তানভীর জীবনে খুব সহজ সরল ছেলে। ছোটবেলা থেকে শিখেছে, অভিযোগ বুকের ভেতর জমিয়ে রাখা মানে হলো নিজের ভেতরের আলোকে অন্ধকারে ঢেকে ফেলা। কিন্তু ভালোবাসার খেলাটা এতটা সহজ হয় না।
ওর জীবনে এল জান্নাত।
অপরিচিত মুখ, কিন্তু অচেনা নয়। কথায় কথায়, হাসিতে হাসিতে অদ্ভুত এক বন্ধন তৈরি হয়ে গেল দুজনের মধ্যে। জান্নাতের কণ্ঠস্বর, তানভীরের কাছে এক ধরনের আশ্রয় ছিল। যেন দিনের শেষে সব অভিযোগ ভুলিয়ে দেয়ার এক জাদু।
কিন্তু সময় সবসময় মধুর থাকে না।
একসময় ছোটখাটো অভিমান জমতে লাগল। জান্নাত কখনো কখনো ব্যস্ততার অজুহাতে তানভীরকে অবহেলা করতে শুরু করে। তার অবহেলায় অবহেলিত হয়ে তানভীর অনেক কষ্ট পায়।
এভাবে অজান্তেই দুজনের মধ্যে এক অদৃশ্য দেয়াল দাঁড়িয়ে গেল।
হাজারো অপূর্ণতা, অজস্র অভিযোগ জমে রইল সেই দেয়ালের ওপাশে।
এক রাতে জান্নাত মেসেজ করল—
**“অভিযোগ জমিয়ে রাখতে নেই! হয় ক্ষমা করে দিতে হয়, না হয় সরে আসা লাগে! তবে আমি ক্ষমা করবার মতন মহত্ব নিয়ে পৃথিবীতে আসিনি! তাই আমি সরে আসি নিঃশব্দে নিঃশর্তে!”**
**শব্দগুলো তানভীরের বুকের ভেতর তীব্র ঝড় তুলল।
কীভাবে এত সহজে চলে যাওয়া যায়?
কীভাবে সেই মানুষটাকে হারিয়ে ফেলা যায়, যাকে দেখে প্রতিদিন ভবিষ্যতের ছবি আঁকা হয়েছিল!!!!
তানভীর চুপচাপ বসে রইল, কাঁপা আঙুলে ফোনের স্ক্রিনে শুধু তাকিয়ে থাকল। উত্তর লিখতে গিয়েও থেমে গেল। কী লিখবে? “থাকো”? নাকি “যেও”?
সেই রাতে আকাশে অদ্ভুত নিরবতা ছিল। মনে হচ্ছিল, পৃথিবীও বুঝি বিদায়ের সাক্ষী।
**“ভালোবাসা কখনো ধরে রাখার নাম নয়। যে মানুষ থাকতে চায়, সে হাজার অভিযোগের মাঝেও থেকে যায়। আর যে চলে যেতে চায়, তাকে ধরে রাখার মানে কেবল নিজের আত্মাকে কষ্ট দেয়া।”**
তানভীর এই কথা গুলো লিখলে ও সেন্ড করলো না।
সময় গড়িয়ে গেল।
দিন, মাস, ঋতু বদলালো।
কিন্তু তানভীরের ভেতরের শূন্যতা থেকে গেল।
তবে একদিন নিজের ভেতর নতুন আলো খুঁজে পেল সে।
সে বুঝল, জান্নাতের চলে যাওয়া কোনো অভিশাপ নয়। বরং আশীর্বাদ।
কারণ, **ভুল মানুষ জীবনে না এলে সঠিক মানুষকে চেনা যায় না।**
হয়তো কোনোদিন, কোনো এক বিকেলে, সত্যিকার মানুষ এসে তানভীরের জীবনে বসন্তের মতো রঙ ছড়িয়ে দেবে।
তখন আর অভিযোগ জমিয়ে রাখার প্রয়োজন হবে না।
না ক্ষমা চাইতে হবে, না সরে যেতে হবে।
তখন ভালোবাসা নিঃশব্দে, নিঃশর্তে থেকে যাবে…
অভিযোগ জমিয়ে রাখতে নেই
অডিও মোড
00:00
00:00
গতি:
ভলিউম:
34
Views
0
Likes
0
Comments
5.0
Rating