আমি পূজায় দিন গুলো কোন দিন আমার কাছে নির্ভাল ছুটিদিন হয়ে ওঠে নি। তার কারণ অবশ্যই অর্থনৈতিক। এখন একটা চাকরি পেয়েছি সংবাদ পত্রে। তাই এ বছর আবার নিজের তাগিদে তে ক্যামেরা কাধে বেড়িয়ে পড়েছি, বাংলার বনেদী বাড়ির পূজা নিয়ে একটা তথ্য চিত্র তৈরি করবো বলে।
আসলে বিভিন্ন পত্র পত্রিকা লেখা পড়লেই আপনি দেখবেন দূর্গা পূজা ইতিহাসকে বিকৃতি করা হয়। সবাই প্রমাণ করতে চায়, ইসলামী শাসন পতন পর বিজয় উৎসব হলো দূর্গা পূজা সুচনার কারণ। কিন্তু ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দে রাজশাহীর তাহিরপুরের রাজা কংসনারায়ণ সর্বপ্রথম সপরিবার দুর্গা প্রতিমা স্থাপন করে পূজার সূচনা করেন বলে দেখা যাচ্ছে কোথাও কোথাও। আবার ১৬০৬ সালে নবদ্বীপ ও গঙ্গাতীরবর্তী সমাজজীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে নদীয়ার ভবনানন্দ মজুমদার করা দূর্গা পূজা, এর ঠিক পর ১৬১০ সালে কলকাতার সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার প্রথম দেবী দুর্গার সপরিবার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা করেন। তাই পারিবারিক পূজা গুলোর তথ্য সঠিক ভাবে জানতে পারলে, প্রমান করা যাবে দূর্গা পূজা টা অনেক প্রাচীন। ইংরেজ সরকার উদারতা জন্য এই পূজা জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তার আগে দূর্গা পূজা ছিলো শুধুমাত্র প্রভাবশালীদের পূজা।
শোভাবাজার রাজ বাড়িতে ওর ওপর চোখ পড়লো। আমি ওকে এড়িয়ে যাচ্ছিলাম কিন্তু ও আমাকে ডাকলো। অচেনা অভিনয় করে এড়িয়ে যাওয়া টা সম্ভব হলো না। তাই বাধ্য হয়ে কথা বললাম।
আমরা তখন ক্লাস ৯ এ পড়ি। রিমি, সঙ্গীতা , সমু আমি ভালো বন্ধু।আর পাঁচটা সাধারন ছেলের মত কৌতূহল বসত সমু সিগারেট খাওয়া ধরেছিল। কিন্তু ধোঁয়ায় সঙ্গীতা অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে ঐ জিনিসটা সঙ্গীতার সামনে ধরা তো না। ওই টুকুই সঙ্গীত ওর প্রেমে হাবুডুবু খেতে থাকে। অথচ আমি মনে মনে সঙ্গীতাকে ভালোবাসাই সেটা ওরা সবাই জানতো।
মাধ্যমিকে আমি ওদের থেকে একটু ভাল রেজাল্ট করার কারনে আমি একটা বড় নামি স্কুলে ভর্তি হই। তবে সমু সঙ্গ দোষে রেজাল্ট খারাপ করে আর তার জন্য খুব একটা ভাল স্কুলে চান্স পায় না এমনটা নয় ও আমার স্কুলে ভর্তি হয়। কিন্তু পয়সা সব কিছু ও মাথায় ঢুকে যাওয়া। আরো আরও নানা ছেলেদের সাথে মিসে সমু গ্যাঁজা, মদ সব খাওয়া ধরে।এদিকে আমি সঙ্গীত পাবার নেশায় কবিতা গল্প লিখিতে শুরু করি। একটা ম্যাজিক ব্যান্ড করে গান গুলো গাইতে শুরু করে সমু। আরো সঙ্গীতা ওর প্রেমে পড়ে যায়।
যাইহোক উচ্চ মাধ্যমিক শেষ হলো। আমি শহরের কলেজ সুযোগ পেলাম।ইংরেজিতে ব্যাক পেলো সমু। মনে মনে আমি খুশিই হলাম। ওর আর আমার ক্লাস মেট থাকবে না।আমার বন্ধু আসলে রিমি। ও যদিও আমাকে বন্ধু ভাবতো। যদিও সঙ্গীতা, রিমি, সমু সবাই আমরা এক ক্লাসেই পড়ি। সমু আমাদের থেকে বড় এক বছরের। রিমি আমার জন্মদিন এক দিনেই এক সালেই। তবে সঙ্গীতা আমার থেকে ছোট তিন মাসের।
সমু বোন রিমির জন্ম দিনের পার্টি দিলো। তবে ওখানে আমি ওদের বিশেষ অতিথি। কারণ আমি আর গ্রামে ফিরবো না জানিয়ে দিয়েছিলাম ওদের কারণ আমার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে গেলে একটা চাকরি করতে হবে আমাকে। সেই হিসাবে করে আমি নাইট কলেজ ভর্তি হয়েছি। যাইহোক সেইদিন ওদের বাড়িতে বড়োরা কেউ ছিলো না। যদিও বড়ো বলতে তো ওর বাবা থাকে ওদের সাথে। ওদের বাড়িতে সেই দিন আমি মদ খেয়ে ছিলাম প্রথম, কাঁচা বয়সের কাঁচা বুদ্ধি। সেইকারণ আমি সমু সাথে নিজেকে তুলনা করতাম। আমার কেন যেনো মনে হতে শুরু করেছিলো। আমার ভালো ছেলে ইমাজের জন্য সঙ্গীতা আমাকে পচ্ছন্দ করে না।
সঙ্গীতা রিমিও সেইদিন ড্রিংক করছিলো। রিমি আমাকে উৎসাহ করেছিলো ড্রিংক করতে। ড্রিংক না করলে নাকি পুরুষ মানুষ হওয়া যায় না।
আমাদের পরিকল্পনা ছিলো সেইদিন সারারাত গল্প করে কাটাবো। সঙ্গীতাও আমার মতো এ গ্রাম ছেড়ে যাবো। ও ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করতে যাচ্ছে ব্যাঙ্গালোরে।
সঙ্গীতা রিমির ঘর থেকে বার বার ডাক ছিলো রিমিকে। ওরা কেউ গেলো না। আমাকে যেতে হলো। ও বোধহয় ওয়াস রুমে গেছিলো। ও জামার জিপ টা লাগানোর জন্য ডাক ছিলো। আমি ওর মসৃন ফর্সা পিঠ দেখে থাকতে পারলাম না। পিঠে একটা চুম খেলাম ও কিছু বললো না। তারপর আরও একটা। ও নেশার ঘোরে ছিলো কিনা জানি না। কিন্তু ও হঠাৎ ঘুরে দাড়িয়ে আমাকে লিপ কিস করলো। আমার আমি আরো দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে ওকে জরিয়ে ধরলাম। ওর নিশ্বাস প্রশ্বাসের গতি বেড়ে গেলো। সেইদিন রাতে আমাদের দুই টো শরীর এক হলো বন্ধ দরজার মধ্যে। ওরা ভাইবোন কিছু জানতে পড়লো না কারণ ওরা ঘুমিয়ে পড়েছিলো ততক্ষণে।
আমি কলকাতায় চলে এলাম। সঙ্গীতা চলে গেলো ব্যাঙ্গালোরে। দূর্গা পূজায় আমি প্রবল উৎসাহ নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। সঙ্গীতা ফিরেছে, কিন্তু আমাকে এড়িয়ে চলছিলো। যাইহোক দশমীর দিন ওকে জোর করে জরিয়ে ধরে জিজ্ঞাসা করলাম, 'কেন আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছে। "
ও আমাকে থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দৌড়ে গেলো সমু কাছে। ও সবার সামনে চিৎকার করে বললো " সমু তুই যদি আমাকে ভালো বাসিস। তাহলে এখুনি সিঁদুর পড়িয়ে আমাকে বিয়ে করবি।"
সমু মুহুর্ত অপেক্ষা না করে ওকে সিঁদুর পড়িয়ে বিয়ে করে নিলো। মায়ের বিসর্জন সাথে সাথে সঙ্গীতাকে নিজের মতো করে পাবার ইচ্ছাটা বিসর্জিত হলো। তারপর থেকে আমি গ্রামের বাড়ি যায় নি। গ্রামে আমাদের চাল চুলো কিছু ছিলো না। ভিটে টুকু কাকাকে বিক্রি করে মা বাবাকে নিয়ে শহর স্থায়ী বসবাস শুরু করলাম, শহরতলি একটা ছোট জমি কিনে সেখানে ছোট দুই টো ঘর করে।
গঙ্গার ঘাটে বসে গঙ্গার দিকে তাকিয়ে , আমি আগের ঘটনা গেলোর কথা চিন্তা করছি। হঠাৎ একটা বাচ্চার ক্যাপ পিস্তলের ক্যাপ ফাটানোর শব্দ মোহ কাটলো। সঙ্গীতা বললোঃ " কি এতো বছরে একবার তোর আমদের কথা মনে পরলো না "
আমি বললাম " এ শহরে বেচে থাকাটা খুব কঠিন। আমার কোন ব্যাকিং নেই যা করার তা আমাকে করতে হয়েছে। তাছাড়া তোদের মনে রাখতে হবেই বা কেন?? তোরা সত্যি কি আমার বন্ধু ছিলি, পড়াশোনা সাহায্য দরকার হতো তাই বন্ধুত্ব রেখেছিলি।"
সঙ্গীতা বললোঃ " তুই বড় রুক্ষ হয়ে গেছিস। "
আমি বললাম "তুই কি উওর আশা করেছিলি, আমি বলবো। তোর কথা খুব মনে পড়ে আমি তোকে এখনো খুব ভালোবাসি বলবো। "
সঙ্গীতা বললো " তুই আমাকে ভালো কোন দিন বাসিস না। তুই সমুকে হিংসা করিস তাই ওর ভালোবাসাকে তুই কেড়ে নিতে চায়েছিস। কারণ পৃথিবীর সব মানুষ জানে রিমি তোকে পাগলের মতো ভালোবাসে। আর এখনো তোর জন্য ও কাউকে বিয়ে পর্যন্ত করে নি।তুই যদি সৎ মানুষ হতি কারো খোঁজ না নিতিস রিমি খোঁজ নিতিস। কেউ না জানুক আমিতো জানি তুই তোর পরীক্ষা ফিস থেকে কলেজ ভর্তি ফিস সব ও জোগাড় করে দিতো। তুই ওকে শোধ দিতিস কিন্তু আবার ব ই কিনে দিতো তোকে ও সেই টাকায়। তুই তো ওর খোঁজ নিলি না। তুই আমাকে পাসনি বলে সমুর চিঠীর জবাব কোন দিন দিস নি। অথচ ও এখনো তোকে ভালো বন্ধু ভাবে। "
আমি বললাম " ঠিক আছে , আমি স্বার্থপর আমি জানি আমার সাথে তোর তো কোন কথা বলার দরকার নেই। তুই নিজের পথ দেখ। আমাকে আমার মতো থাকতে দে। তোকে আমার সাথে যেচে কথা বলতে কে বলেছে।
ও বললো " কথা বলতাম না। কিন্তু সমু এখনো তোকে ভালো বন্ধু ভাবে ও ঠাকুর পুকুর ক্যান্সারে ভর্তি আছে। শেষ সময় তোকে দেখেতে চাইছিলো। আজ হঠাৎ তোর সাথে দেখা তাই বললাম। "
আমি কোন কিছু বলতে পারলাম না। দূরে ঢাকের শব্দ টা হঠাৎ কেমন যেনো করুন হয়ে ওঠলো। আমি ওর সাথে কোন কথা না বাড়িয়ে হাটা দিলাম। ফোন বেড়ে করে রিমিকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করলাম। "তোর দাদা অসুস্থ তুই আমাকে বলিস নি কেন?? "
ও বললো " তুই কোন দিন জিজ্ঞাসা করেছিস আমি কেমন আছি। তুই তোর দরকারী কথা ছাড়া কোন কথাই তো বলা পচ্ছন্দ করিস না। যাইহোক খবর টা জেনেছিস জেনে , ফোন করলি ভালো লাগলো।দেখ হঠাৎ করে আমাদের সহানুভূতি দেখাতে যাস না আবার ওটা তোকে মানায় না। "
সঙ্গীতার সাথে হঠাৎ দেখা হওয়াটা যেনো ওর্য নিজের প্রতিবিম্বের সাথে দেখা হওয়ার মতো হয়ে দাঁড়ালো।
হঠাৎ দেখা
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
36
Views
1
Likes
0
Comments
5.0
Rating