গৌধূলির সন্ধ্যা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:

কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ..

এদিকে সন্ধ্যা রুম থেকে বেরিয়ে আসার পরই আন্টি আর মালিহা শেখ তাকে জরিয়ে ধরে।

সন্ধ্যাকে মালিহা শেখ বলে তুমিই আমার নাতির মন জয় করতে পারবে আশা করি ।
আর আমার বংশের একটি অমূল্য সম্পদ তুমিই দেবে।
কোন মেয়েই আজ পর্যন্ত এতো সময় জায়ানের রুমে থাকেনি মালিহা শেখের ম্যানেজার বলে উঠল।

সন্ধ্যা বলে আমি চেষ্টা করব দাদী ..
আন্টি ও বেশ খুশি হয়।
মালিহা শেখ কিছু টাকা সন্ধ্যার হাতে দেয় আর কিছু টাকা আন্টিকে।

জায়ান বেরিয়ে এসে সন্ধ্যার টাকা নিতে দেখে আরো বেশি সন্ধ্যাকে গোল্ড ডিগার মেয়ে ভাবে।

সন্ধ্যা আর আন্টি মেনশন থেকে বেরিয়ে পড়ে টাকা নিয়ে...

গাড়িতে যাবার সময় বার বার তার মায়ের মুখটা ভেসে ওঠে এই টাকা টা দিয়ে কিছুটা হলেও মায়ের চিকিৎসার সাহায্য করতে পারবে।

এদিকে জায়ান তাড়াতাড়ি নিচে নেমে আসে আর রাগান্বিত হয়ে গাড়ি নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়ে...

কিন্তু জায়ান কিছুতেই সন্ধ্যাদের গাড়ি ফলো করতে পারে না।

সন্ধ্যা কে আন্টি হসপিটালে ড্রপ করে দেয় সন্ধ্যা হসপিটালে গিয়ে তার মায়ের কেবিনে যায়, ডাঃ সাথে কথা বলে কিছু টাকা পেমেন্ট করে আর মায়ের কনডিশন জানতে চায় তার মা ঠিক আগের মতোই ছিল কোন নড়াচড়া করে না।
সন্ধ্যার চোখের পানি মায়ের হাতে পড়ে।
তারপরও তার মা কোন রেসপন্স করে না।

সন্ধ্যা হসপিটাল থেকে বেরিয়ে পড়ে বাড়ির উদ্দেশ্য...
সন্ধ্যা হাঁটছিল আর ভাবছিল তার মা কে সুস্থ করে তুলতেই হবে যেকোন মূল্য তার জন্য যদি তার জীবন দিতে হয় তাতেও সে রাজি... ।

বর্তমানে....

বৃষ্টি যখন ডাইরিটি পড়ছিল বৃষ্টির চোখ দিয়েও পানি পড়ছিল সন্ধ্যার পরিবার আর সন্ধ্যার প্রতি অন্যরকম একটি ভালো লাগা কাজ করছিল।
বৃষ্টি মনের গহিন কনে সন্ধ্যার প্রতি মায়া বেড়েই চলেছে ডাইরি প্রতি পাতায় পাতায়।
হঠাৎ সে দেখল অনেক রাত হয়ে গেছে তারপর সে ডাইরিটি বন্ধ করলো আর সে বিছানায় শুয়ে পড়লো কিন্তু বৃষ্টির কোন ঘুমই হচ্ছে না।
অজানা কৌতুহল কাজ করছে মনকে স্থির করল কালকে সে আবারও ডাইরিটি পড়বে এখন তাকে ঘুমাতে হবে ।
কিছু পুরোনো কাগজ পএের মধ্যে ডাইরিটি রাখল যাতে মায়ের চোখে না পড়ে। তারপর কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে তার জানা নেই।

বৃষ্টির মা রুমে থেকে কাগজপএ গুলো এনে দারোয়ান আঙ্কেলকে পুরোনো কাগজপত্রগুলো ফেলে দিতে বলল...

সকালে ঘুম থেকে দেরি করে উঠল উঠে ১১ঃ০০ টা বাজে অনেক বেলা হয়ে গেছে মা তো তাকে আজকে ডাকেনি হটাৎ খেয়াল করল তার পাশের পুরোনো কাগজ আর ডাইরিটি নেই।
বৃষ্টি হনতো দ্বন্দ্ব হয়ে উঠে ডাইরি খুঁজতে লাগলো কিন্তু কোথাও ডাইরিটি খুঁজে পেল না।

নিচে নেমে মা কে বলল মা তুমি আমার রুম থেকে কিছু কি ফেলেছো..

মা : কিছু পুরোনো জিনিস ফেলে দিয়েছি।

বৃষ্টি : কোথায় ফেলেছ মা তুমি?

তোর কিছু কাগজপত্র ফেলে দিয়েছি সেগুলো তো তোর প্রয়োজন হবে না হয়তো।
কোথায় ফেলেছো মা বলো...
আমাকে না জানিয়ে কেন ফেললে
বৃষ্টির চোখে পানি জল জল করছে...
যেন কাঁন্না করে দেবে একটু হলেই...

তোর দারোয়ান আঙ্কেলকে দিয়েছি ফেলে দিতে...
বৃষ্টি আর দেরি না করে দ্রুত দারোয়ানের কাছে গিয়ে বলে আঙ্কেল তুমি পুরোনো কাগজ কোথায় ফেলেছো দারোয়ান বলে ডাস্টবিনে...
বৃষ্টি বাড়ি থেকে বেরিয়ে ডাস্টবিনের কাছে পৌঁছায় পৌঁছে নোংরার মধ্যে খুঁজেতে থাকে, না পেয়ে অস্তির হয়ে পড়ে, মন খারাপ করে ডাস্টবিনের পাশে বসে পড়ে হঠাৎ সন্ধ্যার কথা মনে পড়ে আবারও খুঁজতে থাকে অবশেষে ডাইরিটা খুঁজে পায় যেন বৃষ্টি তার প্রান ফিরে পেল...
ডাইরিটা নিয়ে বাসায় উদ্দেশ্য রওনা দেয়।
বাসায় পৌঁছে মা কে বলে আমাকে না বলে কোনো জিনিস ফেলে দিও না প্লিজ....

বৃষ্টি দুপুরের খাবার খেয়ে ডাইরিটা আবার খুলে...

সন্ধ্যা বাসায় ফিরে খুব একাকিত্ব অনুভব করেছিল...
কতো হাসিখুশি পরিবারটা নিমিষেই যেন একটি দুর্ঘটনা শেষ করে দিল সন্ধ্যা লাস্ট কবে হেসে কথা বলেছে তার মনে নেই।
আবার ও কি জায়ানের কাছে যেত হবে নাকি জায়ান তাকে আর ডাকবে না। সে কি পারবে জায়ানের বউ হতে নাকি তার চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে পারবে না নানা টেনশনে এক সময় সন্ধ্যা ঘুমিয়ে পড়ে।

এদিকে জায়ান মেয়েটাকে যেন ভূলতেই পারছে না। সেই সুঘ্রান তাকে অস্থির করে তুলছিল। জায়ান সন্ধ্যার কথা ভাবছে...
আর বলছে....
আমি কেন এত কন্ট্রোললেস হয়ে পড়ছিলাম এই ঘ্রান আমাকে পাগল করে তুলছিল বা কেন ? কেন এমন হলো আগে তো কখনই হয়নি এমনটা। কিন্তু এই মেয়ের প্রতি আমি কেন দুর্বল হয়ে গেলাম নিজেকে কন্ট্রোল কেন করতে পারলাম না।এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না। মেয়েটা কথা কেন এতো ভাবছে সে তো টাকার লোভে আমার কাছে এসেছিল কেন এটা ভূলে যাচ্ছি আর তাছাড়া কোন মেয়েকে আমি ভালবাসতেও পারব না সবাই লোভী যেমনটা আমার মা টাকার লোভে আমাকে ছেড়ে চলেগেছে...
মেয়ে জাতিকে আমি কখনোই ভালবাসতে পারবো না। এসব গোল্ড ডিগার মেয়েরা টাকার লোভে এমনটা করতেই পারে।ওরা আমায় কখনো ভালবাসবে না। মেয়ে জাতি থেকে আমি দূরে থাকতে চায় তাই বলে জায়ান মদ্যপান করতে থাকে। আর বলতে থাকে মা তুমি আমাকে ছেড়ে কেন চলে গেলে আমাকে একা করে...
মা তুমি কি আমাকে কখনোই ভালবাসো নি?
জায়ানের প্রশ্ন চার দেয়ালের মধ্যে যেন সীমাবন্ধ ছিল।

নোট : গল্পটি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো লাগলে মতামন প্রকাশ করুন ❤️
8 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: