আছে, সুস্থ দেহ আছে, ঈমান আছে।
একদিন নদীর ধারে হাঁটতে হাঁটতে সে বুঝল—মাঝে মাঝে সমস্যাও আছে, অভাবও আছে, কিন্তু মনটা আর ভারী লাগে না। তার ভেতরে শান্তির বাতাস বইছে।
আবির তখন মনে মনে বলল,
— “সুখ তো দূরে কোথাও ছিল না।
আমি নিজেই ছিলাম অন্ধ…”
হাফিজ সালেহ ঠিকই বলেছিলেন—
আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় শান্তি পায়।
✍️ Ripon Khan ✍️
82
Views
1
Likes
1
Comments
5.0
Rating

সকল মন্তব্যগুলো (1)
মাশাআল্লাহ অনেক ভালো লাগলো গল্পটা শিক্ষনীয় । 🤗