তাঁরাপিঠ গিয়েছিলাম , বাপি মামার সাথে, নেশায় ঢুলতে ঢুলতে শশ্মান থেকে বেরিয়ে , এসে একটা টোটো ধরে আটলা গ্রাম , বাবা ক্ষ্যাপার জন্ম ভিটা পেরিয়ে গিয়ে ক্ষ্যাপি মায়ের থানের কাছে গিয়ে গাড়ি থামলো। সেখানে কাকতাড়ুয়া মতো রোগা এক তান্ত্রিক সাধু দাঁড়িয়ে। কুমড়োর ফালির মতো তার চওড়া হাসি।
আমাকে দেখে বললো " এ তোমার লেখক ভাগ্নে বাপি। নুন ছাড়া ডিম সিদ্ধ , দাড়ি ছাড়া লেখক কিন্তু মানায় না।"
রসিকতা ঠিক ভালো না লাগলেও , হজম করে নিলাম, জ্বরের ঔষধ এর মতো। কারণ উনি নাকি তার পাঁচটা ভুত ধরে রেখেছে। আমি আবার জ্যান্ত ভুত দের নিয়ে গল্প লিখতে চাই। কিন্তু আরশোলা টিকটিকি দেখে ভয় পাওয়া লোক, ভুতের মুখমুখি হবার সাহস পাই নি। তবে এখানে ভয়ের কোন কারণ নেই, ওদের মুলোর মতো দাঁত, কাস্তের মতো নখ গুলো কেটে দিয়েছে আগেই ঐ তান্দ্রিক। এই ভুতগুলো বিভিন্ন জমিদার বাড়ি থেকে ধরা । শর্তানুযায়ী, আমার কাজ ওদের ইন্টারভিউ ছলে ভাব জমিয়ে জমিদার বাড়িতে কোথাও গুপ্তধন লোকানো থাকলে তা জেনে বার করা।
প্রথম বোতলটা খুলতেই । প্রফুল্লতা সাথে তুলোর মতো সাদা বাতাস বেরিয়ে এলো।এসেই খুব মিষ্টি ভাষায় " ঠ্যাঙ কিউ "বললো কেউ একজন । গলা শুনে বুঝতে পারলাম একটা স্ত্রী ভুত। মেয়েদের সাথে আমি এমনিতেই কথা বলতে ভয় পাই, তারপর আবার এ মহিলা ভুত। কোষ্ঠকাঠিন্য ভোগা লোকের মতো বললো " আপনি যদি সামনে প্রকট হন ভালো হতো, কারণ আপনার সাথে কথা বলতে সুবিধা হতো "
উনি বললেন " ইস্ আমি ওদের বললাম আমাকে একটু ছাড়ে দিতে ,ওরা ছাড়লো না, বিউটি পার্লার না গিয়ে ইন্টারভিউ দেওয়া যায় নাকি। একে আমাকে দেখেতে রানু মন্ডলের চেয়েও খারাপ হয়ে গেছে। আমার ভুঁত লোকের বর বলে এক মাত্র চোখটাই এক আছে। "
আমি বললাম " আমি তো প্রিন্ট মিডিয়ার লোক। ছবি না হয় পরে পাঠিয়ে দেবেন। তাছাড়া মোবাইল ক্যামেরা তে কিছু এপ্লিকেশন আছে , যাতে আপনাকে সুচিত্রা দেবির চেয়েও সুন্দর লাগবে। সামনাসামনি কথা বলতে একটু সুবিধা হবে। আপনি মহিলা বলে লজ্জা পেলে অন্য কথা.."
মহিলা ভুত টা বললো-" রাতের পৃথিবীটার মালিক শয়নকক্ষ সুন্দরী মহিলা, তা রাতের বেলায় আমি ভুত হয়ে ভয় পাবো কেন, তাছাড়া আমি শাকচুন্নি মানে বিবাহিত, তাই কিছু উল্টো পাল্টা করলে তোকে মেরে পাটলাস করে দেবে তুই কি ভেবেছিস তোরা আমাকে ধরেছিস না আমি , আসলে একটু পাবলিসিটি চাই তাই ধরা দিয়েছি!"
আমি বললাম ' ইন্টারেস্টিং পাবলিসিটি কেন?"
শাকচুন্নিটা বললো " মানে তোরা ফেসবুক , টুইটার, ইস্টাগ্রাম করে পাবলিসিটি করিস আমরা করলে দোষ। Google সার্চ করে দেখবি রামজি ফিল্ম সিটিতে রাতের বেলায় ভুতের উপদ্রব হয়। কারণ ওরা ফ্লিমে অভিনয় করতে চায়, ভুত বলে কি। সাধ আলাদা নেই।"
আমি বললাম " তা ঠিক..."
উনি বেশ উৎসাহ পেয়ে বললো " কোলকাতায় national লাইব্রেরি তে ভুত আছে , কারণ ভুতেরা বই পড়তে ভালো বাসে। কিন্তু কোন হাসপাতালে ভুত পাবে না শরীর নেই তাই শরীর খারাপ হয়না। রেড রোডে ট্যাক্সি দাঁড় করানো ভুতের গল্প শুনবে কারণ আমরা ও ভুতেরা ও লং ড্রাইভে যেতে ভালোবাসি।রাজ কিরন হোটেলের নাম শুনেছি সে। সুন্দর এই হোটেলটিকে ভারতের সব থেকে বড় ভৌতিক হোটেল হিসেবে অনেকেই দাবি করেন। হোটেলের রিশেসনের কর্নারে থাকা একটা ঘরকে ভূতুড়ে ঘর হিসেবে দাবি করে থাকেন সবাই । মানে কি দাঁড়ালো ভুতরা ঘুরতে যেতে ভালোবাসে।"
আমি বললাম " হুঁ"
উনি বললেন " আচ্ছা আমি তো বলে যাচ্ছি, তুই তো কিছুই জিজ্ঞেস করছিস না.."
আমি হেসে বললাম "আসলে মহিলাদের সাথে আমি কথা বলতে বিব্রত বোধ করি।, আমার স্ত্রী আমার শক্তি কিন্তু বাকি সব মহিলারা আমার দুর্বলতা."
কথা শুনেই দেখি উনি আমার সমানে হাজির হলো। হেসে বললো " পেত্নী আর পত্নী দুটোই সমার্থক শব্দ জানেনতো, ঘাড়ে চাপলে নামবো না সহজে।"
আমি বললাম " না না আমি এখনো সিঙ্গেল, "
পেত্নী বললেন " এ বাবা বয়সতো অনেক হলো বিয়ে করলি না কেন?"
আমি বললাম " সে দুঃখের কাহিনী নাইবা শুনলেন।"
উনি বললেন " দুঃখ এর কথা ভাগ করলে ব্যাথা কমে , বলে ফেল না.."
বললাম " বিয়ে করার ইচ্ছা তে ছিলো তা নয়। চাকুরীর পেতে দেরি হয়ে গেলো। যাইহোক প্রথম দেখাতেই পাত্রী পছন্দ হয়ে গেলো। মিষ্টি মুখ করাতে পাত্রীর মা এসে যখন আবার এলেন , তখন বলেই ফেললাম আপনাকে কিন্তু খুব চেনা চেনা লাগছে। উনি বললেন ,' থাক সে কথা পরে হবে ।' কিন্তু আমি নাছোড়বান্দা, অনেক পেরাপেরি করতে রেগে গিয়ে বললেন ' দুই বছর পিঁপড়া মতো পিছু পিছু ঘুরে সরস্বতি পূজার দিন love letter দিয়ে তাকে তুমি ভুলে গেলে, তাহলে, আমার মেয়ের জন্মদিন, বিয়ে বার্ষিকী দিন কিভাবে মনে রাখবে তুমি । রোজ তো ঝগড়া হবে তোমাদের আলু আনতে বললে সালু আনবে ।বিয়ে ভেঙে গেলো। তারপর আর পাত্রি দেখতে যেতে সাহস পাইনি "
গল্পটা শুনে উনি গাড়ি ইনঞ্জিন স্টার্টের মতো একটা হাসি হাসলেন।
মনে মনে কষ্ট হলো তাই প্রসঙ্গ ঘড়াতে জিজ্ঞেস করলাম " আপনি কি করে ভুত হলেন। "
উনি বললেন " আমার স্বামী কপালের দোষে"
আমি বললাম " সে কি কথা স্বামীকে না দোষ দিয়ে তার কপালকে দোষ দিচ্ছেন যে!"
উনি বললেন " আমার স্বামীর সাথে সেদিন আমার খুব ঝগড়া হয়েছিলো। মুড অফ নিয়ে কাজ এ গিয়ে চাকরিটা হারালো। মনের দুঃখে ঘরের বসে ক্লোডড্রিংস ঢেলে খাতে যাচ্ছিল, আমি দেখে ওটা খেয়ে ফেললাম। কিন্তু ওর কপাল খারাপ, ও বিষ তিতো হয় বলে ওতে ক্লোডড্রিংস মিশিয়ে ছিলো, তাই আমার গল্পটা ওখানেই end হয়ে গেলো। "
আমি একটু দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললাম "তা পেত্নী জীবন টা কেমন লাগছে আপনার একটু বলুন"
উনি ভীষণ রেগে গেলো। বললো " আমাকে পেত্নী বলবে না। সাধারণত বিশ্বাস করা হয় যে, যেসব নারীর অপঘাতে, আত্মহত্যায়, অবিবাহিত অবস্থায়, অথবা সন্তান জন্মদানের সময় বা গর্ভাবস্থায় মৃত্যু হয় এবং যাদের কিছু অতৃপ্ত ইচ্ছা বা অপূর্ণ বাসনা থেকে যায়, তাদের আত্মাই মৃত্যুর পর পেত্নী হয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করে। লোককাহিনী অনুসারে, অনেক পেত্নী তাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী পুরুষদের বা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ওপর প্রতিশোধ নিতে চায়।
শাকচুন্নি সাধারণত একজন বিবাহিত মহিলার আত্মা, যিনি জীবিত অবস্থায় অকাল বা অপঘাতে মারা যান অথবা দাম্পত্য জীবনে সুখ পাননি এবং তার অতৃপ্ত ইচ্ছা বা বাসনা রয়ে গেছে। তাই শাকচুন্নিরা রোমান্টিক হয়। ওদের মতো প্রতিশোধ নেয় না। হয়তো একটু হিংসুটে হয়। তা সব মেয়েরাই তো হিংসুটে হয়। আপনি বড় অন রোমান্টিক তাই আপনার বিয়ে হয় নি। পেত্নী আর শাকচুন্নির পার্থক্য বোঝেন না। মানুষ চিনবেন কি করে। অন্য কেউ হলে আমার নাম্বার চেয়ে নিতো পরকীয়া প্রেম চালাবে বলে। কারণ শাকচুন্নিরা প্রেম করতে চায়। "
দেখলাম পূর্ব আকাশটা লাল হবে হবে করছে। তাই আমাদের আড্ডাটা আজ এখানে ই শেষ করতে হলো। তবে দেখা হবে নিশ্চয়ই পরে,,
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
শাখচুন্নীর ইন্টারভিউ
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
36
Views
1
Likes
0
Comments
5.0
Rating