অধ্যায় – ২ : পাহাড়ের গোপন ডাক
অরিন্দম কাগজটা অনেকক্ষণ ধরে চুপচাপ দেখল। যেন নিজের মুখের প্রতিচ্ছবি হঠাৎ করে অন্য কারও আঁকায় বন্দি হয়েছে।
— “তুমি কবে থেকে এটা আঁকছ?”
ইরিন শান্ত গলায় বলল,
— “মনে নেই। ছোটবেলা থেকে আঁকছি। আমি শুধু জানতাম, একদিন তুমি আসবে।”
অরিন্দম হেসে এড়িয়ে যেতে চাইল, কিন্তু ভেতরে ভেতরে অদ্ভুত এক শিহরণ বয়ে গেল তার শরীরজুড়ে।
সে আসলে এই গ্রামে হঠাৎ করেই আসেনি। অরিন্দমের বাবা একসময় ধলেশ্বরীর কাছাকাছি পাহাড়ে কাজ করতেন—খনির ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। কিন্তু এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সবকিছু ছেড়ে চলে আসেন শহরে। অরিন্দম ছোট ছিল তখন। বাবার মুখে শোনা সেই পাহাড়, সেই রহস্যময় নদীর কথা তাকে সবসময় টেনে এনেছে।
কিন্তু গ্রামের মানুষ এখনো সেই দুর্ঘটনার গল্পে চুপ হয়ে যায়। কেউ কেউ বলে, পাহাড়ের ভেতরে একটা লুকানো গুহা আছে, যেখানে রাতে নীল কুয়াশা জ্বলে ওঠে। আর সেখানেই নাকি বহু আগের এক হারানো রত্নের রহস্য লুকানো আছে।
সন্ধ্যা নামার পর অরিন্দম নদীর ধারে বসে থাকতেই গ্রামের বৃদ্ধ মানুষ জহির চাচা এগিয়ে এলেন।
চোখে গভীর দৃষ্টি, কণ্ঠে চাপা ভয়—
— “তুমি নতুন, তাই সাবধান করছি বাবা। সেই পাহাড়ের দিকে যেও না। ওখানে কেউ গেলে আর ফিরতে পারে না।”
অরিন্দম অবাক হয়ে তাকাল,
— “কিন্তু কেন?”
জহির চাচা ফিসফিস করে বললেন,
— “কারণ ওই পাহাড়ের ভেতরে শুধু পাথর নেই… আছে বহু পুরোনো অভিশাপ।”
অন্ধকারে কুয়াশা ধীরে ধীরে ঘন হয়ে উঠল। ইরিন দূরে দাঁড়িয়ে সব শুনছিল। তার বুকের ভেতর অদ্ভুতভাবে কেঁপে উঠল। যেন এই রহস্যের সঙ্গে তার নিজেরও কোনো অজানা যোগ আছে।
চলবে,,,,,,,,
নীল কুয়াশার ভোর
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
45
Views
1
Likes
2
Comments
3.5
Rating