পাকিস্তানের একটি ছোট শহরের সন্ধ্যা। আকাশ, একজন ধনী ব্যবসায়ীর ছেলে, গাড়িতে চেপে বাড়ি ফিরছে। শহরের বাতাসে যেন অদ্ভুত এক শান্তি। রাস্তার ধারে দোকানগুলো ক্রমশ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আকাশের চোখে হঠাৎ এক ঝলক ভেসে আসে – চাঁদনী।
চাঁদনী, শহরের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েদের একজন। সে চায়না যে কারও দৃষ্টি তার দিকে বেশি আকর্ষিত হোক। সে নিজের বাবার ছোট একটি দোকান চালায়। সন্ধ্যার আলো তার মুখে এক অদ্ভুত মায়া তৈরি করেছে। আকাশ প্রথম নজরে মুগ্ধ।
আকাশ গাড়ি থামিয়ে বলল, “দেখছি, এত সুন্দরী মেয়েকে একা হাঁটতে দেখছি, কিছু সাহায্য করতে পারি কি?”
চাঁদনী হেসে বলল, “ধন্যবাদ, আমি ঠিক আছি। কিন্তু আপনি কি এখানে আছেন?”
আকাশ একটু লজ্জা পেল, “আমি আকাশ। আমার বাবা এই শহরে ব্যবসা করেন। আমি আজ একটু শহর দেখার জন্য বের হয়েছি।”
চাঁদনী তার হাসি আর চোখের জ্বলক দেখিয়ে বলল, “চাঁদনী।”
তাদের চোখের ভাষা এক অন্যরকম গল্প বলছিল। তবে আকাশের পরিবার এবং চাঁদনীর পরিবার দুইটা ভিন্ন সামাজিক স্তরের।
---
পর্ব ২
পরের কয়েকদিনে আকাশ প্রতিদিন চাঁদনীর দোকানের সামনে গিয়ে দেখা করতে থাকে। চাঁদনী প্রথমে অবাক, তারপর খুশি। আকাশ তাকে উপহার দেয় না, কেবল তার স্নেহ এবং মুগ্ধতা প্রকাশ করে।
চাঁদনীর বোন, সারা, আকাশকে দেখে বলল, “এই ধনী ছেলে কি আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে এসেছে, না প্রেমে পড়ার জন্য?”
চাঁদনী হাসল, “সময় দেখার। সে শুধু সাহায্য করতে চায়।”
কিছুদিন পর আকাশ চাঁদনীর বাবার সঙ্গে দেখা করল। তার বাবা একজন কঠোর কিন্তু ন্যায়পরায়ণ মানুষ।
বাবা বলল, “তুমি কি নিশ্চিত যে, তোমার ছেলে আমাদের পরিবারের মেয়ের যোগ্য?”
আকাশ বিনয়ে মাথা নাড়ল, “আমি শুধু চাঁদনীর খুশি চাই। সমাজের পার্থক্য আমার জন্য কোনো বাধা নয়।”
চাঁদনীর বাবা প্রথমে অবাক হলেও আকাশের দৃঢ়তা দেখে মৃদু হাসল।
---
পর্ব ৩
চাঁদনীর পরিবার জানে না যে আকাশের মা তার সঙ্গে বিবাহ করতে চায়। আকাশের মা একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী নারী, যিনি সামাজিক মর্যাদা খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।
একদিন আকাশের মা চাঁদনীর দোকানে এলেন।
মা বলল, “চাঁদনী, তুমি কি জানো তুমি কোন পরিবারে যাচ্ছ?”
চাঁদনী বিনয়ের সঙ্গে বলল, “আমি জানি। কিন্তু আমার হৃদয় আকাশের সঙ্গে আছে। সমাজের পার্থক্য আমাদের বন্ধনে বাধা হতে পারবে না।”
আকাশের মা ক্রুদ্ধ হয়ে বাড়ি ফিরলেন এবং আকাশকে সতর্ক করলেন।
---
পর্ব ৪
শহরের পরিস্থিতি শান্ত নয়। আকাশ এবং চাঁদনীর প্রেম ধীরে ধীরে গোপন থেকে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। কেউ যেন তাদের ভালোবাসা বুঝে ফেলেছে।
একদিন চাঁদনীর দোকান লুটপাটের শিকার হয়। আকাশ সাহায্য করতে এসে দোকানকে বাঁচায়। চাঁদনী হঠাৎ কাঁদতে থাকে।
আকাশ ধরল তার হাত, “চলো, সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি তোমার পাশে আছি।”
চাঁদনী বলল, “তোমার মতো কেউ না থাকলে আমার কী হতো?”
এই মুহূর্তে তাদের ভালোবাসা আরও দৃঢ় হয়ে যায়।
---
পর্ব ৫
কিছুদিন পর আকাশ এবং চাঁদনীর সম্পর্ক সকলের সামনে প্রকাশ্যে আসে। আকাশের মা আবারও বাধা দিতে চায়।
আকাশের বাবা বললেন, “মেয়েটা যোগ্য। আমরা তার পক্ষে।”
আকাশের মা অসন্তুষ্ট, কিন্তু কোনোক্রমেই আকাশকে থামাতে পারে না।
চাঁদনীর বাবা বললেন, “যদি তুমি সত্যিই সুখী হতে চাও, আমি আকাশকে মেনে নিচ্ছি।”
চূড়ান্ত দৃষ্টান্তটি ঘটে, যখন আকাশ এবং চাঁদনী একসঙ্গে শহরের সবচেয়ে বড় মসজিদের সামনে চাঁদনীকে আকাশের প্রস্তাব দেয়।
---
পর্ব ৬ (শেষ)
চাঁদনী হাসি দিয়ে বলল, “হ্যাঁ, আমি চাই। আমি চাই আকাশের সঙ্গে সারাজীবন থাকি।”
শহরের বাতাসে সেই রাতের চাঁদ নতুন আলো ছড়াল। আকাশ এবং চাঁদনী একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আকাশের প্রেমের গল্প ঘোষণা করল।
দুই পরিবার মিলিত হয়, সামাজিক পার্থক্য একপাশে চলে যায়। শহরের মানুষও তাদের ভালোবাসা স্বাগত জানায়।
শেষ চিত্রে দেখা যায় আকাশ-চাঁদনী হাত ধরে শহরের রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। চাঁদনী আকাশের কাঁধে মাথা রেখে বলল, “আমাদের আকাশের মতো জীবন হোক, যেখানে শুধু প্রেম আর বিশ্বাস থাকবে।”
আকাশ বলল, “আমাদের চাঁদনীর মতো সম্পর্ক হোক, যা কখনো ম্লান হবে না।”
শহরের আকাশে চাঁদ এবং তার আলো পুরো শহরকে আলোকিত করছে। সেই আলোতে প্রেম, বিশ্বাস এবং আশা সব মিলেই ফুটে উঠেছে।
শেষ।
আকাশের চাঁদনী
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
51
Views
1
Likes
1
Comments
5.0
Rating