অধ্যায় – ১ : অপরিচিত মুখ
ধলেশ্বরী গ্রামটা যেন সবুজে মোড়া এক স্বপ্নের মতো। চারপাশে পাহাড়, মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে ছোট্ট নদী। ভোরবেলা নদীর কুয়াশার মধ্যে দিয়ে সূর্যের আলো ফোঁটা ফোঁটা সোনালি ঝিলিক ছড়ায়।
ইরিন প্রায় প্রতিদিনই নদীর ধারে বসে ছবি আঁকে। গ্রামের মানুষ তাকে একটু অদ্ভুতই ভাবে। কারণ সে যত ছবি আঁকুক না কেন, এক অচেনা ছেলেকে ছাড়া আর কিছু আঁকতে পারে না। মায়ের কাছে জিজ্ঞেস করলে ইরিন শুধু বলে,
— “মা, আমি জানি না এ কে। কিন্তু আমার মনে হয়, সে একদিন আসবেই।”
সেদিন সকালে, ঝড়ের পর বাতাস ছিল একেবারে স্বচ্ছ। নদীর ধারে বসে ইরিন যখন নতুন ছবি আঁকছে, তখন দূর থেকে একটা পায়ের শব্দ শোনা গেল।
পেছনে ঘুরে তাকাতেই তার বুক কেঁপে উঠল।
একজন তরুণ দাঁড়িয়ে আছে। বয়স ইরিনের কাছাকাছিই। পরনে হালকা নীল শার্ট, কাঁধে ব্যাগ। কিন্তু ইরিনের চোখ আটকে গেল তার মুখে—কারণ সেই মুখটাই তো বছরের পর বছর ধরে কাগজে এঁকে চলেছে!
অরিন্দমও অবাক হয়ে গেল। সে কখনো এই গ্রামে আসেনি, কাউকে চিনেও না। অথচ এই মেয়ে এমনভাবে তাকিয়ে আছে তার দিকে, যেন বহুদিনের পরিচিত।
ইরিনের হাত থেকে পেন্সিল পড়ে গেল। ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে সে বলল,
— “তুমি… তুমি কে?”
অরিন্দম হেসে উত্তর দিল,
— “আমি? আমি তো শুধু ভ্রমণ করতে এসেছি। কিন্তু তোমার চোখে কেন এমন বিস্ময়?”
ইরিন ধীরে ধীরে কাগজটা তার দিকে বাড়িয়ে দিল। কাগজে যে মুখ আঁকা—সেটা অরিন্দমের হুবহু প্রতিচ্ছবি।
অরিন্দম হতবাক হয়ে গেল।
— “এটা… এটা কীভাবে সম্ভব?”
চলবে,,,,,,,
নীল কুয়াশার ভোর
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
33
Views
0
Likes
0
Comments
4.0
Rating