উকি ওনা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
সন্দীপ সাথে আমার আলাপ আবুধাবিতে। ওকে আমি বুদ্ধি দিয়ে ছিলাম পাহাড়ের একটা অফবিট জায়গায় যদি জমি জোগাড় করে হোম স্টে খোলা যায় আমরা অনেক পয়সা কামাবো। কিন্তু ওর সাথে ব্যবসা শুরু করার জন্য খোঁজ খবর নিতে গিয়ে মনোজ যোগ দিলো আমাদের সাথে। তিন জনে তীর্থান ভ্যালিতে এটি জমি জোগাড় করে একটা হোম সেট খুলাম। এটা হিমাচলের একটি লুকানো এবং মনোরম স্থান যা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য আমাদের ব্যাবসা জন্য উপযুক্ত জায়গা। আবুধাবি আমরা অফসোরে কাজ করতাম একটা ক্যাটারিং কোম্পানিতে। ফলে আবুধাবির ধনী মানুষদের সাথে আমাদের পরিচিত হয়েছিল। আবু বাকার বলে একজন সেখ দুই বছর আগে আমাদের হোম সেটে ঘুরতে এলো।
উনার অনেক ধরনের ব্যবসা আছে, আবুধাবি তেল উত্তোলন করি কোম্পানি Adnoc এর একজন উচ্চ পদস্থ্য অফিসার খারাপ আবহাওয়ার থাকা সত্ত্বেও উনি পাহাড়ের ঘুরেতে গেলেন। উনি পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু একদিন পর  নিজেই ফিরে এলেন  তিনি  ,এক অপূর্ব সুন্দরী মেয়ের সাথে। ঐ মেয়েটাই নাকি ওনাকে বাচিয়েছে। মেয়েটা আমরা গ্রামে কখনো দেখি নি কিন্তু সাথে একটা দুধের শিশু থাকায় কেউ ওকে  বেশি সন্দেহ করলাম না।কিন্তু  ও গরবালি ভাষা বলতে পারে না কিন্তু ইংরেজি বলতে পারে বলে আমি বরাবর ওকে সন্দেহ করছিলাম। কিন্তু আবু বাকার স্যার ওকে বিয়ে করতে চাইছিলো। তাই উনার অনুরোধ মেয়েটাকে রাখলাম আমাদের সাথে। আবু বকর হঠাৎই মারা গেলেন। তবে উনি ওনার কোম্পানি থেকে মাসে একটা মোটা টাকা পাঠানোর ব্যাবস্থা করে গেছিলেন। এদিকে সন্দীপ সাথে মেয়েটা মানে ওযুকির সাথে একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছিলো। সন্দীপ আবু ধাবিতে ফিরে গেলো আবু বাকার কিছু সম্পত্তি ওযুকি নামে রেখে গেছিলো । সেগুলো বেচে টাকা আনার জন্য। টাকা আমাদের বিসনেস একাউন্ট  ঢুকলো। অদ্ভুত ভাবে দিল্লি পৌছে সন্দীপ অসুস্থ। অদ্ভুত ভাবে ওরদেহ রক্ত শুন্য হয়ে গেছে। এদিকে আমাদের গ্রামটা নিরাপদ নেই। একটা নেকড়ে উপাত্ত হয়ছে। বন দপ্তর থেকে লোক জন এসেছিল, কেউ কিছু করতে পারে নি। গ্রাম ছেড়ে সবাই পালাছে। কারণ অদ্ভুত ভাবে বহু পুরুষ এবং তিনটি মেয়ে মারা গেছে ঐ গ্রামের। তার মধ্যে একজন মনোজের প্রেমিকা সোনালী ছিলো।

অসুস্থ গ্রাম আমাকে ফিরতেই হলো। কিন্তু স্থানীয় থানার বড়োবাবুর ফোন পেয়ে। মনোজ লাশ পাওয়া গেছে। আবু বকর ঠিক যেখান থেকে হারিয়ে গেছিলো সেখান থেকে। বড়ো বাবু জিজ্ঞাসা করলো আমাকে আমি ওর খুনের জন্য কাউকে সন্দেহ করি কিনা। আসলে উনি ঘুরিয়ে ফিরেয়ে প্রশ্ন করতে চাইছিলো, আমি ওকে খুন করেছি কিনা। কিন্তু সবকিছু ধাপ চাপা পড়ে গেলো। রোড এক্সিডেন্ট কেস সাজিয়ে মনোজ খুনের ঘটনাটাকে চেপে যাওয়া হলো।
ওযুকি বড়োবাবুকে হঠাৎই এসে বললো,  মনোজ ও খুন করছে। আসলে মনোজ ওর টাকার লোভে ওকে বিয়ে করতে চাইছিলো। এবং মনোজ নাকি সেই জন্য ওর নিজের হাতে নিজের প্রেমিকা মরেছে। এবং সন্দীপ কে মারতে চায় বলে, সন্দীপের লাগেজে ভুল ওষুধ রেখে দিয়েছিলো। ও কাঁদলো প্রচুর ও বললো যত টাকা চায় ও দেবে কিন্তু ওকে যেনো জেলে না দেওয়া হয়। কারণ ওর একটি ছোট ছেলে আছে। তার জন্য ও বাঁচতে চায়। সবাই সহানুভূতি দেখালেও অনেক কটা টাকার বিনিময়ে ক্যাসটা ধামা চাপা দিয়ে দিলো। কিন্তু আমার খুব সন্দেহ হলো ও সব কিছু মিথ্যা বলছে।


ওযুকি নামটা আমার খুব চেনা। জাপানের উপকথায় পড়েছিলাম বোধহয়। জাপানের  বরফাচ্ছাদিত পাহাড়ি অঞ্চলে    অপূর্ব সুন্দরী উকি-ওনা বাস করে । ওদের চোখের ইশারায় পথিককে বিভ্রান্ত করে দিতে পারে। শীতের ঝড় কিংবা তুষারপাতের সময় মানুষের হারিয়ে যাওয়ার কারণ ওরা। অবশ্য কখনো কখনো কোলে একটা শিশু নিয়ে হাজির হয়। হতভাগা পথিক তার কোল থেকে শিশুটাকে নেয়া মাত্রই বরফে পরিণত হয়ে যায়। এরা কখনো সরাসরি হামলে পড়ে জনপদে। ভেঙে চুড়ে দিয়ে যায় বাড়িঘর। হত্যা করে যায় ঘুমন্ত অধিবাসীকে। কখনো ভ্যাম্পায়ারের মতো বের করে নেয় শিকারের রক্ত। এই কয়েক বছরের ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে ওর সবকিছুর কিছু টা মিল আছে।
সারা রাস্তায় ও কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফিরেলো। রাতে হঠাৎই আমার ঘরে এসে বলো। আমার ভয় করছে আমি কি তোমার কাছে শুতে পারি। ও পোশাকটা আটোসাটো, হাইনেক নাইটি পড়ছে অনেক ক্ষানি  আকর্ষণীয়। আমি বললাম আমি ঘুমাবো না তুমি আমার বিছানা শুয়ে পড়ো তোমার ছেলেকে নিয়ে এসে। আমার মন ভালো নেই। ঐ টেবিলটায় বসি আমি জেগে থাকবো, এবছর ব ই মেলায় একটা বই বেড়ানোর কথা সেটার কাজ করতে চাই।
ও নির্লজ্জ মতো আমাকে জরিয়ে ধরলো। তুমি আমাকে এড়িয়ে যাও সব সময়।তাই তোমাকে পাওয়া আকাক্ষা অনেক দিনের। আমাকে তোমার সন্তানের মা হতে দেও তুমি সবাইকে লুকিয়ে গেছো। সন্দীপ আর বাঁচবে না। আমি একা থাকতে চাই না আমাকে বিয়ে করো। অনেক অনেক আদর করো এখনি। আমি ভয় পেয়ে গেলাম, ওকে আদর শুরু করলাম ওকে।

আমি নিশ্চিত হয়ে গেছি উকি ওনা। কারণ জাপানের উপকথায় বলা হয়েছে।প্রাচীনকালে মিনোকিচি এবং মোসাকু নামের দুই কাঠুরে বসবাস করত। মিনোকিচি ছিল তরুণ আর মোসাকু খুবই বৃদ্ধ। এক শীতের দিনে তারা ঝড়ের কারণে ঘরে ফিরতে পারল না। জঙ্গলেই খোঁজাখুঁজি করে পাওয়া গেলে পতিত কুড়েঘর। ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়তেও দেরি হয় না। সন্ধ্যার দিকে মিনোকিচি চোখ খুলেই দেখে ভয়ানক কাণ্ড। সাদা পোশাক পরিহিত এক সুন্দরী তরুণী মোসাকুর উপর নিঃশ্বাস ফেলল। সাথে সাথে বরফে জমে মৃত্যুবরণ করল বৃদ্ধ। তরুণী এবার মিনোকিচির দিকে এগিয়ে আসে। কী ভেবে নিঃশ্বাস ফেলতে গিয়েও থেমে যায়। বলে ওঠে, "বৃদ্ধের মতো তোমাকেও হত্যা করতে পারতাম। কিন্তু তুমি তরুণ এবং সুদর্শন। বেঁচে থাকো। কিন্তু যদি কখনো আমার কথা কাউকে বলো, কেউ রক্ষা করতে পারবে না সেদিন।" কয়েক বছর পরে মিনোকিচি ওযুকি নামের এক তরুণীকে বিয়ে করে। কয়েকটি সন্তান নিয়ে সুখেই কাটে দিনগুলো। কিন্তু দিন গড়ালেও তরুণীর বয়স বাড়ে না।

একদিন সন্তানেরা ঘুমিয়ে গেলে মিনোকিচি স্ত্রীকে ডাকে। বহু বছর আগে দেখা আজব ঘটনার কথা বলে, এবং বলে সেই বরফে দেখা তরুণীর সাথে নিজের স্ত্রীর মিলের কথা। আর ওযুকি শুনেই দাঁড়িয়ে যায়। "আমিই সেই তরুণী। কিন্তু আমি তোমাকে সেই ঘটনা কাউকে বলতে নিষেধ করেছিলাম। তবুও আমি তোমাকে খুন করলাম না। কেবল সন্তানগুলোর জন্য। তাদের দেখে রেখো। এই বলে উধাও হয়ে যায় উকি-ওনা। তারপর আর কেউ তাকে দেখেনি।
রাতটা কাটালাম ওর সাথে ভালোভাবেই।সাকলে খবর দিলোও ওর মা হবার সম্ভাবনা আছে। ওকে আদর যত্ন করে ঘুম পাড়িয়ে দিলাম।ঘুমিয়ে পড়তেই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। গাড়িটা পাহাড় থেকে ফেলে দিলাম। যাতে সবাই ভাবে আমি দূর ঘটনাতে মরে গেছি। প্রথম দিল্লি তে এলাম সত্য সন্দীপ মারা গেছে। আমি আর ফিলাম না। তীর্থান ভ্যালি, ওযুকি আমার অপেক্ষা করছে কিনা জানি না। কিন্তু আমি মৃত্যুর অপেক্ষা করছি। উকি ওনা আমাকে কি ছেড়ে দেবে? যদি ও নতুন করে মা হতে পারে তাহলে হয়তো মারবে না। উকি ওনারা নিজের সন্তানের বাবাকে মারে না।

32 Views
1 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: