রিকশাওয়ালা

রনি
রনি
লেখক

অডিও মোড

00:00 00:00
গতি:
ভলিউম:
অফিসের কাজ শেষ করে রাকিব বের হলো বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্য। রিকশার জন্য রাস্তার পাশে দাড়িয়ে আছে। পেছন থেকে তাকে কেউ ডাকছে, ঘুরে তাকাতেই দেখে খায়রুল। খায়রুল রাকিবের কলিগ। একই অফিসে চাকরি করে। খায়রুল এসে বললো:

খায়রুল : রাকিব ভাই কি বাসায় যাবেন?
রাকিব : হ্যা। রিকশার জন্য দাড়িয়ে আছি।
খায়রুল : আমিও ওই দিকেই যাবো আজকে। ওখানে একটু কাজ আছে।
রাকিব : ওহ আচ্ছা। আমার সাথে চলেন তাহলে। আমি তো একাই যাচ্ছি।
বলতে বলতে এক রিকশাওয়ালা আসলো।
রাকিব ডেকে বললো:

রাকিব : ভাই আলীর মোড় যাবেন?
রিকশাওয়ালা : জি যাবো।
রাকিব : কত টাকা?
রিকশাওয়ালা : ৭০ টাকা।
রাকিব: ৫০ টাকা দিবো ভাই। এটাই লিগ্যাল ভাড়া
রিকশাওয়ালা : না স্যার। একটু জ্যাম আছে তাই ৭০ টাকাই দিয়েন।
রাকিব: আচ্ছা ৬০ টাকা দিবো।
রিকশাওয়ালা : আচ্ছা উঠেন।

দুজনে রিকশায় উঠে পরলো। আলীর মোড় এসে দুজনে রিকশা থেকে নামলো। খায়রুল ভাড়াটা দিতে চাইলো। কিন্তু রাকিব না করেছে।

রাকিব পকেট থেকে ৮০ টাকা বের করে রিকশাওয়ালাকে দিলো। রিকশাওয়ালা খুব খুশি হলো। খায়রুল দেখে রাকিব কে বললো,
খায়রুল : ২০ টাকা বেশি গেছে তো ওখানে।
রাকিব : ইচ্ছে করেই দিয়েছি।
খায়রুল মনে মনে ভাবলো, রিকশায় ওঠার সময় তো ভাড়া নিয়ে দরাদরি করলো তাহলে এখন আবার বেশি দিচ্ছে কারন টা কি?

ভাবতে ভাবতে জিজ্ঞেস করলো রাকিবকে:

খায়রুল : রিকশায় ওঠার সময় তো ভাড়া নিয়ে দরাদরি করলেন, তাহলে এসে ২০ টাকা বেশি দিলেন কেনো?
রাকিব: আমি ভাড়া নিয়ে আগে দরাদরি করে নেই। যাতে ন্যায্য ভাড়ার থেকে তাকে বেশি দিতে পারি।

মানুষ অনেক কষ্টে থাকলেই রিকশা চালায়। আবার তাদের সাথে কত মানুষ খারাপ ব্যবহার করে। ১০ টাকা ভাড়া বেশি চাইলে কিছু কিছু অমানুষ গায়ে হাত ও তুলে দেয় ।

দেখেছেন নিশ্চয়ই বুকে শত কষ্ট থাকতেও ভাড়া একটু বেশি দেয়াতে সে কত খুশি হয়েছে। আমি যাওয়ার সময় ওই হাসিটা দেখার জন্যই ভাড়ার থেকে একটু বেশি দেই যখনি রিকশায় কোথাও যাই।

রাকিবের কথাগুলো শুনে খাইরুল কিছুক্ষন নীরব হয়ে রইল। মনে মনে ভাবলো , এমনভাবে তো ভেবে দেখিনি কখনো।

****** আজ এ পর্যন্তই ******

✳ মানুষ মানুষের জন্য।
✳ পৃথিবীর সবাই হাসিখুশি থাকুক।
✳ আসুন আমাদের সবার মানবতা , ভালোবাসা শুধু পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রাখি। ছড়িয়ে দেই সবার মাঝে।
443 Views
12 Likes
5 Comments
3.7 Rating
Rate this: