Mihrab এর অশ্রু গড়াতে গড়াতে হঠাৎই নিঃশ্বাসই ভারী হয়ে উঠলো। ধীরে ধীরে আলী সামনে এগিয়ে মিহরাব এর হাতটা ধরে টেনে বাহিরে নিয়ে এলো। ইতোমধ্যে একটা হইচই আর হট্টগোলে সবাই একত্রে জমায়েত হয়ে গেলো। হঠাৎই কেউ ১জনের সামনে মিহরাব
এবং আলী থমক দাড়ালো। তাকে দেখে মিহরাব এর অশ্রু আরও তীব্র থেকে তীব্র হলো
Ali মিহরাব এর হাতটা ছেড়ে দিয়ে তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো....
২টো হাত ভিক্ষার মতো বাড়িয়ে দিয়ে :
Ali : আমি ততবার মরেছি,যখন আপনার মেয়ের সাথে আমার ঝগড়া হতো।আমি ততবার মরেছি,যখন আপনার মেয়ের সাথে আমার অভিমান হতো,আমি ততবার মরেছি যখন আপনার মেয়ের সাথে আমায় কথা না বলে থাকতে হতো।আমি ততবার মরেছি যখন আপনার মেয়ের থেকে আমায় দূরে থাকতে হতো।আমি ধ্বংস হয়েছি,আমার শুধু শরীর আছে, আমার নিঃশ্বাস,জীবন,হাসিকান্না, ভালো মন্দ অনেক আগেই আপনার মেয়ে নিয়ে নিছে।
যখন শুনতে পেরেছি, আমার জীবন আমার বেচে থাকা অন্য কারো হতে যাচ্ছে... তৎক্ষনাৎ আমি শতবার মরেছি। আপনার কলিজা টুকরা আমায় ভিক্ষা দিন,আমি বুকের গহিনে আগলে রাখবো। নয়তো আমায় মেরে ফেলুন, আমি এমনিতেও মরে যাবো,ওমনিতেও মরে যাবো।
তার চেয়ে ভালো আপনি হয় আমায় ভিক্ষা দিন নয়তো আমার জীবন নিয়ে নিন।
[পরিবেশ একদম শান্ত, সবার চোখে পানি]
Burak : Sorry Ankle.আমি আপনার মেয়েকে নিকাহ করতে পারবো না। আমি কখনোই চাইবো না,আমার স্ত্রী আমাকে ছাড়া অন্য আরেক পুরুষ এর জন্য কাঁদুক, হাসুক।মিহরাব অনেক আগেই অন্য কারোর হয়ে গেছে। আমায় ক্ষমা করে দিন।
Tanu : আসসালামু আলাইকুম স্যার। আমি Ali- র professor.আমিই আলীকে এখানে আসতে সাপোর্ট করেছি। ২টো পবিত্র আত্নার ভালোবাসা কে আল্লাহইই তো কখনো আলাদা করেনা।তাহলে আমি, আপনি কে বলুন? তাছাড়া বাবা মা সন্তান এর ভালো করার চেয়ে বেশি important হচ্ছে সন্তান কি চায়??
Mihrab এর বাবা কঠোর গলায় মিহরাব বলে ডাক দিলেন!! Mihrab মাথা নিচু করে শুধু অঝোরে কেদেই যাচ্ছে!!
একজন বাবা যা বুঝার বুঝে ফেলেছেন।
মিহরাব এর বাবা আলী কে দাড় করিয়ে দিয়ে বললেন, ভিক্ষা না বরং তর ভালোবাসার কাছে আমি হার মানলাম।
আলীর চোখেমুখে এবার আরও জোরে কান্না।
অনেক পরিশ্রম সাধনা,কষ্টের পর যখন মানুষ
কিছু পায় তখন এরকম রিয়েকশনই হয়!!
মিহরাব এর বাবা আলী বললেন,,আলী তোমার পরিবার? Ali বললো আমার সিদ্ধান্তই শেষ সিদ্ধান্ত। আর তানু পাশ থেকে বলে উঠলো: স্যার আরেকটা বিষয় হচ্ছে, আপাতত আলীর সাথে অভিভাবক শুধু আমি। বুঝতেই তো পারছেন,,পরিস্থিতি এমন ছিল...
তবে আপনার মেয়ে ঐ বাড়িতে সসম্মানেই প্রবেশ করবে।এবং সসম্মানেই Reception হবে। ভরসা রাখুন।তবে আপাতত শুধু আমাকে নিয়েই নিকাহ টা সম্মানিত ভাবে হোক।
মিহরাব এর বাবা : অবশ্যই,নিকাহ শুরু হোক।
নিকাহ এরপর,বিদায়ের আগ মুহুর্তে :
Tanu : আমি কিছু বলতে চাই সবার উদ্দেশ্যে,
এখানে অনেকেই আমার students সমতুল্য , অনেকেই আমার গুরুজন, in fact আমি আগামীকাল আমার University তে students দেরকেও আজকের এখনকার কথাগুলো বলবো।
ভালোবাসা কোন পাপ নয়।বুকে যদি সাহস থাকে,পদক্ষেপ নিতে পারেন তাহলেই ভালোবাসবেন।অন্যথায় না।ভালোবাসা মানেই সম্মান। কখনো পালিয়ে লুকিয়ে বা অভিভাবক ছাড়া কোর্ট ম্যারেজও করবেন না। বাবা মায়েরা সন্তানের ২টো সময় নিয়েই খুব অপেক্ষায় থাকেন। ১. জন্ম ২.বিয়ে। আপনি আমি যখন ১০মাস ১০দিন গর্ভে থাকি তখন বাবা মা অপেক্ষায় থাকেন কখন সন্তান ভূমিষ্ট হবে আর কখন আনন্দ করবো।তারপর আবার তারা বহু বছর অপেক্ষায় থাকেন কখন সন্তান এর বিয়ে দিবো আর কখন একটু সুখের অশ্রু ঝড়াবো।
তাই, আপনারা বাবা মা কে তাদের খুশি থেকে
বঞ্চিত করবেন না। তাছাড়া বিয়ের সাথে সমাজ, সংসার,বাস্তবতা,সন্তান জড়িত থাকে।ভবিষ্যৎ সন্তান কে কি বলবেন? আপনারা অভিভাবক ছাড়া বিয়ে করেছেন? আপনারা কি সমাজের বাহিরে? পরিবারের বাহিরে? আপনাদের সম্মান নেই?
পরিবার কে জানাবেন,সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবেন বুঝানোর।তারা বুঝলে ভালো। আর না বুঝলে যদি কোর্ট ম্যারেজ করেন,,তাহলে পরিবার কে জানিয়ে দিয়ে করবেন,,আমরা এটা করতে যাচ্ছি। তবে অবশ্যই সাথে গুরুজন রাখবেন। পরিবার না থাকলে কোন আত্নীয়, নয়তো শিক্ষক, বাবা মায়ের পর শিক্ষকের স্থান।
তবে কখনো শুধু বন্ধু, ক্লাসমেট, রুমমেট দের রাখবেন না।এসব কে বলে ফাজলামি।
এবং অন্য রাও ফাজলামি ভাবে বিয়ে করলে
সেই বিয়ে তে থাকবেন না - হোক আপনার যা কেউ।
আবার, কোর্ট ম্যারেজ ছাড়া যদি বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যেতেই হয়,,তাহলে সেটাও ভালো। বাবা মায়ের চোখের সামনে থেকে নয়তো বাবা মায়ের অনুমতি নিয়ে - Ali- র মতো।
আমি এটা বলছি না,সবাই এভাবেই বিবাহ করবেন। শুধু তাদের জন্য বলছি,যাদের ভালোবাসা বাধার কবলে পড়ে। আশা করি আমার শিক্ষার ভুল বুঝবেন না।
মিহরাব এর বাবা কে উদ্দেশ্য করে : স্যার এবার মেয়েকে এবং আমাদের কে বিদায় দিন।
আলীর বাড়ির কাছাকাছি পৌছে:
তানু : Ali আমাকে এখানে নামিয়ে দাও।
Ali : no mam বাড়িতে আসুন।
তানু : না,,বাড়িতে সব খুলে বলো। আমি একেবারে reception এ তোমার বাড়িতে আসবো।মিহরাব কে পরিপূর্ণ যথাযথ মর্যাদা দিয়ে সবসময় রাখবে।এদিক থেকে সেদিক হওয়া চাই না। এবার একটু নিজে নিজে লড়াই করো।এমনিতেই,,, তোমার নিজেরই উচিত ছিলো,,,,যখন Mihrab এর বিয়ের খবর শুনছো,,ঐ মুহুর্তেই চলে যাওয়া ওর কাছে।
আমাকে কেন কাছে যেতে হলো? বলতে হলো তোমায়? একেবারে কানটা ছিড়ে ফেলবো।
আর হ্যা,,,যে যে অভ্যাস,মন্দতার জন্য তোমার মধ্যে দূরত্ব আসে ঐগুলা মেরে ফেলবে আলী।
সম্পর্ক বাচানোর জন্য এবং নিজেদের ভালো থাকার জন্য সবসময় যা করার সেটা করবে।
অন্য কিছু কে প্রশ্রয় দিবে না।
And.... আগ বাড়িয়ে কাউকে কিছু বলতে
হবে না, ঐ ছবি তোলা এসব করতে হবে না।
খাওয়ানোর প্রয়োজননেই। তোমাদের সংসার গড়তে টাকা লাগবে। সবার থেকে শুধু দোয়া নিবে।আর রিসেপশনে যা আপ্যায়ন করার করে দিবে।বাড়তি কিছু দরকার নাই। যেকোন দরকারে আমায় বলবে।
okkkk.....Allah Hafez.
দিনলিপি : বিবাহ
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
38
Views
0
Likes
0
Comments
5.0
Rating