দিনলিপি : মোহাব্বত

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
ফাতমা খালা : হায় হায় আমার রব,,তুই ঠিক আছিস আমার পাখি?

Tanu : হ্যা খালা আল্লাহর রহমত এবং আপনাদের দোয়ায় একদম ঠিক আছি।

ফাতমা খালা : সয়তান মেয়ে, কই ছিলি তুই?
ফোনটাও ধরছিলি না? অন্য দিন তো বিকেলের মধ্যে চলে আসিস।আর আজ কত রাত হয়ে গেছে দেখেছিস???

Tanu : হ্যা খালা জানি। আগে তুমি একটু শান্ত
হও,শান্ত হয়ে আমার পাশে এসে বসো,সব বলছি।

ফাতমা খালা : তুইও না....পাগলি মেয়ে।
হুমম বসলাম এবার বল।

Tanu : খালা আজ Holiday ছিলো দেখে
বেচে গিয়েছি জানো। শুধু অফিসের কিছু কাজে University যেতে হয়েছে। নয়তো যদি
আজকে opening day হতো,তাহলে আমার ক্লাস মিস হতো।আর প্রশাসনের কাছে আমায়
জবাবদিহি করতে হতো।তার পাশাপাশি আমি আজকে যা করেছি,,সেটার জন্য আরও কড়াভাবে প্রশাসনে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতাম।তবে যা করেছি খালা সেটা একজন মা
হিসেবে এবং মানবিক হিসেবে করাটা ঠিক হয়েছে।

ফাতমা খালা : কি করেছিস তুই?
Tanu : আমার ক্লাসের Student ali.........
( তানু সবটা ক্লিয়ার করলো এবং বললো)

ফাতমা খালা : মাশাআল্লাহ মেরি বাচ্চি....আয়
আমার বুকে আয়। ২ভালোবাসার পবিত্র আত্না
তর উছিলায় মিলিত হয়েছে,, তুই খুব পূন্যের কাজ করেছিস।আল্লাহ তোকে অনেক ভালো রাখুক। আবার পাশাপাশি সবাই কে ভালো
বাসা ধরে রাখা ও অর্জন করার যে উপদেশ দিয়েছিস এটা বেস্ট। কারণ সবসময় তো
তুই থাকবি না।

Tanu : hmmmmmmm খালা
ফাতমা খালা : কিন্তু এমন ভালোবাসা ও
পুরুষ হয়???

Tanu : হয় মানে???? খালা আপনি জানেন,
এটা তো কিছুই না। এখানে তো আমি উছিলা
হিসেবে অনুপ্রেরণা দিয়েছি,, তারপর আলী উঠেছে। আর আমি University পড়াশোনায় থাকাকালীন আমার classmate এর সাথে
কি হয়েছে শুনু.ন........1 day আমরা ৩জন
আমি, রাইতা আর শিল্পী ক্লাস বাঙ্ক করে
আমাদের ইউনিভার্সিটি থেকে দূরে ঢাকার
ধানমন্ডি লেকে গিয়েছিলাম মনটা একটু
Refreshing এর জন্য।
আমরা লেকে ঢুকে just 10 munites হাটছিলাম.....আর হঠাৎ কই থেকে ১জন এসে
রাইতার গলা টিপে ধরে বললো,,,,

তুই আমার হবি না তাই না? তুই শুধু আমার..
তুই অন্য কারো হয়ে দেখা,,,চেষ্টা কর,,আমি তর
বিয়ের দিন এসে তরেও মেরে ফেলমু, নিজেও মরমু।যদি তরে আপন করতে না পারি........

ফাতমা খালা : হায় হায় আমার রব?? তারপর?

Tanu : তারপর আর কি? আমি আর শিল্পী
তো ভয়ে কুঁকড়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে প্রায় কান্না করে দিছি!! আর কি ১টা টাইমিং বলো? এমন সময় আসছে,লেকের এমন জায়গায় ধরছে যেখানে মানুষের নজর পড়বে না। তো আমরা চুপচাপ দাড়িয়ে শুধু একপাশে
মাথা নিচু করে ছিলাম। তো ছেলেটা এগুলো
বলে... 1 পর্যায়ে রাইতার কপালে ১টা চুমু খেয়ে
চলে গেছে 🤭!!

তো তারপর রাইতা কে জিজ্ঞেস করলাম
কি হয়েছে? এসব কি? তখন ও বললো,
তোদের তো বলছিলাম ১টা রিলেশন আছে আমার আর আকাশের ব্যাবহার খুব বাজে।
যা আমি নিতে পারিনা। তো আমি দূরে সরে আসার চেষ্টা করতাছি।কিন্তু ও আমাকে ছাড়বেই না। কিন্তু এটা কেমন ভালোবাসা?
যেখানে আমাকে কষ্ট দেয়?

ফাতমা খালা : তারপর?

Tanu : তারপর,, ওর বাবা কে সব বলার পর
ওর বাবা ওকে মাশাআল্লাহ সাপোর্ট করে।
আর পুলিশের protection এ কয়েকদিন
varsity তে পাঠাতো। যেহেতু ওর বাবা পুলিশে কাজ করতো আগে।

কিন্তু এতোকিছু করেও কোন লাভ হয়নি।
সুযোগ বুঝে ১দিন আকাশ রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে বিয়ে করেই ফেলে অবশেষে 😊!!

ফাতমা খালা : হায় হায়? কিন্তু জানতো কিভাবে মেয়েটা কখন কোথায় যাচ্ছে?

Tanu : লোক লাগিয়ে রাখতো হয়তো বা!!
অথবা social media যুগ,,fake id দিয়ে তো কথা বলে সব জানা যায়!!

তো বলো,,রাইতা আর আকাশের বেলায় কি
আমি অনুপ্রেরণা দিয়েছিলাম? আমার অস্তিত্ব ছিলো?
আসলে খালা যে সম্পর্কে নারী পুরুষের
জীবনে পূর্ণতা নিয়ে যায়, সে পুরুষ পূর্ণতার স্বাদ পেয়ে যায়।
আর,,তখন ঐ পুরুষ কিছুতেই তার ভালোবাসা
ছাড়তে চায় না। আর ভালোবাসা পাওয়ার
জন্য যে পুরুষ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে উঠে,তাকে আল্লাহ ছাড়া কেউ আটকাতে পারেনা এবং স্বয়ং আল্লাহ তাকে সাহায্য করে। ভালোবাসা
পাওয়া না অব্দি পুরুষ হয়ে উঠে হিংস্র,
উত্তাল,ঝড়ো সমুদ্রের ভয়াবহ ঢেউয়ের
চেয়েও উত্তাল,পাগল...........

তো সেটাই করছে আকাশ!! আমার নিজের জীবনে বাস্তবে দেখা ঘটনা এটা। নয়তো সবসময় তো গল্প উপন্যাসে পড়ি অথবা অনুভব করি।

ফাতমা খালা : ওদের মেনে নিয়েছিলো রে তানু??

Tanu : আকাশরা রাইতা দের থেকে অবস্থানগত দিক থেকে একটু নিম্ন ছিলো।
সেজন্য আংকল মানতে চাই নি আবার আকাশকেও পছন্দ না। আকাশের বাড়ির লোকও সবাই মানে নি। কিন্তু আকাশ তো আকাশ.... কাউকে পরোয়া না করে সংসার করে গেছে। আর ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে গেছে। রাইতার মনেও ভালোবাসা ধীরে ধীরে অনেক তীব্র হয়েছে আকাশের জন্য।

ফাতমা খালা: তোর কি মনে হয়,আকাশ ঠিক করছে?

Tanu : হ্যা একদম। আসলে ঐযে বলে না খালা,,পুরুষ মুভ অন করে, নারী মুভ অন করে,,,, এগুলো কিছু সত্যি না। বরং ভালোবাসা হারানো প্রতিটা মানুষ সময়ের সাথে সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয় এবং ভালোবাসা বুকে নিয়ে বাচে চিরকাল আর একটা জীবন্ত লাশ
হয়ে থাকে।মুভ অন তারা করতে পারে,যারা কি না কারো কাছে cheat হয়। কিন্তু ২পক্ষ থেকেই ভালোবাসার মানুষরা মুভ অন করতে পারে না।মুভ অন করতে পারলে তো ভালোবাসার ইতিহাসই বদলে যেতো।মানুষ ভালোবাসতে ভুলে যেতো।

তো ভালোবাসা বুকে নিয়ে জীবন্ত লাশ হয়ে হিরো হয়ে বেচে থাকার চেয়ে villain হয়ে ভালোবাসার মানুষ কে আপন করতে পারাটাই
আমি সবচেয়ে বেস্ট মনে করি ও শ্রদ্ধা করি।
বাঁচবো যেহেতু ভালোবাসা নিয়েই বাঁচবো।
নারীরা যতটা বাধার সম্মুখীন থাকে,
পুরুষ তার ১বিন্দুও বাধার সম্মুখীন হয়না।
মূলত পুরুষ কে বুঝতে হয় ও Action নিতে হয়।

ফাতমা খালা : এখন ওদের কি অবস্থা রে?

Tanu : আলহামদুলিল্লাহ খুব সুখে আছে।
university থাকতেই দেখেছি,,এখন আকাশের আর্থিক অবস্থা অনেক high
level এ। Businessmen 🔥

ফাতমা খালা : মাশাআল্লাহ মাশাআল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ

Tanu : খালা,,আমি তো ঐখানে খেয়েছি।
কিন্তু আপনি তো সাথে ছিলেন না তাই আমি আপনার জন্য আসার সময় রেস্তোরাঁ থেকে
সবকিছু নিয়ে এসেছি। আপনার সাথে বসে আরেকবার খাবো।আপনি আমার অনেক কাছের খালা। তাছাড়া ঘরে ফিরে আপনি
ছাড়া তো কেউ নেই। তো ঘরের মানুষ কে
ছেড়ে বাহিরে খাবার পুরোপুরি হজম করি
কিভাবে????
চলুন,আসুন, আর খালা আজকে খাবার মেঝেতে পরিবেশন করবেন। মেঝেতে খাবো।

ফাতমা খালা : 🥹🥹পাগলি ১টা......
Tanu : no no no no খালা,,Professor পাগলি😜

ফাতমা খালা : মার খাবি..... ফ্রেশ হয়ে আয়।
Tanu : এইতো যাচ্ছি আর আসছি!!

52 Views
0 Likes
0 Comments
5.0 Rating
Rate this: