গ্রামের মেয়ের ভালোবাসা

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
আমিঃ নিশি তুমি এখানে ড্রেস চেঞ্জ করে নাও । আমি ওয়াশরুম থেকে চেঞ্জ করে আসছি ।

নিশিঃ কেন তুমিও এখানে করে নাও না । সমস্যা কি । আমরা তো স্বামী স্ত্রী ।

তারপর আমি নিশিকে বললাম,,,,,,

আমিঃ নিশি আমিও একটা ডিসিশন নিয়েছি ।

নিশিঃ কি ডিসিশন বলো ।

আমিঃ তার আগে আমি যেমন তোমার ডিসিশন এক কথায় রাজি হয়ে গেছিলাম তোমাকেও তেমনি আমার ডিসিশনে রাজি থাকতে হবে ।

নিশিঃ অবশ্যই থাকবো । কারন তুমি আমার স্বামী । এখন তুমি যেটাই বলবে সেটা আমার কাছে আদেশে পরিনত হবে । আর সেটা আমাকে মানতেই হবে ।

আমিঃ ধন্যবাদ ।

নিশিঃ ডিসিশনটা কি বলো ?

আমিঃ দেখো তোমার জোরাজুরিতে আমরা বিয়ে করেছি । কিন্তু আমাদের দুজনের ই এখনো পড়াশোনা শেষ নি । তাই আমি চাই না আমাদের পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে । কিন্তু দিনশেষে পুরো মানসিক শান্তিটা তোমাকে আমিই দিবো ।

আমার কথায় নিশি কিছুটা হয়তো মন খারাপ করেছে । আর করবেই বা না কেন । প্রত্যেকটা মেয়ের ই তার বাসর ঘর নিয়ে কত স্বপ্ন দেখে । নিশিও হয়তো দেখেছে । ওর চুপ থাকা দেখে আমি আবার বললাম,,,,,,

আমিঃ কি হলো কথা বলো । রাজি কি না ।

নিশিঃ ঠিক আছে আমি রাজি । কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে ।

আমিঃ হুমম কি শর্ত বলো ।

নিশিঃ প্রতিদিন রাতে আমি তোমার বুকে মাথা রেখে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে চাই । বলো তুমি রাজি ?

আমিঃ ঠিক আছে আমিও রাজি ।

তারপর নিশিও খুশি হলো । আর বললো,,,,,

নিশিঃ ঠিক আছে তুমি ওয়াশরুম থেকে চেঞ্জ করে আসো । আমি এখানেই চেঞ্জ করে নিচ্ছি ।

তারপর আমি কোনো কথা না বলে ওয়ারড্রপ থেকে একটা টি শার্ট আর টাউজার বের করে ওয়াশরুমে চলে গেলাম ।

ড্রেস চেঞ্জ করে বাহিরে আসার জন্য নক দিলাম ।

আমিঃ নিশি আসবো ।

নিশিঃ হুমম আসো আমার চেঞ্জ হয়ে গেছে ।

আমি বের হয়ে সোজা খাটে শুয়ে পড়লাম । নিশিও আমার পাশে এসে শুয়ে পড়লো । নিশির সাথে আরো কিছুক্ষণ গল্প করে ও আমার বুকের মধ্যে মাথা রেখে আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লো ।

আমিও কখন যে ঘুমিয়ে গেছি নিজেও জানি না । সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি নিশি আমার বুকে একদম বাচ্চাদের মতো কাঁচুমাচু হয়ে শুয়ে আছে ।

আমি উঠতে চাইলেই নিশি আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো । তার মানে নিশিও জেগে আছে । আমি ওকে বললাম,,,,,,,

আমিঃ ছাড়ো এখন উঠো । না হলে সবাই খারাপ ভাববে তো ।

নিশিঃ তোমার বুকে আর একটু ঘুমাইনা প্লিজ ।

আমিঃ নাহহ আর একটুও না । এখন উঠো ।

তারপর আমি নিশিকে জোর করে ওয়াশরুমে ঢুকিয়ে দিলাম । ও ফ্রেশ হবার পর আমিও ফ্রেশ হয়ে নিলাম । বের হয়ে এসে দেখি নিশি নেই । তারমানে আম্মু আর চাচির সাথে কিচেনে গেছে ।

আমিও বাহিরে বের হতেই দুলাভাই বললো,,,,,,,,

দুলাভাইঃ কি ব্যাপার শালাবাবু বাসর রাত কেমন কাটলো ।

আমিঃ কি বলবো দুলাভাই পুরো হিন্দি সিনেমার মতো ।

দুলাভাইঃ তাই নাকি । তা টেস্ট ম্যাচ খেললে নাকি সোজা টি - টুয়েন্টি ।

আমিঃ সেটা না হয় পরেই বুঝে নিয়েন ।

বলেই হাসতে হাসতে কিচেনের দিকে আসলাম । দেখলাম আপু আম্মু চাচি আর নিশি পিঠা বানাচ্ছে । আমি আম্মু কে মজা করে বললাম,,,,,

আমিঃ আম্মু সকাল সকাল আমার বউকে কাজে লাগিয়ে দিলে ?

আপুঃ বাবাহ একদিনেই এরকম বউ পা*গ*ল হয়ে গেলি ।

বলেই সবাই হাসতে লাগলো । আমির সেখানে আর এক মুহুর্ত না দাঁড়িয়ে জায়গাটা প্রস্থান করলাম ।

এভাবে আরো দুইদিন আমার ফ্যামিলি আর নতুন বউয়ের সাথে অনেক সুন্দর মুহূর্ত গুলো পার করলাম ।

আজকে আমি আবার ঢাকার যাবো । নিশিকে নিয়ে যেতে চাচ্ছি না কিন্তু ওর জেদের জন্য ওকেও সাথে করে নিয়ে যেতে হচ্ছে ।

নিশি একটা কালো বোরখা আর হিজাব পড়েছে । আর আমি একটা পাঞ্জাবী । আম্মু আর চাচির থেকে আমরা বিদায় নিলাম । যাওয়ার সময় আম্মু অনেক কান্না করেছে ।

আব্বু আর চাচ্চু আমাদের বাসে তুলে দেয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত আসছে । সঠিক সময়ে বাস ও ছেড়ে দিলো । আব্বু আর চাচ্চুর থেকেও বিদায় টা নিয়ে নিলাম ।

বাস চলতে থাকে তার আপন গতিতে । নিশিকে জানালার ধারে বসতে দিলাম যাতে বাতাস সঠিক ভাবে পায় । আর অনেক বড় জার্নি আগে কখনো করে নি ।

গাড়ি চলাকালীন নিশি আমাকে অনেকবার জালিয়েছে । জালানোর কারন টা হলো এই বাদাম খাবে,,একটু পর আচার খাবে,,আবার কিছুক্ষণ পর আইসক্রিম খাবে এগুলো ।

এখন নিশি আমার কাঁধে মাথা লাগিয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে আছে । আমি তার ঘুমন্ত চেহারা দেখতে লাগলাম ।

বাসে এক ভাইয়া জিজ্ঞাসা করলেন,,,,,,

ভাইয়াঃ এটা কি আপনার বউ নাকি ভাই ।

আমিঃ জ্বি ভাই । কেন ?

ভাইয়াঃ না এমনি । এতো খাবার কিনে দিচ্ছেন আবার কেয়ার করছেন । ভালোবাসা মনে হয় এমনি হয় তাই না ।

আমিঃ জানি না ভালোবাসা কি । কিন্তু ও আমার দুনিয়ার আলো । ওকে ছাড়া আমার পৃথিবী অন্ধকার । সকালের প্রথম টেনশন ওকে নিয়ে আর রাতের শেষ টেনশন টাও ওকে নিয়ে ।

ভাইয়াঃ আপনাদের জন্য শুভকামনা রইলো ভাই ।

আমিঃ ধন্যবাদ ।

তারপর আরো কিছুক্ষণ গল্প করে আবারো চুপ হয়ে গেলাম । বসে থাকতে থাকতে আমারো চোখটা একটু লাগিয়ে এসেছে ।

হঠাৎ,,,,,,,,,,,,,,,,,
""
""
""
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,

কপি করা কঠোর ভাবে নিষেধ । পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন । ধন্যবাদ ।
68 Views
0 Likes
0 Comments
0.0 Rating
Rate this: