আলোর উৎসব

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
আমার কাছে আলোর চেয়ে অন্ধকার বেশি মূল্যবান, বড় আপন,আলোতে আমি উশৃঙ্খল হয়ে যাই , চঞ্চল হয়ে যাই , কাকে যেনো  খুঁজে বেড়াই। তবে শুধুমাত্র অন্ধকারেই আমি বুঝি আমার প্রকৃত মূল্য। তবে অন্ধকারটা আজকাল খুবই মন খারাপ করায়।।তোমার হাসির আলো খুঁজি সবসময়।তুমি আমাকে ভীষণ ঘৃণ্য কর জানি। মাঝে মাঝে তাই আমার মরে যেতে ইচ্ছা হয়।  কিন্তু আমি একটা অন্ধকার ময় মৃত্য চাই না।
জানো নরকাসুরের মৃত্যুর ইচ্ছা ছিল তাঁর মৃত্যু আনন্দ এবং আলোর সাথে উদযাপন করা হোক, দুঃখ নয়।তাই কৃষ্ণ আর সত্য ভামা হাতে মৃত্যুর পর উৎসব পালন করা হয়েছিল আলোর সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিল নগর গ্রামকে।
মনে পড়ে  দীপাবলি উৎসবে তুমি সারা বাড়িতে মাটির প্রদীপ দিয়ে সাজাতে। তুমি চৌদ্দ টা মাটির প্রদ্বীপ বানিয়েছিলে নিজের হাতে ভুত চতুর্দশী দিনে। সারারাত জেগে প্রদ্বীপ গুলো নেভতে দেবেন না বলে ঠিক করলে।
তখন আমি তোমার সাথে রাত জেগে ছিলাম, তোমাকে হানুকার উৎসবের কথা বলেছিলাম। ইহুদিরা যখন জেরুজালেম কে গ্রীকদের দখল মুক্ত করলো তখন ওদের মন্দিরটি শুদ্ধ করে ইহুদী ধর্মমতে প্রতি রাতে একটি করে প্রদীপ জ্বালানোর সিদ্ধান্ত হয়। একমাত্র জলপাই তেলেই এই প্রদীপ জ্বালানোর নিয়ম ছিল। কিন্তু যুদ্ধের পর মন্দিরে অনেক খুঁজেও এক বোতলের বেশি তেল পাওয়া গেল না। এই তেল দিয়ে এক রাতের বেশি প্রদীপ জ্বালানোর কোনো উপায় ছিল না। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে সেই তেলে আট দিন ধরে সবক’টি প্রদীপ জ্বলতে থাকে। এর মধ্যেই ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে তারা প্রয়োজনীয় তেল প্রস্তুত করে ফেললেন। এই আশ্চর্য ঘটনাকে স্মরণ করেই আট দিন ধরে হানুকা উৎসব পালন করা হয়ে থাকে।


হানুকা একটি পারিবারিক উৎসব। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এই উৎসব পালিত হয়। হানুকা উৎসবের আট রাতের প্রতিটিতে এক বিশেষ ধরনের বাতি জ্বালানো হয়, যা ‘মেনোরা’ নামে পরিচিত। মেনোরা এই উৎসবের মূল প্রতীক। হানুকা উৎসবের জন্য তৈরি এই বিশেষ মেনোরার নাম হানুকিয়া, হিব্রু ভাষায় এর অর্থ আট দিন। উৎসব পালনের জন্য বেশিরভাগ ইহুদি পরিবারই ধর্মীয় রীতি মেনে এই বিশেষ মেনোরা প্রস্তুত করে থাকেন।
কি অদ্ভুত না। আবার হিন্দুরাও বলে দীপাবলি হলো রাম সীতার অযোধ্যা ফেরা দিন। তাই  সবাই আলোতে সাজায় অযোধ্যা নগরীকে। এভাবেই নাকি দীপাবলির শুরু। মানে দীপাবলি মিলনের উৎসব। অথচ এই উৎসবের একটা ছোট ঘটনা আমার তোমার মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলো। কিন্তু তোমার ভাইকে সেই দিন মারধর করে কি আমি ভুল করেছি বলো?
তোমার ভাইকে মারাটা  আসলে তোমার কাছে ইগোতে হার্ড করেছিলো। একটা সামান্য রাস্তার কুকুর আর কাজের মেয়ের জন্য তোমার ভাইকে থাপড় মারাটা তোমার গায়ে লেগে ছিলো।
ফ্লয়েড কি বলে জানো?? সুপার ইগোর দুইটি দিক আছে। একটা হলো বিবেক (conscience).,যেটা গঠিত হয় জীবনের বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্ত শাস্তি, সতর্কবাণী, তিরস্কার হজমের ফলাফলরূপে।  দ্বিতীয়টা হলো আদর্শ (ego ideal)... যেটা গঠিত হয় পুরস্কার এবং ইতিবাচক মন্তব্য থেকে। 'বিবেক' এবং 'আদর্শ' মনের সাথে গর্ব, লজ্জা বা অপরাধবোধের মত অনুভুতির মাধ্যমে যোগাযোগ করে।সময় বাড়ার সাথে সাথে জৈবনিক চাহিদার চেয়ে সামাজিক চাহিদা গুলো আমাদের কাছে গুরুত্ব পায়।
তোমার বড়লোক তোমারা চাকর বাকরের কাছে মানুষ তাই তীরস্কাযর তোমদের জোটে নি। পুরস্কার পেতে প্রশংসা পেতে তোমারা অভস্ত্য  । আমি মধ্যবর্তী ঘরের ছেলে।: ফ্রয়ডের কথায় ইড মানব মনের সম্পূর্ণ অবচেতন অংশ। দুর্ভাগ্যের কথা হলো- সমাজ জীবনের নতুন এর 'ইচ্ছা' গুলো প্রায়ই ইড পর্যায়ের ইচ্ছাগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক।দেখাই যাচ্ছে, ইড বা ইগো পর্যায়ে ফোকাসটা থাকে নিজের উপর... সুপার ইগোতে ফোকাসটা থাকে সমাজের উপর। এবং সমাজ প্রায়ই চায় যাতে তুমি তোমার ইচ্ছা গুলো পূরণ করতে  না পারো তার জন্য।
তোমার বড়লোকরা  নিজেদের আনন্দের জন্য পরয়া কর না কোন  কোন কিছুর। উৎসবে আনন্দের অধিকার সবার আছে। কিন্তু তোমার ভাই পাউরুটি মধ্যে চকলেট বোম ঢুকিয়ে, কুকুরটাকে খেতে দিয়ে কি ঠিক করেছিলো??চার বছর হয়ে গেলো কালু এখনো ডাকতে পারে না। ও খেতেও পারে না নিজে নিজে। ওর মুখেই তো বোমা ফেটেছিলো। ঐ এনজিও তে তুমি টাকা পাঠাও ঠিকই প্রতি মাসে। কিন্তু আমি ওখানে গেছি দেখেছি।  তোমাদের আলোর উৎসব কিভাবে কিছু অবলা অসহায় জীবনে অন্ধকার এনে দিয়েছে।
তোমার ভাইয়ের ঘটনা তোমাদের কাছে ছোট ঘটনা , আজ আমার জীবনেও অন্ধকার এনে দিয়েছে। আমি ভীষণ কষ্ট পাই ,তোমাকে ছেড়ে থাকতে। কিন্তু কালুরা বোধাহয় আমার থেকে বেশি কষ্ট পায়।  কালু মুখ থেকে পাউরুটি বের করতে গিয়ে , টেপির হাতটাও নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আমি শর্ত দিয়েছি টেপিকে বিয়ে করতে হবে তোমার ভাইকে। তোমরা হয়তো মানবে না আমার শর্ত কোন দিনই।তাই তুমি ফিরবে না আমার জীবনে আর তাই আমার জীবনে হয়তো আর আসবে না দীপাবলি কোন দিনই , কিন্তু তুমি খেয়াল রেখো একটু তোমাদের আলোর উৎসব  যেনো কারো জীবনে অন্ধকার না নামিয়ে আনে। আলোর উৎসবে তোমারা আতশ বাজি না পুড়িয়ে , পোড়ানোর চেষ্টা করো তোদের ভিতরে শয়তানটাকে যে অন্যের কষ্ট বোঝে না। পারলে দেখবে জীবনের প্রতিটা দিন হবে আলোর উৎসব।

38 Views
0 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: