Google এর জাদুর দেশে

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
এক ছিল ছোট্ট এক ছেলে — নাম রিয়াদ। সে এক গ্রামে থাকত, যেখানে ইন্টারনেট ছিল দুর্লভ জিনিস। একদিন স্কুল থেকে ফিরে সে তার বন্ধুর ফোনে প্রথমবার “গুগল” নামটা শোনে। বন্ধুটি বলল, “গুগল মানে হলো এমন এক জাদুর বই, যেটাতে সব প্রশ্নের উত্তর আছে!” রিয়াদ অবাক হয়ে গেল। সব প্রশ্নের উত্তর? এমন কিছু কি সত্যিই আছে?

পরদিন স্কুলে শিক্ষক একটি প্রশ্ন করলেন — “বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু পর্বত কোনটি?” রিয়াদ উত্তর জানত না। কিন্তু বন্ধুটি হেসে বলল, “গুগলকে জিজ্ঞেস কর!” রিয়াদ কৌতূহলী হয়ে রাতে বাবার পুরনো স্মার্টফোনটি নিয়ে চুপিচুপি চালু করল। নেটওয়ার্ক ছিল দুর্বল, কিন্তু হঠাৎ স্ক্রিনে দেখা গেল রঙিন এক লেখা — Google। সে লিখল, “সবচেয়ে উঁচু পর্বত কোনটি?” মুহূর্তেই উত্তর এলো — “এভারেস্ট”। রিয়াদের চোখে বিস্ময় আর আনন্দ একসাথে ফুটে উঠল।

এরপর থেকে গুগল তার নিত্যসঙ্গী হয়ে গেল। কখনো সে গুগলকে জিজ্ঞেস করত, “সূর্য কেন আলো দেয়?” কখনো বা “বাংলা কবিতার ইতিহাস।” গুগল যেন তার অদৃশ্য শিক্ষক। ধীরে ধীরে রিয়াদ শিখে ফেলল নতুন নতুন জিনিস — গণিত, বিজ্ঞান, এমনকি আঁকার কৌশলও।

একদিন স্কুলে “বিজ্ঞান মেলা”র আয়োজন হলো। রিয়াদ সিদ্ধান্ত নিল গুগলের সাহায্যে একটি ছোট রোবট তৈরি করবে। প্রতিদিন রাতে সে গুগলে সার্চ করত — “কীভাবে সহজ রোবট বানানো যায়”, “ব্যাটারি সংযোগ”, “Arduino project idea”। কয়েক সপ্তাহের চেষ্টায় রিয়াদ বানিয়ে ফেলল ছোট্ট এক রোবট, যেটা “হ্যালো” বললে উত্তর দিত “হাই!”

বিজ্ঞান মেলায় সবাই অবাক হয়ে গেল। শিক্ষক তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি এত কিছু কোথায় শিখলে?” রিয়াদ মৃদু হেসে বলল, “আমার শিক্ষক গুগল!”

সবাই হাসল, কিন্তু সেই হাসির মধ্যেই ছিল বিস্ময়। গ্রামের এক ছেলে, যিনি কখনো শহরে যায়নি, তিনি গুগলের জ্ঞানের আলোয় নিজের পৃথিবী বদলে ফেলল।
সেদিন রাতে রিয়াদ আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবল — “গুগল আসলে কোনো ওয়েবসাইট নয়, এটা এক অদৃশ্য বন্ধু, যে জ্ঞান ভাগ করে নেয় সকলের সাথে।”

আর ঠিক তখনই মনে হলো, দূরের তারা গুলো যেন বলছে — “খোঁজো, শেখো, জানো — কারণ জ্ঞানই তোমার আসল আলো।”
43 Views
1 Likes
1 Comments
5.0 Rating
Rate this: