পিসাডেইরা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
বার্ধক্যের জীবনে তো মানুষের সখ আল্লাদ থাকেই। আমার সখ বাগান । বাগন করা মানুষের রুচি স্বাতন্ত্র্য এবং একটি শখ। বাগান হল এক কথায় গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ আর যারা শৌখিন এবং সুন্দর মনের অধিকারী, তারাই সর্বোচ্চ বাগানকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন এবং যত্নবান হন। উল্লেখ করা হল বাগান নিয়ে উপস্থিতি যা আপনার মনকে সদ্য প্রস্ফুটিত ফুলের মতই সতেজ করে। আমাকে এ বয়সেও যুবক করে রেখেছে।

আমার জীবনে একটা তুমি ছিল।। সে একটি ফুল মতো ।কথা ভাবার জন্য আমি আমার বাগানে চিরকাল হেঁটে বেড়াতে চাই। ভালোবাসা আসলে একটি সুন্দর ফুলের মতো যা আমি স্পর্শ করতে পারি না, কিন্তু যার সুবাস খুজে বেড়াই আমার বাগানটিতে। জীবনটা আনন্দ ময় হয়ে ওঠে। যখন বাগান ফুল ফোটে।যুবক বয়সের ভালোবাসা যেমন একটা আনন্দের একই রকম আনন্দের জায়গা আমার স্বাধের বাগান টা।
বাগান ছাড়া ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের পড়িয়ে দিন ভালোই কাটছিলো আমার।  সেইদিন জ্বর হবার পর সবাই বললো একটা মালি রাখতে। আমি প্রথমে রাজী হইনি। আমার তো খুব একটা বড়লোক না। বিদেশে অফসরে চাকরি করে কিছু টাকা সঞ্চিত হয়েছিল। দেশে ফিরে ব্যবসা করতে গিয়ে সেই টাকা অধিকাংশ হারিয়েছি। এখন ভারতীয় জীবন বীমা কোম্পানিতে পেনশন পলিসি টাকা রেখে সামান্য টাকা পেনশন পাই। নাছোর বান্দা আমার বন্ধু বান্ধব। আমার ফুটবলার বন্ধু আলী জর্জ বলে একটা বুড়ো মালি নিয়ে ধরে নিয়ে এলো। লোকটার দেশ ব্রাজিল। ওর বাবা ফুটবল খেলোয়াড়। এ দেশে বাংলার নাম করা ফুটবল ক্লাবে খেলেছেন। ও ফুটবল খেলতো। কিন্তু অততা সফল হয়নি। অথচ ও দেশেই ওর জন্ম নিজের দেশে তাই ওর যাওয়া হয়নি। একটা আশ্রয় আর চাকরি জন্য পথে পথে ঘুরছিল। আলি তাই নিয়ে এসেছিলো আমার কাছে। ওর থাকার জায়গা চাই আমার চাই  একজন সহকারী। তাই বেশি দরাদরি না করেই থেকে গেলো, আমার কাছে।
কিন্তু সস্তায় কাজের লোক খুজতে যাওয়াটা আমাকে এতো বড় বিপদে ফেলে দেবে আমি বুঝতে পারি নি।  সাত সকালে আমার বাড়ির সামনে প্রিজন ভ্যান এসে হাজির। জর্জ কে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। পাশের বাড়ির আগোরবাল বাবুকে ও নাকি রাতের বেলায় হত্যা করতে গেছিলো। পুলিশ যখন ওকে ধরতে এলো। অ
ও অকপটে শিকার করলো। সে কথা। ও আগোরবাল কে মারতে গেছিলো কারণ ওরা খাবার নষ্ট করে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬৭৩ মিলিয়ন মানুষ দীর্ঘস্থায়ী ক্ষুধার শিকার এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য অপচয় হয় বা নষ্ট হয়ে যায় এ রকম বড়লোকের পাতে।
ওর কথায় ১ বিলিয়ন মানুষ যখন খাবারের অভাবে ভোগে, তখন ২ বিলিয়ন মানুষ অতিরিক্ত খাওয়া দাওয়া করে নিজেদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতি করে। চারপাশের তাকিয়ে দেখুন ডায়াবেটিস, এলোমেলো ব্লাড প্রেশার, হৃদরোগ ইত্যাদি রোগে ভুগতে দেখা যাচ্ছে। সহজ কথায়, একদল মানুষ না খেয়ে মারা যাচ্ছে, অন্য দিকে আরেকদল মানুষ মারা যাচ্ছে ভুলভাল খাবার খেয়ে। তারপরও, খাদ্য ও পুষ্টি নিয়ে মানুষ যথেষ্ট সচেতন হয়ে ওঠার কথা ভাবার চেষ্টাও করছে না।
জানেন আমি একটা প্রতিবেদনে পড়েছিলাম। প্রতিদিন, কেনিয়ার খামারগুলিতে থেকে উৎপাদিত ৭৫ মেট্রিক টন টমেটোকে রপ্তানির সময় বাতিল করা হয় শুরু দেখতে ভালো নয় বলে । এটি ৬০০,০০০ টমেটোর সমতুল্য - এই টমেটো গুলো কুৎসিত মানে অদ্ভুত আকারের, প্যাকেজিংয়ের জন্য কাঙ্ক্ষিত আকারের চেয়ে লম্বা বা ছোট, অথবা কেবল দাগযুক্ত, কিন্তু পুরোপুরি পুষ্টিকর এবং খাওয়ার জন্য উপযুক্ত। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) উদোগে চার মাস ধরে ৫ মেট্রিক টনেরও বেশি সবুজ বিন, স্নো পিস, স্ন্যাপ পিস এবং ব্রোকলি উদ্ধারে করা হয়েছিল । ফলে ডাস্ট বিনে ফেলে দেওয়া এই সব সব্জি দিয়ে ৭৫টি স্কুল দিনের জন্য ২,২০০ শিশুকে খাওয়ানো গেছে ভরপেট খাবার।
যাই হোক জর্জ দুই তিন দিন আমার সাথে থাকলেও ওর প্রতি মায়া পরে গেয়েছিলো। তাই আমার এক প্রভাব শালী উকিল বন্ধুকে নিয়ে হাজির হলাম থানায়। থানায় এসে অবাক। প্রথমে বলা হচ্ছিলো ওকে গেপ্তার করা হয়নি। উকিল বন্ধুর আইনি হুমকি পেয়ে পরে কাচু মাচু মুখ করে বড় বাবু বলেন। জর্জ কোন মানুষে না ভুত। কারণ পিজন ভ্যান থেকে ও হাওয়া হয়ে গেছে। ওরা নিজেরাই ভয়ে ভয়ে আছে কি ঘটছে তার কেউ ব্যাখ্যা দিতে পারছে না।
উকিল বন্ধু নাছোড়বান্দা ও আমার কাছে থেকে সিসি টিভির ফুটেজ চাইলো আইনি পদক্ষেপ নিতে। তখনই আবিষ্কার করলাম। সিসি ক্যামেরায় পুলিশ আসার যাওয়া ভিডিও আছে। কিন্তু জর্জের কোন ভিডিও নেই। প্যারানরমাল গবেষক অর্নব কে ফোন করলাম তখনই। ও এসে বললো। আমি বাস করছিলাম একটা পিসাডেইরা (Pisadeira) সাথে।ব্রাজিলের একটি জনপ্রিয় লোককাহিনীর চরিত্র, যারা মূলত স্লিপ প্যারালাইসিস (sleep paralysis) জন্য দায়ী। পিসাডেইরাকে সাধারণত একটি কুৎসিত, রোগাটে বৃদ্ধা হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যার নখ খুব লম্বা ও নোংরা।এদের চুল জট পাকানো চোখ লাল আর কোঠরে ঢুকে থাকে। সে বাড়ির ছাদে বা ছাদের ফোকরে লুকিয়ে থাকে এবং রাতের বেলা মানুষের গতিবিধি লক্ষ্য করে।
যে ব্যক্তিরা, যারা ভরপেট খাওয়ার পর, চিত হয়ে ঘুমায়। চুপিসারে ঘরে প্রবেশ করে তাদের ঘুমের মধ্যে বুকের ওপর চেপে বসে। এর ফলে তারা শ্বাসকষ্ট অনুভব করে, নড়াচড়া করতে বা চিৎকার করতে পারে না, কিন্তু আংশিকভাবে সজাগ থাকে।
এই পুরো সময়টায় পিসাডেইরা একটি কর্কশ হাসি হাসতে থাকে, যা শিকারের ভয় আরও বাড়িয়ে দেয়। অনেক সময় মরে যায়। খাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়া সম্পর্কে ছোটদের সতর্ক করার জন্য প্রায়শই এই গল্পটি বলা হতো ব্রাজিলে। সেই পিসাডেইরা আমার বৃদ্ধ বয়সের বন্ধু হলো ভেবেই অবাক লাগলেও।

44 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: