মধুবন গ্রামে ছিলো এক মানুষ—গোপাল। সবাই তাকে ডাকত হাঁড়ি রাজা। কেন? কারণ মাথায় সবসময় একটা হাঁড়ি চাপিয়ে ঘুরত। বাচ্চারা দেখলে খিলখিল করে হাসত, বড়রা বলত, “পাগল নাকি! এও আবার মানুষ?”
একদিন গ্রামের মেলায় গোপাল ঘোষণা দিলো,
— “আজ থেকে আমি হাঁড়ি রাজা! যার মন খারাপ, আমার হাঁড়িতে ঢুকে হাসি বের করতে পারবে।”
ছোট্ট বাবুল দৌড়ে এসে হাঁড়ির ভেতরে তাকিয়ে বলল,
— “রাজা ভাই, হাঁড়ির ভেতরে তো কিছুই নাই।”
গোপাল হেসে উত্তর দিলো,
— “আরে বোকা, এটাই তো রহস্য! হাসি দেখতে পাওয়া যায় না, শুধু শুনতে পাওয়া যায়।”
সবাই হো হো করে হেসে উঠল।
এরপর গোপাল মঞ্চে ওঠে নাটক দেখাতে। নাটকটা ছিলো “রাজা-রানির রাজনীতি”। অন্য অভিনেতারা গুরুগম্ভীর সংলাপ দিচ্ছে, আর গোপাল হঠাৎ বলে উঠল,
— “এই রাজ্যে মন্ত্রী চাই না, চাই মিষ্টির দোকানদার! কারণ ভাত নেই তো থাকুক অন্তত রসগোল্লা।”
দর্শকরা হেসে গড়াগড়ি। বড়রা বুঝল ব্যঙ্গটা ওদের জন্যই—মন্ত্রী সাহেবরা কাজের চেয়ে মিষ্টি খাওয়ায় বেশি ব্যস্ত।
মেলায় কবুতর দৌড় শুরু হলো। গোপালের তো কবুতর নেই! তাই সে হাঁড়িটা আকাশে ছুঁড়ে দিয়ে বলল,
— “এই হাঁড়ি আমার কবুতর, দেখো কেমন উড়ছে।”
হাঁড়ি পড়ে ভেঙে চৌচির। সবাই হেসে বলে কবুতর তো মরেই গেলো।”
গোপাল উত্তর দেয়,
— “না, এটা উড়ে গিয়ে বিদেশে পাসপোর্ট বানাচ্ছে।”
গ্রামের বাচ্চারা আবারও হেসে লুটোপুটি, আর বড়রা বলল, “এই তো সত্যি কথা! আমাদের লোকজনও সুযোগ পেলেই বিদেশে উড়ে যায়।”
দিনশেষে সবাই ক্লান্ত। কিন্তু গোপালের কথা মনে হলেই সবাই নতুন করে হাসতে শুরু করল। তার হাঁড়ির ভেতরে কিছু না থাকলেও, আশেপাশের মানুষদের ভেতর ভরে থাকত আনন্দ আর ব্যঙ্গের খোঁচা।
সেই থেকে মধুবন গ্রামের প্রবাদ হলো:
“যার মাথায় হাঁড়ি, তার মনেই আসল হাসির খনি।”
হাসির রাজা গোপাল
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
85
Views
3
Likes
0
Comments
5.0
Rating