শেষমেস নিজের বাজেট মধ্য টালিগঞ্জ মতো জায়গা ভালো একটা ঘর পাওয়া গেলো সস্তায়। আপনি বলবেন তোমার নিজের বাড়িতে থাকতে আবার বাড়ি ভাড়া করা কি জন্য। আসলে অবিবাহিত আমি, ভাইয়ের বৌ অযত্নে রাখে না আমাকে কখনো কিন্তু আমি বড়ো অগোছালো, অনিয়মিত। ওরা মুখে কিছু বলে না। আসলে আমি পেটের দায়ে প্রবাসী তাই বছরে আমি নয় মাসে ছয় মাসে বাড়িতে আসি। আমার বিশৃঙ্খলা ওর মেনে নিলেও দেখলাম বাড়িতে ছোট বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কারণ সেইদিন আমার ভাইপো আমার ভাইয়ের বৌকে বললো জ্যাঠাই "ও তো স্নান করে না তুমি তো জ্যাঠাই কে কিছু বললেন। " ও আমাকে দেখে বিশৃঙ্খল হচ্ছে। দাঁত ব্রাশ না করে খাওয়া, হাত না ধোঁয়া, অনেক অনেক বাজে স্বভাব আছে আমার। তাই স্বাধীন ভাবে কোরো নিয়ন্ত্রণহীন জীবনটার জন্য বাড়ি ভাড়া করা আর কি??
পাড়ার চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে গিয়ে লোকজন ওই বাড়িতে থাকছি শুনে অবাক হলো। কারণ সবাই বললো বাড়িটা ভুতের বাড়ি। সপ্তাহ খানি বাড়িটা ভাড়া নিলেও দুইদিনের বেশি থাকা হয়নি এখনো বাড়িটা তে। আসলে সামনের বই মেলায় পুতুল আর মুখোশ নিয়ে একটা গবেষণা মুলক বই লিখতে চাই। ওটা নিয়ে গ্রাম গঞ্জ ঘুরে বেড়াই। তবে ভুত নিয়ে আমার তেমন মাথা ব্যথা নেই।
মানুষ থাকবে যত দিন,ভূত থাকবে, । ভূত আছে আমাদের মনের মধ্যে, আমরাই তাকে সৃষ্টি করেছি মনের ইচ্ছা থেকে। ভূত আমরা চাই।পৃথিবীর নানা দেশে ভূতদের আবির্ভাব হয়েছে লোকসংস্কৃতি অনুযায়ী। বিভিন্ন দেশের ভূতের নাম ভিন্ন, চরিত্র আকৃতি সব কিছু আলাদা। ব্রাজিলে যেমন পিসাডেইরা , রোমানিয়ায় তেমন সামকা। আবার জাপানে আছে ওনরোয়ো, ইসরায়েলে ডাইবুক,স্পেনে সান্টা কম্পানা, চীনে জিয়াংশি,ফিলিপাইনে মানামাঙ্গাল, , আয়ারল্যান্ডে বানশি, মরক্কোয় আইচা কান্ডিচা, শ্রীলঙ্কায় মোহিত, ইন্দোনেশিয়ায় কুন্তোলিকা, নেপালে ইয়েতি,সৌদি আরবে ইফ্রিত, ভেনেজুয়েলায় লা সাইওনা, দক্ষিণ কোরিয়ায় গিউসিন, , গ্রিসে শেইড, রাশিয়ায় চর্ট, থাইল্যান্ডে মায়ে নাক, যুক্তরাজ্যে ব্লাডি ম্যারি, মালয়েশিয়ায় পেনাঙ্গালান, যুক্তরাষ্ট্রে বেল উইচ/অ্যানাবেল, মেক্সিকোয় লা লোরনা, পাকিস্তানে পিচাল পিয়ারি।
তবে ভূত বা অশরীরী সত্বা ধরা পরে প্যারানরমাল ঘটনার মধ্যে পড়ে। ভূতকে পাশ্চাত্যে একে ডেড স্পিরিট বলে অভিহিত করেন। আমাদের দেশে যাকে বলা হয় আত্মা। ভারতে প্যারানরম্যাল ঘটনা নিয়ে গবেষণা না হলেও পাশ্চাত্যে ভূত নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে। আপনি ভূতকে অবিশ্বাস করতে পারেন, ভূত কিন্তু আপনাকে এড়িয়ে যাবে না। ওরা আপনার সমস্ত গতিবিধির উপর খুব কড়া নজর রেখে চলে।
আসলে নানা ধরনের ভুত হয়। যেমন ধরুন পোলটারজিস্ট, পাতি বাংলায় উপদ্রবকারী ভূত। ইউরোপে এর উপদ্রব খুব বেশি। এই ভূতরা পরিবেশে সহজে কাজে করতে পারে। এরা আপনার ঘরের জানালায় শব্দ করে। আপনার ড্রয়ার খুলতে পারে, ঘরের মধ্যে জিনিস সরিয়ে ফেলতে পারে। আপনাকে জ্বালাতন করে এরা।
ইন্টারঅ্যাক্টিভ পারসন্যালিটি ভুত,এই ভূত আমাদের দেশের শহরে বা গ্রামে অনেক বাড়িতে থাকে।এরা আপনাদের খুব প্রিয়জন, যেমন মা, মাসি, কাকিমা, স্ত্রী বা স্বামী, ঠাকুরমা, প্রেমিক/প্রেমিকা, যারা একসময় আপনাকে খুব ভালবাসতেন, তারাৎ। এরা আপনার কাছে ফিরে ফিরে আসে সেই ভালবাসার টানে, এরা কিছু জানাতে চায় যাতে আপনি উপকৃত হবেন।
তাই ভুত ভয় আমি পাই না, বিশেষ করে বাংলার ভুতরা খুব নিরীহ, চুরি করে খুব জোর দুটো মাছ চুরি করে খাবে আরকি আমার সপ্তাহ যেখানে একবার বাজার করতে হয়। সেখানে না হয় দুইবার বাজারে যাবো এটাই।
কিন্তু টানা দুই তিন দিন পর ভুত টা দেখি আমাকে শাসন করতে শুরু করলো। না খেয়ে শুতে যাচ্ছিলাম হঠাৎ দেখি আয়নায় লেখা ভেসে ওঠলো "খাবার টা খেয়ে তবে শোবেন। "বাথরুমে হাত ধুতে গেছি আয়নায় লেখা ভেসে এলো, "অন্তত কুড়ি সেকেন্ড হাত ধুতে হয়। আপনি তো কুক ছিলেন এটা তো জানার কথা আপনার। "তবে শুধু শাসন করছিলো এমন নয়। ঘরটা গুছিয়ে রাখতে শুরু করছিলো। আমি বুঝতে পারলাম এ বাড়িতে কোন মহিলা ভুত আছে। কনফার্ম হতে পাড়ার চায়ের দোকানে আড্ডায় বসলাম। ওরাই বললো বছর দশকে আগে একটা নেপালী পরিবার এখানে থাকতো। কিছু একটা ঘটনা ঘটায় সবাই এক সাথে আত্মহত্যা করেছিলো। সেই থেকে কেউ এ বাড়িতে ভাড়া আসতে পারে না।
আজ যথারীতি ঘরে ঢুকেই দেখলাম, আয়নায় লেখা আছে,"দুই দিন ধরে স্নান করেন না। দাঁত ব্রাশ ও করেন না। আজ স্নান করে তবেই খাবার খাবেন। "
আমি মজা করে লিখলাম " আপনি যে ভাবে শাসন করছেন তাতে মনে হচ্ছে আপনি আমার আগের জন্মের বৌ,দাঁত ব্রাশ করলে কি একটা ঢুম্বন পেতে পারি আপনার। "
উনি উত্তর দিলো সাথে সাথে " আপনি তো ভারি অসভ্য লোক, একটা অশরীরী আত্মাকেও কু প্রস্তাব দিচ্ছেন, আপনার কি ভয় ডর কিছু নেই। '
আমি লিখলাম " ভয় কি আছে আমি কনফার্ম আপনি মেয়ে আত্মা, কারণ ছেলে হলে এখন পাড়ায় আড্ডা মারতো, ঘর গুছিয়ে, কাপড় কেচে রাখতো না। আপনি পেত্নী হলে অবিবাহিত, প্রেম করতে বাধা নেই। শাখ চুন্নী হলেও অসুবিধা নেই এখন পরকীয়া প্রেমটা কোন অপরাধ নয়। "
উনি বললেন " আমি শাকচুন্নীও না, পেত্নী ও না আমি চুদাইলনি"
আমি বললাম " আমি তো ভুলে গেছিলাম আপনি নেপালী। তারমানে আপনি তো আমার মতো প্রেম ব্যার্থ হয়ছেন, আমার সাথে প্রেম করতে অসুবিধা নেই। আপনি চাইলে বিয়ে করতে পারি যদি কারণ মানুষরা ঠকায় ভালোবাসার অভিনয় করে। কিন্তু আপনি নিজেই তো কারো না কারো কাছে ঠোকেছেন আশাকরি আপনি আমাকে ঠাকাবেন না"
উত্তর এলো " স্বপ্ন দেখাবেন না, শুভ রাত্রি "
নেপালের লোক বিশ্বাস অনুযায়ী চুদাইলনি প্রেমে ব্যর্থ হয়ে অকাল মৃত্যুর মুখে পতিত অল্পবয়সী মেয়েরা চুদাইলনি হিসেবে বেড়ায়। এরা যদিও বিপজ্জক। বিশ্বাস করা হয় যে তারা যুবক-যুবতীদের প্রেমে ফাঁদে ফেলে এবং ধীরে ধীরে তাদের শরীর থেকে রক্ত চুষে হত্যা করে। চুদাইলনি যুবকদের সম্মোহিত করে বলে বিশ্বাস করা হয়; তারা বিচ্ছিন্ন পুরুষদের লক্ষ্য করে এবং প্রেম সম্পর্কে মিষ্টি কথাবার্তা বলে। একবার পুরুষদের প্ররোচিত করা হলে, তারা পুরুষের রক্ত চুষে যতক্ষণ না সে মারা যায়। চুদাইলনি দ্বারা সম্মোহিত যুবক ধীরে ধীরে ওজন হ্রাস করে, ফ্যাকাশে হয়ে যায়, কারও সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়, হতাশাগ্রস্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত মারা যায়।
দুই দিন কোন শাসন করলো না আমায়।
আমি নিজে থেকেই লিখলাম " আপনাকে খুব মিস করছি। আমাকে কেউ শাসন করার নেই। তাছাড়া আমি খুব একা একটু কথা বলুন না। "
উনি বলেন " দেখুন আপনি লেখক, আপনি চুদাইলদের চরিত্র জানেন, আমি আপনাকে প্রেম ফেলতে এসে নিজেই প্রেম পড়ে যাচ্ছি। তাই আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাই না। আপনি এ বাড়ি ছেড়ে চলে যান .."
আমি বললাম " আমি এ বাড়ি থেকে যাবো না। বরং এই বাড়িটা কিনবো। আমি জানি এই বাড়ির ছেলেকেই আপনি ভালোবাসতেন। শুধুমাত্র ভাড়াটে বলে ওরা আপনার সাথে বিবাহ হতে দেয় নি। আমি আপনি এ বাড়িতে ই থাকবো। মৃত্যু পর আমার জীবনে কি হবে জানতাম না। কিন্তু এখন আপনার হাতে আমার মৃত্য হলেও সেতো হবে সুখের, মৃত্যু পর আমরা তো এক সাথে থাকতেই পারি। "
উনি বললো " মরণ তো আমার হয়েছে, প্লিজ আমাকে স্বপ্ন দিখেয়েন না, স্বপ্ন ভাঙার কষ্ট ভয়ঙ্কর। "
বাড়ি ভাড়া
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
34
Views
1
Likes
0
Comments
5.0
Rating