প্রেমের প্রথম চিঠী

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
আজ দেখলাম তোমাকে অনেক দিন পর, হলুদ শাড়িতে বেশ ভালো লাগছে তোমাকে। সামনের দাঁড়ানোর গাড়ির লুকিং গ্লাসে দেখলাম নিজেকে। তোমার প্রিয় নীল রঙের পাঞ্জাবীতে, বড্ড মানিয়েছে আমাকেও । বেমানান শুধু গোফটাও। আধা কাঁচা আধা পাকা বয়স হয়েছে প্রমান দিচ্ছে। একটা বড় নিঃশ্বাস নিয়ে এগালাম, তোমার সঙ্গে কথা বলল ভেবে, অনেক সাহস জুগিয়ে।
সঙ্গে দেখলাম তোমার মেয়েও আছে, বেশ বড় হয়েছে সে। তোমার চুলটা আগের মতই আছে, বেশ ঘন, বেশ সুন্দর, চোখ গুলো তোর আজও সেই মায়াবী, চশমার আড়ালেও লুকায় নি সেটা।
ইশ  আমার ভুড়িটা বেশ বেড়েছে, পুরো লুচির মতো গোল। তোমার মনে আছে তোমার প্রিয় নায়ক সালমানের  মতো সিক্সপ্যাকের করতে  জিমে যাওয়া শুরু করছিলাম? অথচো চেহারাটা ছিলো আমার তালপাতার সেপাই এর মতো।এখনো যাই তবে ভুড়ি কমানোর জন্য। কিন্তু এখন আমার জন্যে কেউ অপেক্ষা করে না পার্কে বসে এক ঘন্টা কেন এক মিনিট ও না।
আচ্ছা এখনও কি রাগ হলে না খেয়ে থাকো? এখনও কি একই ভাবে রাগ হলে মোবাইক বন্ধ করে রাখো। আচ্ছা তোমার নতুন মানুষটি কি আমার মতই জড়িয়ে ধরে তোমার রাগ ভাঙায়? কিন্তু আজও  মন খারাপ হলে তোমার কোল খুঁজি মুখ লুকিয়ে কাঁদার জন্যে?।
কিন্তু একইভাবে? নতুন মানুষটি কি তোর কাছে আমার মতই প্রিয়? তাকেও কি অকারণে করো বোকা ঝকা?
আচ্ছা তুমি নতুন মানুষটিকে দিতে পেরেছো  আমার জায়গাটা? নিঃসঙ্গ একলা রাতে তোমার কি একটি বারও মনে পরে না আমাদের সেই কিশোর বেলার প্রতিশ্রুতিগুলো? কোনো এক সোনালী অপরেরে হাতে হাত রেখে প্রতিশ্রুতি দিতাম, "আমরা ছেড়ে যাব না একে অন্যকে কখনো " মনে পরে সেই ছেলেমানুষী ভরা প্রতিশ্রুতির কথা? আচ্ছা তোমার কি মনে আছে সেই দিনটার কথা, গলি বাঁকে তোমাকে  প্রথম প্রেমের চিঠী দিতে গিয়ে ধরা পড়ে গিয়েছিলাম সেন্টুদার হাতে। কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল আমাকে এক ঘন্টা কোচিং সামনে। যদিও কারণটা কাউকে বলে নি। কিন্তু তোমার দেওয়া চিঠি টা আমার কাছে আছে এখনো। ইংরেজিতে লেখা, তবে বানান দুই একটা ভুল লিখেছিলে, ব্যকারণ মানে নি ঠিক মতো। আমি সেইগুলা ধরিয়ে দিয়েছিলাম বলেই তুমি আমার নাম দিলে শিয়াল পন্ডিত।
মন আছে তোমার হাতে সেই গোলাপের তোড়া তুলে দেওয়া,টেডি বিয়ার তুলে দিতে তুমি কতো খুশি হয়েছিলে। আচ্ছা তোমার মনে পরে আমাদের সেই প্ৰথম ভ্যালেনটাইন যা আমরা কাটিয়েছিলাম একসাথে? সে বছর তুমি আমাকে একটা টাকা খরচ করতে দাও নি। কারণ তোমাকে উপহার আর ঘুড়তে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি বিয়ে বাড়ি ক্যাটারিং কাজ করেছিলাম। তুমি জানতে পেরে খুব বকা বকি করেছিলে‌। ফুটপাতের ফুচকা আর চপ মুড়ি খেয়ে তোমার পরেরদিন শরীর খারাপ হয়েছিলো। আমি  যখন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সুযোগ পেলাম ।তোমাকে জড়িয়ে কেঁদেছিলাম পাগলের মতো, তুমিও তো কেঁদেছিলে। তোমাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে আজো ছোট ছোট সফলতায়।ভীষণ কষ্ট হয়েছিল সেদিন, আমরা সেদিনও তো নিজেদের লাল নীল মায়াজালে বোনা স্বপ্ন দেখেছিলাম।
তোমার মনে আছে বৃষ্টির দিন তুমি বেরোতে পারছিলাম না বলে আমি তোমার বাড়ির সামনে ফুটবল খেতে এসেছিলিস, তুমি লুকিয়ে লুকিয়ে দেখেছিলে আমাকে, সেদিন. বড্ড সুন্দর লাগছিলো তোমার দুষ্টুমি ভরা হাসিটা।
একে অপরের  সাথে কাটিয়ে দেব সারাটা জীবন, কিন্তু কি যে হল কে জানে, সব কেমন বদলে গেল, বদলে গেলি তুমি আর বদলে গেলাম আমিও। তোমার সাথে কথা না বলে চলত না আমার, কিন্তু দেখো আজ কথা না বলে দিব্যি কাটিয়ে দিলাম। কেটে গেলো এতগুলো বছর।, একটি জুনিয়ার মেয়ের সাথে কথা বলার জন্যে কতই না অশান্তি হয়েছিল আমাদের ।তুমি আমায় সন্দেহ  করতে না আমার বন্ধুদের নিয়েও ।  আজ দেখ তুমি , অন্য কারো গল্পের নায়িকা , কথা হয়নি আমাদের বছরের পর বছর তাও কাটিয়ে দিলাম কি সুন্দর।আচ্ছা তাহলে কি মরে গিয়েছে আমাদের অনুভূতি গুলো? আচ্ছা সত্যিই কি ওটা ভালোবাসা ছিল? নাকি ছিল কেবল ভালো লাগা? আচ্ছা ভালোবাসা থাকলে কি এত সহজে নিজের জীবনে জায়গা দিতে পারতে অন্য কাউকে?
কিন্তু তবুও তোমাকে মনে পরে, যখন রাস্তায় দেখি কোনো যুগল হাটছে একসাথে, মনে পরে আমরাও তো হাটতাম একসাথে, আজও কোনো ব্যর্থ প্রেমের গল্পে খুজে বেরাই আমাদের প্রেমের প্রতিফলন।
তবুও তোমার প্রতি অন্য কারো অধিকার আছে ভাবলে আজও বুকের ভেতরে চিনেচিনে ব্যথা হয়, আচ্ছা প্রথম প্রেম কি কেবলই বেদনাময়? আচ্ছা কয়েকটা প্রশ্ন করব শেষবারের মত? উত্তর দেবে? আচ্ছা নতুন মানুষটির সাথে অশান্তি মনমালিন্য হয় না তোমার? তাকেও কি ছেড়ে চলে যাও কিছু না বলে আমাকে যেমন ছেড়ে গিয়েছিলে? ধরে রাখার চেষ্টা তো কম করিনি তাও কেন পারিনি বলোতো? আমার ভালোবাসার বাধনের থেকেও কি তার ভালোবাসার বাধন মজবুত বেশি? নাকি সে তোকে আটকায়নি কোনো বাধনে? সে কি একেবারে পারফেক্ট? সে কি একেবারে তোমার মনের মত? নাকি আজ পরিণত হয়েছো বলে তাকে বুঝো খুব ভালো? আমাকে কি তুমি চাইলে একটু বুঝতে পারতে না? নাকি আমাকে হারিয়ে নিজের ভুল বুঝে নতুন মানুষটিকে আঁকড়ে ধরে রেখছো প্রবলভাবে।
কারণ আমাকে দেওয়া কষ্টগুলো তুমি দিতে চাও না  বোধহয় তাকে আর।আমিও তো আপোষ করে নিয়েছি জীবনের সাথে।আজও আমার অতীত জুড়ে কেবল তোমার আনাগোনা, ফেলতে পারব না। আমার প্রথম প্রেমের চিঠী খানা এখনো আছে খাম, বন্দি ওর প্রতি অক্ষরে আজো বেঁচে আছে আমার ভালোবাসার অনুভূতি। জানো ভালো হয়েছে। সেই দিন চিঠি খানা তোমাকে দেওয়া হলো না। আমার মতো আমার অনুভূতি গুলো তোমার অবহেলায় হারিয়ে যেতো কোন আবর্জনায় বাতিল কাগজের ভিড়ে।
,,,,

36 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: